logo

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

ভেড়ামারা খাদ্য গুদামে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০১৮

ইসমাইল হোসেন বাবু, কুষ্টিয়া থেকে : কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার খাদ্য গুদামে খাওয়ার অযোগ্য নিম্নমানের চাউল সংগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য গুদাম কর্মকর্তা উর্দ্ধতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার নাম করে কেজি প্রতি আদায় করেছেন ৪টাকা করে।

গুদামে রক্ষিত চাউলই শুধু বস্তা পরিবর্তন করে গোডাউনের নতুন খামালে রাখা হয়েছে এমন গুরুত্বর অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে গুদাম কর্মকর্তা শফিকুলের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ১ এবং ৪ নং গোডাউন তল্লাশি করলেই বেরিয়ে আসবে খাওয়ার অযোগ্য নিম্নমানের চাউল সংগ্রহের অনিয়মের চিত্র।

সূত্র জানায়, চলতি আমন চাউল সংগ্রহ অভিযানে ভেড়ামারায় ১৮০ টন চাউল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়। চুক্তিবদ্ধ মিলারদের কাছ থেকে গোডাউন কর্মকর্তা ৩৮ টাকা কেজিতে চাউল ক্রয় করেন। গোডাউনে খাওয়ার উপযোগী মান সম্মত চাউল ক্রয়ের নির্দেশনা থাকলেও এবার তা করা হয়নি। গোডাউন কর্মকর্তা নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য মিলারদের কাছে কেজি প্রতি ৪টাকা করে দাবী করেন। তার চাহিদা পূরন করতেই অতীব নিম্নমানের খাওয়ার অনুপযোগী চাউল সরবরাহ করে মিলাররা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মিলার জানান, আমন সংগ্রহে সরকার চাউলের মূল্য নির্ধারন করেছে ৩৮ টাকা। এটা বেশ ভালো দাম। মানসম্মত খাওয়ার উপযোগী চাউল এই দামে সরবরাহ করলেও আমরা অনেক বেশী লাভবান হতে পারতাম। কিন্তু বাধ সাধে গোডাউন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। খুলনা বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তা, কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য কর্মকর্তা এবং অনান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার জন্য তিনি দাবী করে বসেন কেজি প্রতি ৪টাকা করে। টাকা না দিলে ভালো চাউলও ক্রয় করা হবে না। টাকা দিলে চাউল’র শুধু ওজন দেখা হবে। মান দেখা হবে না। এরপরই নিম্নমানের খাওয়ার অনুপযোগী চাউল গোডাউনে বিক্রয় করা হয়।

খাদ্য গুদামের দূর্নীতিবাজ ওসিএলএসডি শফিকুল ইসলামের অনিয়ম ও সীমাহীন দূর্নীতির কথা বলতে গিয়ে একজন চাউল ব্যবসায়ী জানান, টিআর, জি আর, কাবিখার যে সব চাউল গোডাউন থেকে উত্তোলন করার কথা ছিল, সেই সব চাউল ব্যবসায়ীরা উত্তোলন না করে, ওই চাউল আবার মিলারদের কাছে বিক্রি করে দেয়। সে চাউল গোডাউনের ভিতরেই শুধু বস্তা পরিবর্তন করে গোডাউনের আমন সংগ্রহ অভিযানের নতুন খামালে রাখা হয়। যার সত্যতা মিলবে ১ এবং ৪ নং গোডাউন তল্লাশি করলেই।

কোন চাউল গোডাউনের পুরানো এবং নতুন তা দেখলেই বোঝা যাবে। বেরিয়ে আসবে খাওয়ার অযোগ্য নিম্নমানের চাউল সংগ্রহের অনিয়মের চিত্র।

ভুক্তভোগীরা বলেছেন, এ বছর আমন সংগ্রহ অভিযানেই খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সরকারী নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কেজি প্রতি ৪টাকা করে আদায় করে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। বিনিময়ে খাদ্য গুদামে ক্রয় করেছেন অত্যান্ত নিম্নমানের খাওয়ার অনুপযোগী চাউল। যা দেখার কেউ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভেড়ামারাবাসী।

এ বিষয়ে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আরসি ফুড, ডিসি ফুডসহ অনান্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার জন্য ৪টাকা করে নয় ৩ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এ টাকা দিয়েই উর্দ্ধতন স্যারদের ম্যানেজ করা হয়েছে। খাদ্য বিভাগে নিয়ম এখন নিয়মে পরিনীত।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তানভীর ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোন বিষয়ে তার জানা নেই। যদি কেউ এ ধরনের অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করে তবে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে খাদ্য গোডাউনে নিম্মমানের চাউল যাতে না নেওয়া হয় তার জন্য বার বার নিষেধ করার পরও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার গুদাম কর্মকর্তা শফিকুলের বিরুদ্ধে নিম্মমানের চাউল ক্রয়ের অভিযোগ করেছে ভুক্তভুগিরা। এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/কেআর/এস