logo

রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ | ৭ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

সরকারি খাদ্যগুদাম দেখে অবাক হলেন প্রধানমন্ত্রী

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক | আপডেট: ১০ জুলাই ২০১৮

তেজগাঁওয়ের সরকারি খাদ্যগুদাম দেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবাক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেছেন, তেজগাঁওয়ের খাদ্যগুদাম ময়লা, ভাঙা, পানি পড়ে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে প্রকল্পগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এসব কথা বলেন।

আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘সারাদেশে পুরাতন খাদ্যগুদাম ও অানুষঙ্গিক সুবধাদির মেরামত এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পসহ ৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৯২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ‘সারাদেশে পুরাতন খাদ্যগুদাম ও অানুষঙ্গিক সুবধাদির মেরামত এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, এ প্রকল্পে আমাদের ৩১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা খরচ হবে, যার পুরোটাই সরকারি অর্থায়নে হবে।

তিনি বলেন, আমরা খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ধরে রাখতে হবে। আর এর জন্য আমাদের বিতরণ ও মজুদ করার ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। এর জন্য এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সারাদেশে ৮টি বিভাগের ৬২টি জেলার ১৯৪টি উপজেলা ও ৭টি সিটি কর্পোরেশন প্রকল্প এলাকা।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এখানে ৫৫০টি গুদাম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবধাদির মেরামত করা হবে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, তেজগাঁওয়ের সরকারি খাদ্যগুদামের অবকাকঠামোও উন্নয়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, তেজগাঁওয়ের সরকারি খাদ্যগুদাম দেখে প্রধানমন্ত্রী অবাক হয়েছেন, খাদ্য গুদাম ময়লা, ভাঙা ও পানি পড়ে। আজকের সভায় ৬টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৯২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন করা হবে ২ হাজার ৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় করা হবে ২২৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

অন্য প্রকল্পগুলো হলো বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টান নির্মাণ প্রকল্পে এক হাজার ৩০৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এটি প্রথম সংশোধনীয় প্রকল্প, মাইজদী-রাজগঞ্জ-ছয়ানী-বসুরহাট-চন্দ্রগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়করে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পে ২৫২ কোটি ১৬ লাখ টাকা, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় বাস্তবায়িতব্য খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের জন্য লিংক প্রকল্পে ২১৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, বাংলাদেশের ৩৭টি উপজেলায় সার্কিট হাউজের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পে ৬৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে ৬৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পূর্বাচলে নির্মাণাধীন বাংলাদেশ-চায়না ফেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ শেষ হলেই সেখানে বাণিজ্য মেলা হবে। এ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী দ্রুত শেষ করতে বলেছেন। যদিও প্রকল্পটির মেয়াদ জুলাই ২০১৫ থেকে ডিসেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০১৯ সালেই চীন সরকার এটা নির্মাণ করে দিতে চেয়েছে। সব অবকাঠামো চীনে নির্মিত হবে, শুধু পূর্বাচলে এগুলো ফিটিং করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজ বৈঠকে বলেছেন- যেসব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেসব জেলায় পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় ডিসি অফিসের আওতায় ন্যূনতম একটি করে ২ থেকে ৩ তলাবিশিষ্ট সার্কিট হাউজ রয়েছে, যা বিভিন্ন সরকারি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় সফরে রাত্রিযাপন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভার এখানে আয়োজন করা হয়ে থাকে।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বর্তমান সার্কিট হাউজগুলো অনেক আগে নির্মিত। কিন্তু সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে সংসদ আসন ও সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া দিন দিন দেশে কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে বেশিরভাগ সার্কিট হাউজগুলোতেই স্থান সংকুলান হচ্ছে না।

তিনি বলেন, অনেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রীয় সফরে এসে বিভিন্ন বেসরকারি হোটেলে নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে রাত্রিযাপন করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন সার্কিট হাউজ ভবন নির্মাণ অথবা বিদ্যমান হাউজ ভবনগুলোকে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে “বাংলাদেশের ৩৭টি জেলার সার্কিট হাউজের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ” প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৩৭টি জেলায় সার্কিট হাউজ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর আওতায় বিদ্যমান সার্কিট হাউজগুলোর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সুশাসন ও দক্ষ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ১৭০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, দেশের কৃষি সেক্টরের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৬১ সনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠত হয়, যা প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই কৃষিভিত্তিক দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে বিশ্বস্ততার সাথে দায়-দায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদ ও ৪৩টি বিভাগে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪৩৮০৯ জন গ্র্যাজুয়েট তৈরি হয়েছে, যারা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থায় দেশে ও বিদেশ কর্মরত আছে। এরই মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকগুলো গবেষণা প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে বিভিন্ন শস্যের উন্নত জাত, লাইভ-স্টক, ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজ এবং প্রযুক্তি প্রয়োগের কলাকৌশল উদ্ভাবন করে কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তাই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যেই “বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন” প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষিভিত্তিক মৌলিক ও প্রায়োগিক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একাডেমিক এবং গবেষণাগারের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা; একাডেমিক, প্রশাসনিক, আবাসিক এবং অন্যান্য সুবিধাদি সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন; ল্যাব যন্ত্রপাতিসহ শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার আলোকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম