logo

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

‘ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সহজীকরণ করতে হবে’

মো. আখতারুজ্জামান | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মোবাইল ব্যাংকিং প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় প্রতিনিয়ত এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এর আওতায় এখন ৬ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ, যার বেশি ভাগই প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের বাইরে। কয়েক বছরের ব্যবধানেই এ বিশাল সংখ্যক লোক এ ব্যাংকিয়ের আওতার মধ্যে আসার কারণ হচ্ছে সহজীকরণ। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রচলিত ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সহজীকরণ করা গেলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ন্যায় এখানেও গ্রাহক সংখ্যা বাড়বে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সাথে রিকশাওয়ালা, কৃষকসহ সব শ্রেণির মানুষ রয়েছেন, যারা ব্যাংকে যেতে ভয় পান তাদেরই একটা অংশ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করে থাকেন। প্রচতিল ব্যাংকিংয়ের বাইরে এসে মানুষকে সেবা দিচ্ছে বিধায় প্রতিনয়িত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সাথে যুক্ত হচ্ছে হাজারো মানুষ।

তারা এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর থেকে নিজের গ্রামের পরিবার-পরিজনের কাছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পাঠাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে যেখানে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠাতে সময় লাগতো কয়েকদিন বা কখন কখন সপ্তাহ পেরিয়ে যেত কিন্তু আপনজনরা টাকা পেতেন না। মোইবাইল ব্যাংকিং এসে সেটা এখন ইতিহাস হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ ফেমাসনিউজকে বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং সাধারণ প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত ম্যাসেজ দিয়ে যাচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকি সেবা যেভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে তাতে করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা হওয়ার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে এখানে খুব সহজেই গ্রাহকরা তার টাকা তুলতে পারে এবং পাঠাতে পারে, যা প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নেই। ব্যাংকে একজন গ্রাহক কারো কাছে টাকা পাঠাতে চাইলে ব্যাংকের শাখায় যেতে হয় অনেক সময় ব্যয় করে এবং কিছু নিয়ম পালন করে তবেই টাকা পাঠাতে হয়।

'টাকা উঠানোর ক্ষেত্রে আরো বেশি নিয়ম পালন করতে হয়, যা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে নেই। শুধু একটা মোবাইল নম্বর হলেই হয়। আর যে টাকা উঠাবে তাকে কোন নম্বর থেকে টাকা পাঠানো হয়েছে তার নম্বরটা বলতে পারলেই গ্রাহককে টাকা দিয়ে দেয়া হয়। এটাই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তার কারণ।

এ বিষয়ে ফেমাসনিউজের প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। বরং এতে করে ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটা সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। তারা তাদের সার্ভিসগুলো আরো ভালো দেয়ার চেষ্টা করবে। সেই সাথে মোবাইল ব্যাংকিংগুলো যেমন কম সময়ের মধ্যে সার্ভিস দিয়ে থাকে। তাও চেষ্টা করবে যাতে কম সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের সার্ভিস দেয়া যায়।

তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংটা হচ্ছে ব্যাংকিং পদ্ধতিতে প্রথম ধাপ। তার মানে এখান থেকে প্রতিনিয়ত লোকজন মূল ব্যাংকি ধারায় প্রবেশ করছে। এতে কিছুটা হলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এর মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বর্তমান গ্রাহক প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৬ লাখ সক্রিয়ভাবে লেনদেনে করে। এসব গ্রাহক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৯৯৪ কোটি টাকা লেনদেন করে থাকেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত জুলাইয়ে কমেছে মোট লেনদেন ও দৈনিক গড় লেনদেন। চলতি বছরের জুনে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল এক হাজার ১০৭ কোটি টাকা। জুলাইয়ে এসে দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৯৯৩ কোটি টাকায়।

জানা যায়, গত জুলাই মাসে সক্রিয় হিসাব বেড়েছে ১২ দশমিক চার শতাংশ, রেজিস্টার্ড গ্রাহক বেড়েছে তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং এজেন্ট বেড়েছে এক দশমিক তিন শতাংশ। তবে কমেছে লেনদেন। জুনে মোট লেনদেন ছিল ৩৩ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৮০০ কোটি টাকায়।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম