logo

শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

‘নতুনদের শর্ত ছাড়াই অর্থায়ন করা উচিত’

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আমাদের দেশে অনেক সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে যা আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার থেকে এগিয়ে। সেই দিনের কথা ভাবলে অবাক লাগে যে, আমরাই অতি উচ্চদামে বিদেশ থেকে সফটওয়্যার আমদানি করতাম। দেশের সফটওয়্যার ব্যবসার অতীত এবং বর্তমান অস্থা নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা রফিকুল ইসলাম। কথা হয় ফেমাসনিউজের প্রতিবেদক মো. আখতারুজ্জামানের সাথে।

ফেমাসনিউজ : আমাদের দেশে সফটওয়ার মার্কেটের অবস্থাটা কেমন?

মোস্তফা রফিকুল : আমার ব্যবসায়ী জীবনে শুরুর দিকের কথা যদি বলি, সেক্ষেত্রে আমাকে হতাশা দিয়েই শুরু কতে হবে। কারণ আমার কোম্পানি ২০০৮ সাল পর্যন্ত লোকসানে ছিল। কোনোভাবেই এখান থেকে কোম্পানিকে উঠাতে পারছিলাম না। প্রতি মাসের শেষের দিকে এসে আমাকে ভাবতে হতো, কীভাবে আমার কোম্পানিতে কর্মচারীদের বেতন দেব? প্রতিটি মুহূর্তেই আমার কাছে টাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা দিচ্ছিল। কারণ আমি বুঝেছিলাম আমার যদি এখন অনেক টাকা থাকতো তাহলে অনেক কিছুই করতে পারতাম। তখন আমার বুঝতে বাকি রইল না যে, কেউ কোনো কিছু শুরু করতে চাইলে তাকে যেমন পরামর্শ দেয়ার লোকের প্রয়োজন হয়, ঠিক তেমনি অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করারও লোকের দরকার হয়।

‘আর এ সাপোর্টটি নতুনদের জন্য খুবই প্রয়োজন। এটা তার কাছে জীবন-মরণের মত। এ সময়ে তাকে কেউ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতে চায় না। কারণ সবার চোখে সে হয়ে যায় পথভ্রষ্ট। তাকে টাকা দিলে পাওয়া নাও যেতে পারে। সবার মাঝে এমনি একটা ভাবনা কাজ করে। আর যখন কোনো নতুন ব্যবসায়ী টাকার সমস্যার জন্য ব্যাংক বা অর্থিক কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে যায় তখন তারা এমন সব নিয়মের কথা বলে যা পালন করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। আমি মনে করি, নতুন ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে এ নিয়মটা তুলে দেয়া প্রয়োজন। তাদের কোনো শর্ত ছাড়াই অর্থায়ন করা উচিত।

ফেমাসনিউজ : সফটওয়্যার ব্যবসায় বড় চ্যালেঞ্জগুলো কি?

মোস্তফা রফিকুল : আমরা আমাদের মেধাগুলোকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পাচ্ছি না। তাদের ভালো প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসতে পারছি না। যাদেরকে নিয়ে আসছি তাদের সংখ্যা একেবারে কম। আমি মনে করি, আমাদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির স্কিল ডেভেলপ (দক্ষতা বৃদ্ধি) করা। এরপর যে বড় চ্যালেঞ্জ তা হলো অর্থায়ন। যারা অর্থায়ন সমস্যাকে মাথায় নিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাকে সরকারি বা বেসরকারিভাবে ঋণ প্রদানে সহযোগিতা করা। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, একজন উদ্যোক্তা মানেই কয়েকটা পরিবারের রুটি-রুজির যোগান দাতা। সুতারং একজনকে সহযোগিতা মানেই কয়েকটা পরিবাকে সহযোগিতা করা।

‘আমি যদি সফটওয়্যার খাতের সমস্যাগুলোর কথা এভাবেই বলি তাহলে ভালো হয়। তা হলো ১ম. দক্ষ লোকবল, ২য়. অর্থায়ন এবং ৩য়. শেষেরটা লোকাল ইন্ডাস্ট্রিকে প্রোটেক্ট করা আর সবশেষে পলিসিগত সমস্যা। তবে আশার দিক হচ্ছে, আমাদের দেশে অনেক ভালো মানের সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে, যা বিশ্বের অনেক ভালো মানের কোম্পানির সফটওয়্যার থেকে এগিয়ে।

ফেমাসনিউজ : আমরা এখন কি পরিমাণ সফটওয়্যার রপ্তানি করছি?

মোস্তফা রফিকুল : একটা সময় ছিল যখন আমরা বিদেশ থেকে অনেক অর্থ খরচ করে সফটওয়্যার আমদানি করতাম। আজ সেই দিন বা সময় নেই। এখন আমরাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বিদেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করছি। বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা সফটওয়্যার রপ্তানি করে আসছি। আমরা আশা করছি, এ বছর শেষে সফটওয়্যার রপ্তানিবাবদ আয় এক বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলার হবে। আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি কাজ অটোমেশন করছে। আমরা বিশ্বের নানা দেশে নতুন নতুন মার্কেট খুঁজে বের করে কাজ করছি। এখন বাংলাদেশের ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের অফিস খুলেছে। তবে এতো কিছুর পরেও খারাপ লাগার কথা হচ্ছে, আমাদের দেশে ভালো মানের সফটওয়্যার রেখে অনেকেই দেশের বা্ইরের সফটওয়্যার নিয়ে আসছে। এতে আমাদের দেশীয় সফটওয়্যারগুলো ব্যবসায়িকভাবে সমস্যায় পড়ছে।

ফেমাসনিউজ : দেশের সফটওয়্যারের বাজার বিষয়ে একটু বলুন?

মোস্তফা রফিকুল : দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে গত ৯ বছরে সফটওয়্যারের মার্কেট বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৭ দশমিক ২১ শতাংশ। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সফটওয়্যারে আয় করেছে আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম