logo

বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

স্কুলছুট ছাত্রীদের এমন বাহনই দরকার

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পে সাইকেল বিলি প্রকল্পের সুফল হাতেনাতে মিলতে শুরু করল। দু’দফায় ৪০ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর হাতে বিনামূল্যে সাইকেল তুলে দেওয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর। সেই সমীক্ষায় উঠে এসেছে সবুজ সাথী প্রকল্প চালু হওয়ার পর রাজ্যের পড়ুয়াদের সার্বিক স্কুলছুটের প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।

রাজ্যের বেশিরভাগ গ্রামেই স্কুল নেই। অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ কিলোমিটার কিংবা তার বেশি পথ পেরিয়ে পড়ুয়াদের রোজ স্কুলে যেতে হয়। এই সমস্যার জেরে অনেক বাবা-মা নিজেদের ছেলেমেয়েদের পড়াশুনোয় ইচ্ছাকৃতভাবেই ছেদ ঘটান। একসময় তিন কিলোমিটার দূরে স্কুল থাকলেও লেখাপড়ায় ছেদ ঘটত। এখন পাঁচ কিলোমিটার দূরে ভালো স্কুল থাকলেও সাইকেলের দৌলতে সেখানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, ২০১৫ সালে সবুজ সাথীর সাইকেল বিলির পর প্রান্তিক এলাকায় স্কুলছুটের সংখ্যা অনেকটাই কমছে। যা রাজ্যের শিক্ষিতের হার বৃদ্ধি করতে, পিছিয়ে পড়া জনজাতির ছেলেমেয়েদের সমাজের মূল স্রোতে ফেরাতে অনুঘটকের কাজ করছে। সার্বিকভাবে যা পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধির পথকে আরও সুগম করবে বলে মনে করছে সরকারি মহল।

সমীক্ষায় উঠে এসেছে– রাজ্যে মোট ৪০ হাজার ২১৮টি গ্রাম রয়েছে। গ্রামের মধ্যে অবস্থিত মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্কুলের সংখ্যা হল যথাক্রমে ৯ হাজার ২৪২টি এবং ৬ হাজার ৫০০টি। অর্থাৎ মাত্র ১৬ শতাংশ গ্রামে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। যেখানে গ্রামের বাইরে পাঁচ কিলোমিটার এবং তার চেয়ে দূরে অবস্থিত মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা হল যথাক্রমে ৬ হাজার ৪টি এবং ১১ হাজার ৫৭০টি। বাকিগুলি তার চেয়েও আরও দূরে অবস্থিত।

সরকারি কর্তাদের দাবি, জেলায় জেলায় ঘুরে তারা যে তথ্য সংগ্রহ করেছেন, তাতে ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ সহ পিছিয়ে পড়া জেলাগুলিতে বিগত বছরের থেকে স্কুলছুটের সংখ্যা মারাত্মক কমেছে। শুধু তাই নয়, ধর্ম, বর্ণ, জাতি ভেদে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সরকারি এবং সরকার পোষিত স্কুলে সাইকেল পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সবুজ সাথী প্রকল্পকে সফল করতে বাড়তি সাহায্য করেছে বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কেননা, দেশের অন্যান্য রাজ্যে এ ধরনের স্কিম থাকলেও সেক্ষেত্রে পরিবারের বার্ষিক আয়, পড়ুয়াদের সুনির্দিষ্ট যোগ্যতামান সহ একাধিক শর্ত আরোপ করা থাকে। সবুজ সাথী সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি থেকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হওয়ায় সমাজের নিচুতলা পর্যন্ত এর সুফল মিলছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কেবল ইতিবাচক তথ্যই নয়, সবুজ সাথী প্রকল্পের বেশকিছু সমস্যার দিকও উঠে এসেছে এই সমীক্ষায়। সেখানে বলা হয়েছে, পড়ুয়ারা সাইকেল হাতে পাওয়ার পর তা ফিটিং করতে যে বাড়তি খরচ হয়, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সাইকেলগুলি অবশ্যই প্রত্যেক স্কুলে পৌঁছে দিতে হবে। বিশেষভাবে অক্ষম ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাইকেলের বিকল্প কোনো যান বিলি চালু করতে হবে। এই সবুজ সাথী প্রকল্পের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে সরকারি কর্মী-আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে। যাতে উপভোক্তাদের কাছে সরকারি এই পরিষেবা নিশ্চিতভাবে পৌঁছায়। এক্ষেত্রে বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে মানবসম্পদের ঘাটতি মেটাতে হবে।

ফেমাসনিউজ২৪/আরএ/আরইউ