logo

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৯ ফাল্গুন, ১৪২৪

header-ad

জবি‌তে ছাত্রলীগের দু’পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষ

এফ. অার. বিপুল, জ‌বি | আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একদিন আগেই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ‌তে একজ‌নের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দি‌কে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের জুনিয়র কর্মীরা সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মী জবি মার্কেটিং বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহানকে কুপিয়ে জখম করে। পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এদিকে সোহানকে কোপানের জের ধরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সকাল ১০টার দিকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগ। এ সময় সমাজকর্ম বিভাগের ১২তম ব্যাচের ছাত্র স্বপন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম দফা সংঘর্ষে সভাপতি গ্রুপের কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে শহীদ মিনারের পাশে অবস্থান নেয় সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা।

পরে ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই সভাপতি ক্যাম্পাসের মূল ফটক দিয়ে সদলবলে প্রবেশ করেন। পুলিশ বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের উপস্থিতিতেই সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীদের ধাওয়া দেন সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা। এ সময় ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে বিচ্ছিন্নভাবে সভাপতির উপস্থিতিতেই তার কর্মীরা বিজ্ঞান অনুষদ এবং কলা অনুষদে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গণপিটুনী দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বিক্ষিপ্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল। পরে তিনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের সামনে ছাত্রলীগ সভাপতি তরিকুল ইসলামকে শাসাতে থাকেন।

এ সময় পুলিশের কোতয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার বদরুল লালবাগ ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খানের নির্দেশ ওয়াকিটকির মাধ্যমে সবাইকে শুনান। ডিসি বলেন, মঙ্গলবার দুই গ্রুপ ক্যাম্পাসে কিছু ঘটবে না মর্মে কথা দিয়ে গেলেও, সকালে মানুষ ঘুম থেকে উঠার আগেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত শান্ত হয়ে না গেলে বা ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিস্থিতি না ফেরালে, সভাপতি সাধারণ সম্পাদককেও ছাড় দেয়া হবে না। কিছু পরেই পরিস্থিতি শান্ত হয়। যদিও ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোনে পাওয়া যায়নি।

জবি প্রক্টর ড. নুর মোহাম্মদ ফেমাসনিউজকে বলেন, ক্যম্পাসে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে, তবে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি, আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ