logo

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

বদলে গেছে হাজারীবাগ

মো. আখতারুজ্জামান  | আপডেট: ১০ মার্চ ২০১৮

নেই কোনো যানজট। রিকশাগুলো খুব দ্রুতগতিতে যাচ্ছে। নাকে কোনো উৎকট গন্ধ ভেসে আসে না। রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখে মনে হয় কোনো অভিজাত এলাকায় এসেছি। ভাবছেন এটা গুলশান বা বারিধারার মত কোনো জায়গা হবে। কিন্তু না, আমরা পুরান ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার বর্তমান অবস্থার কথা বলছি।

যারা আজ থেকে ৭ থেকে ৮ মাস আগেও হাজারীবাগে এসেছিলেন তাদের কাছে কথাগুলো বিশ্বাস না হওয়ার মতই। কারণ তাদের কাছে পুরান ঢাকার হাজারীবাগ মানেই ভেসে আসা দমবন্ধ করা উৎকট দুর্গন্ধের নাম। কিন্তু আজকের হাজারীবাগে সেই আগের রূপে নেই। নেই ব্যস্ততার কোলাহলও। বরং ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরিত হওয়ার পর আজকের হাজারীবাগ অনেকটাই যেন শুনশান নীরবতা।

এখন যারা হাজারীবাগে যাবেন তাদের কাছে ট্যানারির কারখানাগুলোকে মনে হবে দাঁড়িয়ে থাকা নিঃশব্দ বোকা পাহাড়ের মত। কারণ এসব কারখানা থেকেই এক সময় ভেসে আসতো ড্রামের বিকল শব্দ। ট্যানারি শিল্পনগরী সাভারে চলে যাওয়ায় আজ বদলে গেছে হাজারীবাগের পুরনো দৃশ্যপট।

এখন হাজারীবাগে ট্যানারির কারখানার ভবনগুলো জনমানবহীন পড়ে আছে। আগে রাস্তা-ঘাট, অলিগলি, ঘরবাড়ির কারখানার আশপাশে গরু-মহিষ-ছাগলের শিং ও ট্যানারির বর্জ পড়ে থাকতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে, ফুটপাত দিয়ে চলাচল করাই কষ্ট সাধ্য ছিল। যখন তখন ড্রেনের পানি উপচে পড়তো সড়কে, এখনকার সরু অলিগলিতেও নেই আর উৎকট দুর্গন্ধ আর ময়লা-আবর্জনা। এখন চারিদিকে পরিচ্ছন্নতার ছোঁয়া লেগেছে। সবকিছু পরিপাটি হয়েছে। পুরনো ভবন ভেঙে তৈরি করা হচ্ছে নতুন আঙ্গিকে।

বাংলাদেশ ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সহ-সম্পাদক সিরাজউদ্দিন ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখান থেকে ট্যানারি চলে যাওয়ায় আমাদের অনেক শ্রমিক বেকার হয়েছে। কারণ আমাদের শ্রমিকরা ট্যানারির কাজ ছাড়া তেমন কোনো কাজ পারে না। এতো কিছুর পরেও ভালো লাগে যে, এখন পরিবেশ অনেক ভালো।

তিনি বলেন, কাঁচা চামড়ায় এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হতো কাঁচা চামড়াকে পচন থেকে রক্ষা করার জন্য। পদার্থের ব্যবহারের ফলে চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়াতো। এতে করে পরিবেশ দুষিত হত। এসবের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে হাজারীবাগ।

বদলে যাওয়া পুরান ঢাকার হাজারীবাগের বিষয়ে ৬৫ বছর বয়সী আব্দুস সালাম ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমার আর আগের পরিবেশের কথা ভাবতে মন চায় না। আমরা আগের থেকে অনেক ভালো আছি। আমাদের চারপাশের পরিবেশ অনেক ভালো হয়েছে। কয়েক মাস আগেও আমাদের এলাকায় কোনো ভালো পরিবার বাসা ভাড়া নিতে চাইতো না। ময়লার কারণে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যেত না। জামা-কাপড়ের রং দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যেত। সেই দিন এখন অতীত হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন আমাদের কাছে হাজারীবাগ গুলশান-বনানীর মত লাগে। রাস্তাঘাটে যানবাহনের যানজট নেই। নেই রাস্তায় ট্যানারির বর্জ। এখন খুব সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করা যায়। সব মিলে আমরা এখন ভালোই আছি।

পান ব্যবসায়ী গোলাম আজিজ ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ট্যানারি কারখানা না থাকায় আমাদের ব্যবসায়িক কিছু ক্ষতি হয়েছে। আগে লোকজনের সমাগম বেশি হতো। বেচাকেনা ভালো হত। তবে আমাদের এলাকার পরিবশে ভালো হয়েছে। আগে কেমিক্যাল মেশানো বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে খারাপ লাগতো। বাসার দেয়ালও নষ্ট হতো। অনেক সময় পাইপ ছিদ্র হয়ে তাতে ট্যানারির দূষিত পানি ঢুকে পড়তো। এতে করে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হত। এখন হাজারীবাগ আমার কাছে গুলশান-বনানীর মতই মনে হয়।

তিনি বলেন, কিছু ট্যানারিতে এখনো চামড়ার ফিনিশড পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। তবে কাঁচা চামড়ার গন্ধের উপদ্রব আর নেই।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম