logo

সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ | ৭ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

মাধ্যমিকে দু’বার ফেল করা ছাত্র বিসিএসে প্রথম

শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৮

মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন তাইমুর শাহরিয়ার। কিন্তু ৩৩তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন তিনি। এসএসসিতে দু’বার ফেল করেও হাল ছাড়েননি তিনি। অবশেষে স্বপ্নের লক্ষে পৌঁছেন অদম্য শাহরিয়ার।

পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছেন তাইমুর। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বরাবরই ছিলেন প্রথম। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষায় রসায়ন বিষয়ে অকৃতকার্য হন। ২০০১ সালে অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল শুনে ঘাবড়ে না গিয়ে চেষ্টায় অনড় থাকেন তিনি। তখনকার অনুভূতিটা বলে বোঝানো যাবে না বলে জানান শাহরিয়ার।

সবার সান্ত্বনা নিয়ে পরবর্তী বছর আবার পরীক্ষা দেন শাহরিয়ার। কিন্তু প্রথম বছরের মতো দ্বিতীয়বারও রসায়নে ফেল করেন। জীবনের এমন হতাশার মুহূর্তে শাহরিয়ার বাবা মো. মোতালেব হাওলাদার নান্নুর কয়েকটি কথাকে পুঁজি করে অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

তাইমুরের বাবা বলেছিলেন, জ্বলার মতো আগুন থাকলে, একদিন তা জ্বলে উঠবেই। অবশেষে ২০০৩ সালে বরগুনার আমতলী এম ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৩.৭৫ পেয়ে পাস করলেন শাহরিয়ার।

এরপর আমতলী ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০৫ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৮০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তবে এতো কিছুর পরও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। অবশেষে ২০০৯ সালে অনার্স এবং ২০১০ সালে মাস্টার্স শেষ করেন।

এরপর থেকে পুরোদমে চলতে থাকে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি। ৩১তম বিসিএসে অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় টিকলেও পরবর্তী ধাপ অতিক্রম করতে পারেননি তিনি। ৩২তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ হয়নি তার। অবশেষে ৩৩তম বিসিএসে অংশ নিয়ে তুমুল আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজেকে উপস্থাপন করেন।

পছন্দ তালিকার প্রথমে পুলিশ ক্যাডার এবং দ্বিতীয়টি প্রশাসন ক্যাডারে থাকলেও শাহরিয়ারের ভাগ্যে ছিল শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়ার গৌরবময় স্থান। অবশেষে তিনি শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হয়ে সবাইকে তাক লাগালেন।

শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়ার পর শাহরিয়ারের প্রথম কর্মস্থল ছিল বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজ। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে আড়াই বছর চাকরি শেষে গত বছরের ১ মার্চ ঢাকার সরকারি কবি নজরুল কলেজে চলে আসেন।

শাহরিয়ার বলেন, সাময়িকের জন্য আমি হয়তো মচকে গিয়েছিলাম কিন্তু ভেঙে যায়নি। বাকিটা আত্মবিশ্বাস আর সাধনার ফল।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম