logo

রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ | ৭ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৮

আবেদিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২৬,১৯৩ টি বেসকরারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয়করণকালীন সময়ে ২৬,১৯৩ টি বিদ্যালয় পরিসংখ্যান করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিসংখ্যান হতে আমরা বঞ্চিত।

তারা বলেন, বিগত বিএনপি জোট সরকারের আমলে সীমাহীন দুর্নীতি, দলীয়করণ ও নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে আমরা সরকারি চাকরি না পেয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ এ সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থেকে বিনা বেতনে, অনেক কষ্টে মধ্যে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা প্রদান করে চলেছি। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির ব্যানারে উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং কেন্দ্রীয়ভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ফল পাইনি।

সংগঠনের সভাপতি মামুনুর রশীদ খোকন বলেন, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, আজ থেকে আর কোন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকবে না। এই ঘোষণায় আমরা খুব আনন্দিত ছিলাম। কিন্তু এখনো আমাদের বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনয়ী হয়ে এই শিক্ষক নেতা বলেন, আপনার ঘোষণার বাস্তবায়ন চাই আমরা।

তিনি বলেন, আমরা খুব অসহায়। আজকে শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঈদ যায়, আমাদের কোন ঈদ হয় না। আমাদের ছেলে-মেয়েদের একটা ভালো পোশাক দিতে পারি না। বাবা-মাকে ভালো-মন্দ কিছু খাওয়াতে পারি না। আমাদের কি ইচ্ছে হয়না বাবা-মাকে একটু সুন্দর পরিবেশে রাখতে? ছেলে-মেয়েদের সুন্দর পরিবেশে লেখা পড়া করাতে? আমাদের পরিবারের কাছে শিক্ষক হিসেবে সম্মাতিন হতে আপনিই (প্রধানমন্ত্রী) পারেন। ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারলে আপনি আমাদের সম্মানের সহিত বাঁচতেও সহযোগিতা করবেন।

রংপুর বিভাগের দপ্তর সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, আমাদের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ করতে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই। আমাদের পরিবার দীর্ঘদিন থেকে মানবেতর জীবনযাপন করে যাচ্ছে। অনেক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে, আমরা প্রত্যাশা করি এ অর্থবছরেই আমাদের বিদ্যালয়গুলোও জাতীয়করণ করা হবে।

বিএসএ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আমিনুল মামুন বলেন, আমরা অবহেলিত অবস্থায় আছি। চাকুরি আছে কিন্তু বেতন নেই। সারাদেশে পাঁচ হাজার শিক্ষক এভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অর্থ সংকট থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের উপ-বৃত্তি দিতে পারি না। শিক্ষার প্রকৃত পরিবেশ তৈরী করা যায় না। তারপরেও আমাদের স্কুলের ফলাফল সরকারি স্কুলের মতই।

পলাশবাড়ী আদর্শ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজল রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় যে খরচ হয় সেটিও দিতে হয় পরিবারের খরচের টাকা থেকে। খেয়ে না খেয়ে আর কত দিন এভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে যাব?

মানববন্ধনে শিক্ষক নেতারা বলেন, জাতীয়করণের জন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক জাতীয়করণের নিমিত্তে নির্ধারিত উপজেলা ও জেলা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক যাচাই বাছাই প্রক্রিয়াধীন বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে বঞ্চিত শিক্ষকদের মর্যাদা দেয়ার ব্যবস্থা করুন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মামুনুর রশীদ খোকন, মহাসচিব কামাল হোসেন, সহ-সভাপতি ফিরোজ উদ্দিন, মিজানুর রহমান, হারুন-অর-রশিদ, যুগ্ম মহাসচিব বদরুল আমিন সরকার প্রমুখ।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/জেডআর/এমআরইউ