logo

বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯ | ৭ চৈত্র, ১৪২৫

header-ad

চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   | আপডেট: ১১ মার্চ ২০১৮

এখন পর্যন্ত ৭ বার সময় বাড়ানোর পরও সাভারে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) নির্মাণকাজ শেষ করতে না পারায় চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে জিয়াংসু লিংজাই এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন কম্পানি লিমিটেড ও ডেভেলপমেন্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে কাজ শেষ করার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে জানিয়েছে মন্ত্রণালয় সূত্র।

সাভার চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্প বিষয়ে গত জানুয়ারি মাসে এক আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে যে সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলো- আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের কাজ শেষ করতে হবে। এ সময় চীনা ঠিকাদারকে কঠোরভাবে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনে বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস কিংবা চীনা সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।

সাভার চামড়াশিল্প প্রকল্পের পরিচালক (উপসচিব) জিয়াউল হক জানান, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণে ঠিকাদার আরও সময় চেয়েছে। আদালতের নির্দেশে একটি প্রতিবেদনও দাখিল করেছে তারা। সেখানে তারা সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। বাস্তবতা চিন্তা করে তাদেরকে জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতারা জানিয়েছেন, চীনা ঠিকাদার যদি ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে সিইটিপি চালু করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সাভারে যাওয়া চামড়া শিল্পমালিকরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ আগামী কোরমানীর ঈদে কোনভাবেই চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা যাবে না। আর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা না গেলে বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

প্রকল্পটি এক হাজার ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করে বিগত ২০১২ সাল থেকে। তবে এখন পর্যন্ত ৭ বার মেয়াদ বাড়ালেও সিইটিপি নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি যৌথভাবে কাজ করা দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ফলে কারখানার ভেতর থেকে কোনো ধরনের শোধন করা ছাড়াই প্রকাশ্যে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ধলেশ্বরী নদীতে। শিল্পনগরী এলাকায় চামড়ায় ব্যবহার করা লবণ পরিশোধনের ব্যবস্থা না রাখায় লবণাক্ত পানি গিয়ে পড়ছে ধলেশ্বরী নদীতে। লবণাক্ত পানি নদীতে পড়ায় বিভিন্ন জাতের মাছ মরে যাচ্ছে। একদিকে যেমন ক্ষতি হচ্ছে নদীর সম্পদ, অন্যদিকে এলাকার ঘরবাড়ির টিনের ছালা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে লবণাক্ত পানির কারণে।

ফেমাসনিউজ২৪/এসআর/পিআর