logo

বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ, ১৪২৫

header-ad

বাংলাদেশে অন্তর্বাসের সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০১৮

অন্তর্বাস পণ্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনা রয়েছে। পণ্যটির সারাবিশ্বে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সারাবিশ্বে অন্তর্বাস বাজারের আকার ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশে এখন ৩০টির বেশি কারখানায় অন্তর্বাস উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অন্যান্য পোশাকের মত অন্তর্বাস তৈরিতে বাংলাদেশের খ্যাতি এখন বিশ্ব জুড়ে। এটি মেয়েদের অতি ছোট পোশাক হলেও চাহিদার বিষয়টি বলছে অন্য কথা। এমন এক তথ্য দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিয়ন মার্কেট। তাদের তথ্য মতে, গত বছর অন্তর্বাসের বিশ্ববাজার ছিল প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের। আসছে ২০২৪ সালে এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে।

তাইতো বাংলাদেশে এখন অন্তর্বাস তৈরির ক্ষেত্রে ঝুকছে কারখানাগুলো। এর মধ্যে এ পণ্যটি উৎপাদনে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি নতুন কারখানা যুক্ত হয়েছে। ফলে পোশাক রপ্তানির সাথে পাল্লা দিয়ে ধীরে ধীরে বড় জায়গা করে নিয়েছে অন্তর্বাস।

এখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বে অন্তর্বাসের বড় বাজার রয়েছে। সেই বাজারের বড় একটি অংশ দখলে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে বাংলাদেশের। কারণ, বিশ্বের বড় ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের পোশাক উৎপাদন করিয়ে নেয়। তারাই আবার অন্য দেশ থেকে অন্তর্বাস কেনে। ফলে বাংলাদেশ যদি এ খাতে বিনিয়োগ করে, তাহলে ক্রেতা পাওয়া কঠিন নয়।

অন্তর্বাস উৎপাদনে কারখানায় কিছু বিশেষ ধরনের সেলাই মেশিন ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। সেসব দিয়েই আবার ছেলেদের অন্তর্বাস উৎপাদনও সম্ভব বলে জানান সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।

তবে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩ হাজার ১৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে ১১৫ কোটি ডলারের মেয়েদের অন্তর্বাস রপ্তানি হয়েছে, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছর মেয়েদের অন্তর্বাস রপ্তানি হয়েছিল ১০৭ কোটি ডলারের।

জানা যায়, নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে সুইডিশ কোম্পানি হোপ লুন বিডি ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) অন্তর্বাস উৎপাদনের কারখানা করে। পরে ১৯৯৯ সালে এ ব্যবসায়ে আসে অ্যাপেক্স লনজারি। বর্তমানে প্রায় ৩০টি কারখানা উৎপাদনে আছে, যার অধিকাংশই হয়েছে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে।

এ বিষয়ে বিকেএমই-এর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতে অন্তর্বাস বড় সম্ভাবনাময়। কারণ নারী ও পুরুষ উভয়কেই পণ্যটি ব্যবহার করতে হয়। পোশাকটি ছোট হলেও পরিমাণে অনেক বেশি লাগে। তাই এ ব্যবসার পরিধিও অনেক বেশি।

ফজলুল হক বলেন, তবে অন্তর্বাস উৎপাদন কারখানায় পোশাক কারখানার তুলু নায় বেশি মূলধনের প্রয়োজন হয়। কারণ, সেখানে বিশেষ ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যেগুলোর দাম বেশি। তাই এখাতে তেমন একটা বিনিয়গ আসছে না। বিশ্বব্যাপী অন্তর্বাসের বড় বাজারের কথা চিন্তা করে আমাদের এ খাত নিয়ে ভাবা উচিৎ। যাতে করে এ সম্ভাবনাময় খাত ভালো উদ্যোক্তারা আসেন। দেশে অন্তর্বাসের কারখানা যত বাড়বে, বিদেশি ক্রেতাদের আস্থাও বাড়বে মনে মনে করেন তিনি।