logo

মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

এফ. আর. বিপুল, জ‌বি | আপডেট: ১২ মার্চ ২০১৮

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলা‌মিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তবে এটাকে বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলের ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন অধ্যাপক।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং স্লোগান দিয়ে অপসারণের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সাথে তার কার্যালয়ে দেখা করেন এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের দাবি, ড. আবুল কালাম আজাদ ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বায়িত্ব পাওয়ার পর বিভাগে শুরু হয় নানান রকম অনিয়ম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড থেকে বিচ্যুত রাখেন তিনি। তার এমন অনিয়মে ক্লাস পরীক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে বিভাগটিতে সেশন জট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ক্লাস ফাঁকি দিয়ে একদিনে তিনটি ক্লাসের এটেনডেন্স নেন।

জানা যায়, বিভাগের একমাত্র অধ্যাপক হওয়ার কারণে ২৪ এর ২ ধারা মোতাবেক তাকে গত বছর ৩ এপ্রিল ড. আবুল কালামকে বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় দ্বায়িত্ব দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চেয়ারম্যানের মেয়াদকাল তিন বছর হলেও মাত্র ৯ মাস পরে এ বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তাকে বিশেষ ক্ষমতাবলে চেয়ারম্যান থেকে অপসারণ করেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য।

কিন্তু ওই চেয়ারম্যান হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানালে গত ৪ মার্চ থেকে আগামী তিন মাসের জন্য চেয়ারম্যান অপসারণ আদেশ স্থগিত করে হাইকোর্ট। পরে আবারো এক জরুরী আদেশে চেয়ারম্যান হিসেবে সপদে বহাল থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লিখিত অনুমতি পান তিনি। হাইকোর্ট থেকে এমন স্থগিতাদেশ আসার পর আবারো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ না জানিয়েই আমাকে অপসারণ করানো হয়েছে। অপসারণ পত্রে আমাকে জানানো হয়েছে, আমার বিভাগের শিক্ষকদের পত্রের ভিত্তিতে আমাকে অপসারণ করানো হলো। পরে আমি হাইকোর্টে আবেদন করলে, আমার অপসারণ আদেশ স্থগিত করে আপাতত তিন মাসের জন্য আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে থাকার আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

সার্বিকভাবে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা নিজেদের স্বার্থ হাছিলের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছেন। গতকাল বিভাগে এই শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, বিক্ষোভ মিছিলে কে কি বলবে, কার কাজ কি হবে। গুটি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে শিক্ষক হয়ে অপর একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এভাবে আন্দোলন করানো কতটা হতাশাজনক এটা তাদের বোঝা উচিত।

চেয়ারম্যানপদ থেকে অপসারণ করানোর কারণ জানতে চাইলে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, একটি বিভাগের ১৯ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৬ জন শিক্ষক যে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়ে তার সাথে কাজ করা যায় না বলে অপসারণ চান তখন আমার কি করার থাকে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ১১ এর ১০ ধারা মোতাবেক তাকে অপসারণ করে চিঠি পাঠিয়েছি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় এক্ট এর এ ধারায় বলা আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন স্বার্থে উপাচার্য যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অপসারণ নিয়ে এটাই বোধহয় আমার প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু তিনি সেটা না মেনে, হাইকোর্টে আবেদন জানান। হাইকোর্ট তাকে তিন মাসের জন্য চেয়ারম্যান থাকার আদেশ দিয়েছে।

তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের আনিত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে তার বিরুদ্ধে প্রায় একশত অভিযোগ রয়েছে। আমি তার অভিযোগ পত্রে এতোসব উল্লেখ করিনি, কারণ একজন অধ্যাপক ও বিভাগের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সবারই সম্মান ক্ষুণ্য হয়।
ফেমাসনিউজ২৪/এসআর/পিআর