logo

শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

সচিবের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেলেন দরিদ্র পরীক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০১৮

শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেয়েছে সরকারি কবি নজরুল কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী ইয়ার হোসেন খানের শিক্ষাজীবন।

বুধবার বেলা সাড়ে এগারটার দিকে সরকারি কবি নজরুল কলেজের মানবিক বিভাগের ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, সরকারি কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী ইয়ার হোসেন খান মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার খুনেরচর গ্রামের নিতান্তই একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। কবি নজরুল সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন তিনি। পারিবারিকভাবে আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে ঢাকায় এসে সরকারি কবি নজরুল সরকারি কলেজে ভর্তি হন।

তাকে দেখার জন্য কেউ ছিল না। ইয়ার হোসেন দীর্ঘদিন মসজিদে ঘুমিয়ে রাত কাটিয়েছেন এবং নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। আর্থিক অভাব অনটনের বিষয়টি সরকারি কবি নজরুল কলেজের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম শওকত হোসেনের জানতে পারেন।

ইয়ার হোসেন খানকে এসএম শওকত হোসেন দুটি টিউশনির ব্যবস্থা করে দেন। টিউশনির উপার্জিত অর্থে দিন চলতে কষ্ট হওয়ায় জুরাইনের ফুটপাতের চায়ের দোকান করে আসছেন ইয়ার হোসেন। পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিও নেন। চলতি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষা হিসেবে অংশ নেন।

ইয়ারে হোসেন খান বলেন, গত সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দি কলেজের ৩০১ নম্বর কক্ষে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় আমার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। আমিও সব পরীক্ষার্থীর মত পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে যাই। তবে বাসায় ফিরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষার লিখিত অংশের প্রশ্নের মূল্যায়নপত্র ঠিকঠাক সেট কোড ও রোল নম্বরের বৃত্ত ভরাট করলেও নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) পরীক্ষার উত্তরপত্রে সেট কোডের বৃত্ত ভরাট করা হয়নি বলে আমার মনে পড়ে। এতে আমার পরিবারের সদস্যরা খুব চিন্তিত হয়ে পড়ে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার নিয়মানুযায়ী, পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক অংশ একাধিক সেটে প্রশ্ন প্রণয়ন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেজন্য পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই সেট কোড পূরণ রোল নম্বরের মত বাধ্যতামূলক রাখা হয়। এ কারণে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তরপত্রে সেট কোডের বৃত্ত ভরাট না করলে উত্তরপত্র বাতিল হয়ে যায়। পরীক্ষার্থী সব বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হলেও সেট কোড পূরণ না করার ফলাফলে অকৃতকার্য করার নিয়ম রয়েছে।

এবার ইয়ার হোসেন খান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে তার শিক্ষাজীবন বন্ধ হয়ে যাবে বলে বিষয়টি সেই ছাত্রলীগ নেতা বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এম শওকত হোসেনকে জানান।

শওকত হোসেন বিষয়টি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করলে শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইনের নজরে আসে। নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি শওকতের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষার হলের ভুলের সমস্যা সমাধানমূল দিকনির্দেশনা দেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শওকত হোসেন শিক্ষা সচিবের নির্দেশনা মত সমস্ত আবেদন পক্রিয়া সম্পন্ন করেন। শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন ইয়ার হোসেন খানের উত্তরপত্র বিশেষভাবে মূল্যায়নের জন্য অধীনস্থ কর্মকর্তাদেরও নিদের্শনা দেন। অবেশেষে শিক্ষাবোর্ড থেকে ইয়ার হোসেন খানকে জানানো হয়- তার ফলাফল যথারীতিতে প্রকাশিত হবে। বিচলিত হবার কারণ নেই।

শওকত হোসেন বলেন, শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন স্যারের নির্দেশনা মত আমি ইয়ার হোসেন খানকে নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মুঃ জিয়াউল হকের কাছে যাই। শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন স্যারের রেফারেন্সে চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্যারের কাছে আবেদনের পর সমস্যার সমাধান হয়।
ফেমাসনিউজ২৪/এমআরইউ/এফএম/এমএম