logo

সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭ | ৭ কার্তিক, ১৪২৪

header-ad

যে কারণে চাল সংকট

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সরকার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় দিক থেকেই চাল সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন চাল সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এবছর দেশে ভয়াবহ বন্যার ফলে ব্যাপক ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে বহুগুণ কম চাল উৎপাদন হয় এবং সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে প্রয়োজন মাফিক চাল সংগ্রহে ব্যর্থ হয়। এ সংকট উত্তরণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চাল কেনা জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কয়েক দফা দর কাষাকষি করেও সফল হতে পারেনি সরকার।যা বাজারে চালের সংকটকে আরো অস্থিতিশীল করেছে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। 

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকার ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে সরকার থেকে সরকার’ (জি টু জি) পর্যায়ে চাল আমদানির উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়াই চাল মজুদ নিয়ে সঙ্কটের অন্যতম কারণ। কেননা ভারত একমাত্র রাষ্ট্র যেদেশ থেকে বাংলাদেশ সংকটকালে চালসহ বিভিন্ন খাদ্যসশ্য আমদানি করে থাকে।

অপরদিকে, ভিয়েতনাম থেকে ১০ লাখ টন চাল আমদানির লক্ষ্য থাকলে চুক্তি হয়েছে মাত্র আড়াই লাখ টনের। একই দশামিয়ানমারের ক্ষেত্রেও। সেদেশ থেকে ১০ লাখ টনের বিপরীতে মাত্র ৩ লাখ টনের চাল পাওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

সূত্রে জানা যায়, অভ্যন্তরীণ খাদ্যসশ্য সংগ্রহ অভিযানের প্রাথমিক সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু খাদ্যমন্ত্রীর ঘোষিত সব মিলিয়ে ১৬ লাখ টন ধানচাল ও গম সংগ্রহের  আশ্বাসের ৭৮ শতাংশই অর্জিত হয়নি। ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ ও আমদানির মাধ্যমে ধানচাল ও গম সংগ্রহ করা গেছে মাত্র ৪ লাখ টনের কিছু বেশি।

এদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছেএ বছর হাওরঅঞ্চলে বন্যায় বোরো জমি তলিয়ে যাওয়ায় এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অকাল বৃষ্টিঅতিবৃষ্টিব্লাস্টরোগপাহাড়ি ধস ও সাম্প্রতিক বন্যা প্রভৃতি কারণে চালের বাজার দরে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।

সূত্রে আরো জানা যায়, কম্বোডিয়ার সঙ্গে আড়াই লাখ মেট্টিক টন চাল আমদানির আলোচনা সফল হয়েছে এবং চুক্তি স্বাক্ষরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যা এ সংকটকে কিছুটা কমিয়ে আনতে ভুমিকা রাখবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছেখাদ্যমন্ত্রী চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণভাবে আট লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন কিন্তু ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পেরেছেন মাত্র আড়াই লাখ টন।

তবে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এজন্য দায়ী করেন বন্যা পরিস্থিতিকে। গত ১৬ আগস্ট সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেনএবার ১ কোটি ৯১ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদনের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিলহাওর ও অন্যান্য এলাকার বন্যায় তা অর্জিত হচ্ছে না। সাত লাখ টন ধান ও আট লাখ টন চাল সংগ্রহের যে পরিকল্পনা করেছিলামসেটাও কিনতে পারিনি।

খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) প্রতিবেদনে দেখা গেছেচলতি বছরের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবেই কমছে খাদ্য মজুদ। জুন শেষে সরকারের গুদামে খাদ্যশস্যের মজুদ নেমে আসে মাত্র ৩ লাখ ৭৮ হাজার টনে।

ফেমাসনিউজ২৪/বিবি/আরইউ