logo

শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ | ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫

header-ad

তাহলে কি বই খুলেই পরীক্ষা দেবেন পরীক্ষার্থীরা?

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সারা বছর সততার সঙ্গে এক পরীক্ষার্থী পরীক্ষার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছেন, সে নাক-মুখ গুঁজে লেখাপড়া করেছে, কিন্তু পরীক্ষার দিন জানতে পারছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তারই কোনও সহপাঠী ‘ভালো’ পরীক্ষা দিয়েছে। জানতে পারছে, তার সেই সহপাঠীরই হয়তো অভিভাবক, হয়তো শিক্ষক, হয়তো কোনও নিকটজন এর ব্যবস্থা করেছেন। পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে, কিন্তু গত কয়েক বছরে তা বিস্ময় আর সীমাও অতিক্রম করেছে।

এদিকে বর্তমান পদ্ধতিতে নেয়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন মা্ধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। তাই আগামীতে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র না ছাপিয়ে বই খুলে পরীক্ষা নেয়ার কথা বলেন তিনি। সোমবার রাজধানীতে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সামনে ছাপানো কোনো প্রশ্ন নেই, বরং পরীক্ষার হলে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া প্রশ্নে শিক্ষার্থীরা বই খুলেই উত্তর লিখতে পারছে! এমন অপরিচিত পরীক্ষা পদ্ধতি অনেকের কাছে অদ্ভুত শোনালেও আগামীতে এভাবে পরীক্ষা নেয়া যায় কি না, সেটাই এখন চিন্তা করতে হচ্ছে বলে জানান শিক্ষাসচিব।

সোহরাব হোসাইন বলেন, ভিন্ন পদ্ধতিতে যাতে প্রশ্ন ছাপানোর প্রয়োজন না হয় সেই রকম কোনো কিছু করা যায় কি না সেজন্য তিন-চারটা কমিটি কাজ করছে এবং মন্ত্রণালয় থেকেও ভিন্নভাবে চিন্তা করা হচ্ছে এমন কিছু করা যায় কি না যে প্রশ্ন ছাপানোর প্রয়োজনীয়তা নেই।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০ লাখ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দেয়। একটি প্রশ্ন ছাপাতে চার-পাঁচদিন সময় লাগে। একজন মানুষ যদি অসৎ হয়, সে যদি মনে করে আমি প্রতিদিন একটা বা দুইটা করে মুখস্থ করে যাব, বাইরে গিয়ে লিখেই রাখব। তার পর একসাথে করব, একটি প্রশ্ন হবে। এটি কীভাবে ঠেকাব? আমি ২০১৪ সালেই বলেছি এ পদ্ধতিতে প্রশ্ন আউট রোধ করা সম্ভব নয়।’

এদিকে শিক্ষাসচিবের এমন চিন্তাভাবনার কথা মিডিয়ায় আসতেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।

আলমগীর হোসাইন অনন্ত নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ভাই, এক কাজ করলে কেমন হয়। যারা প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে থাকলো, আর ১০ বছর পর এসএসসি সার্টিফিকেট দেয়া হলো। এই সময়ে তারা বিভিন্ন কাজজ করবে। তাহলে দেশের উন্নতিও হবে, অন্যদিকে শিক্ষিতদের হার বেড়ে গেল! আজগুবি ১০ বছর কষ্ট করে কি লাভ?

আর ইফতেখার আলম লিখেছেন ‘বই খোলা রেখে পরীক্ষা বা ওপেন বুক এক্সাম অত্যন্ত আধুনিক মেধা ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। তবে হাইস্কুলের ছাত্রদের উপযোগী কিনা আমার সন্দেহ আছে। ওপেন বুক এক্সাম ঠিক মত নিলে দেশের কত শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করবে আমার সন্দেহ আছে। আমাদের জরাজীর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা ওপেন বুক এক্সামের উপযোগী নয়। শিক্ষকরাও কি তৈরি আছেন? সৃজনশীলে তো হযবরল হয়ে গেল। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলাম, প্রথমটার পরে ওপেন বুক এক্সামের কথা বললে বুক কাঁপত।’

ওলী উল্লাহ লিখেছেন, ‘ওপেন বুক এক্সাম বাইরের দেশগুলোতে খুব জনপ্রিয় পরীক্ষা পদ্ধতি। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং এ মেশিন ডিজাইন কোর্স ছিল ওপেন বুক এক্সাম, এটা হাস্যকর কিছু না। প্রশ্ন হচ্ছে, ওপেন বুক সিস্টেমের জন্য যেই মানের টিচার দরকার তা পাওয়া যাবে কি?’

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এরপর থেকে প্রতিটা পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয়। এ অভিযোগে রাজধানীসহ সারা দেশে পরীক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফেমাসনিউজ২৪/এসআর/এসএম