logo

বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

গরু আছে, ছাগল নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০১৮

পবিত্র ঈদুল আযহা আর মাত্র পাঁচ দিন পরেই। এ ঈদকে ঘিরে রাজধানীর কুরবানির পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। দেশর বিভিন্ন এলাকা থেকে পশুর হাটগুলোতে গুরু আসতে শুরু। তবে হাটে গরু আসলে কোন ছাগল দেখা যাচ্ছে না। এখনো তেমন বেচা-বিক্রি সেভাবে শুরু হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে- শুক্রবার থেকে পুরোদমে বেচা-বিক্রি হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত হাটে দিয়ে দেখা যায়, গরু বোঝাই ট্রাক থেকে গুরু নামাতে ব্যস্থ ব্যবসায়ীরা। খড় ব্যবসায়ীরা তাদের খড় বোঝাই ট্রাক নিয়ে আসতেছেন। গরুর গলায় পড়ানো নানা রঙের ফুল নিয়ে বসে আছেন ফেরু ওলারা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূতে জানা যায়- গতবছর সারাদেশে প্রায় এক কোটি চার লাখের বেশি পশু কুরবানি হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে- এবার এ সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। গতবার শুধু রাজধানীতেই ১০ থেকে ১২ লাখ গরু-ছাগল বেচা-বিক্রি হয়েছিল। এবার এ সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়েছে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাটের প্র্রস্তুতি নিয় কথা হয় স্বপন মিয়াঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা হাটের পুরো এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ফেলেছি। হাটে গরু আসতে শুরু করেছে। গত বারের মতন এবারও আমরা ব্যবসায়ীদের উৎসবমুখর পরিবেশে পশু বেচা-বিক্রি করার সুযোগ করে দিব। পশু বিক্রির পর তারা টাকা পয়সা নিয়ে যাতে নিরাপদে হাট থেকে বের হতে পারে আমরা সেদিকেও নজর রাখব।

সিরাজগঞ্জ থেকে আগত পাইকার রুস্তম বলেন, মিছা কথা কইতাম না। এই হাটে গরু বেইচা গেছে বারও আরাম পাইছি। আর এর জন্যই আমি আমার ১৬টা গরুসহ মোট ৬০টা গরু আনছি।

যাত্রা পথের বিড়ম্বনা নিয়ে জানতে চাইলে এ পাইকার আরও বলেন, রাস্তায় জ্যাম ছিল, এছাড়া তেমন কোনও সমস্যা হয় নাই। তবে ট্রাকের একটা সমিতি আছে, তাগরে ৫০০ টাকা দেওন লাগছে।

রাজধানীর খিলক্ষেত বনরূপা এলাকার হাটে গেলে দেখা যায়, বিশাল এলাকা নিয়ে বসেছে সেখানকার হাট। কর্মকর্তাদের দাবি, এই হাটটি এবার এখানে টানা ১৪ বারের মতন বসেছে।

এ বিষয়ে হাট কর্মকর্তা মুস্তাক আলী বলেন, হাটটি মূলত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ভাতিজা নাইম সাহেব ইজারা নিয়েছেন। আমরা এই হাটটি টানা ১৪ বারের মতন বসিয়েছি। তবে গত বছর বন্যার কারণে এই হাটটি অন্য স্থানে বসানো হয়েছিল।

পাবনা থেকে আগত জুম্মন ব্যাপারী বলেন, আমি মোট ১৩টা গরু নিয়া এই বাজারে আসছি। আমি আমার সবচেয়ে বড় গরুর দাম চাইতাছি সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। আশা করতাছি ভালো একটা দামে এই গরুটা বেচতে পারমু।

এ দিকে নাটোর থেকে আগত পাইকার আলাউদ্দিন বলছেন, হাটের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। দুইদিন হইলো এখানে আসছি। যখনই পশুর ডাক্তারকে দরকার হয়, তখনই তাকে পাওয়া যায়। হাসিল ঘরের লোকজনও সারাক্ষণ ঘোরাঘুরি করে। কোনও সমস্যা হইলে তারাই দেখেন।

অন্যদিকে রাজধানীর ভাঁটারা হাটে দেখা যায়- আসতে শুরু করেছে গরুর ট্রাক। প্রস্তুত চিকিৎসকসহ হাট কর্তৃপক্ষ। এখন শুধু ক্রেতার অপেক্ষা। বড় বড় সব গরু আসতে শুরু করেছে এ হাটে।

হাটের পশু চিকিৎসক ড. আনোয়ার মিয়াঁ বলেন, হাটের শুরু থেকেই আমি এখানে আছি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টিরও বেশি পশুর চিকিৎসা করেছি। সেগুলোর মধ্যে জ্বর, ব্যথা, ডায়েরিয়া, খুড়াসহ বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা করেছি।

গাবতীলতে গরু কিনতে আসা আবুল হাসান নামের এক ব্যক্তি বলেন, এসেছিলাম গরুর দরদাম যাচাই করতে। কিন্তু হাটে এসে একটা গরু পছন্দ হয়ে গেল, আর দামের দিকে থেকেও বাজেটের মধ্যেই, তাই গরুটি কিনে ফেললাম। যদিও এত আগে কেনার ফলে কয়েক দিন গরুটা পালতে হবে। তবে সেটা আমার সন্তানরা বেশ আনন্দের সঙ্গেই করবে।

হালিম নামের ওই হাটের এক ছাগল বিক্রেতা জানান, ১০টি ছাগল নিয়ে এসেছিলেন দুই দিন আগে। তার মধ্যে আর মাত্র তিনটা আছে। আর বাকিগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। এই তিনটি ছাগল বিক্রি হয়ে গেলে আবারও তিনি কুষ্টিয়া থেকে ঈদের হাটের ছাগল আনবেন বলে জানান।

মানিক মিয়া নামের এক গরু বিক্রেতা জানান, তিনি ৪টি গরু নিয়ে আজ সকালেই হাটে এসেছেন। দুপুরে তার একটা গরু বিক্রিও হয়েছে। তাই বাকি তিনটা গরু দুই-তিন দিনের মধ্যে যদি বিক্রি হয়ে যায় তাহলে আবারও গ্রামের হাট থেকে গরু নিয়ে আসতে পারবেন বলে জানান তিনি।

রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনের পাশের হাট পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় প্রায় একই দৃশ্য। সেখানেও এসেছে বিভিন্ন ধরনের গরু। তবে এখানেও নেই ক্রেতা। ক্রেতাশূন্য এ হাটে অচিরেই বেচা-বিক্রি শুরু হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন হাট কর্তৃপক্ষ।

১৯টি গরু নিয়ে রাজশাহী থেকে আগত ব্যাপারী সফুর উদ্দিন বলেন, আইজ তিনদিন হইলো আমরা এই হাটে আইছি। গরু দেখতে দুয়েকজন লোক আইলেও এখনো কেউ দাম কয় নাই। তবে আইজ রাইত থিকা মানুষ বাড়বো বইলা আমার মনে হয়।