logo

বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

জবিতে ক্লাসে মাল্টিমিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

এফ. আর. বিপুল, জবি | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একাডেমিক ক্লাসে শিক্ষকদের মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষকরা মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে কোনো ক্লাস নিতে পারবেন না। কোর্সের প্রয়োজনে কোনো ভিডিও অথবা সচিত্র বিষয় শিক্ষার্থীদের দেখানোর প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার করা যাবে।

এ ছাড়াও সিদ্ধান্ত হয় প্রতিটি কোর্সের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা সুলভ মূল্যে বাজারে পাওয়া যায় এমন একটি বিশ্বমানের টেক্সট বই নির্ধারণ করে দেবেন। প্রয়োজনে একাধিক রেফারেন্স বইও ব্যবহার করতে পারবেন। তবে কোনো অবস্থাতেই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নোট, গাইড বা লেকচার শিট দিতে পারবেন না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে ক্লাস নেওয়া বন্ধ করায় বুঝতে ও দেখতে নানা সমস্যার সম্মখীন হতে হচ্ছে। ক্লাসের আকার বড় ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় পেছনের বেঞ্চের শিক্ষার্থীরা শুনতে পায় না। টিচার হোয়াইট বোর্ডে লিখলেও দূর থেকে লেখা চিনতে পারে না। প্রতিটি বিষয়ের জন্য সুলভ মূল্যে বাজারে পাওয়া যায় এমন বিশ্বমানের টেক্সট বই নির্ধারণ করে দেবার কথা থাকলেও সেটা বাস্তবায়িত হয়নি।

অন্যদিকে লাইব্রেরি ও সেমিনারে পর্যাপ্ত বই না থাকায় আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সেমিনারে বই থাকলেও একজন লেখকের একাধিক বই থাকে না। বই সাজেস্ট করলেও বই পাওয়া যায় না আবার পাওয়া গেলেও খুব কম সংখ্যক বইয়ের কারণে কে বই নেবে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। আবার সাজেস্ট করা বই বাইরে খুব একটা সহজলভ্য নয়। এভাবেই প্রতিনিয়ত নানান সমস্যার মধ্য দিয়ে কাটা‌চ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাল্টিমিডিয়ায় ক্লাস নেবার সময় শিক্ষকরা কোনো পরিশ্রম ছাড়াই অন্যের স্লাইড বা ইন্টারনেট থেকে স্লাইড ডাউনলোড করে নিজের বলে চালিয়ে দেয়। হুবহু একই স্লাইড ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পড়ায়। সিলেবাসের সঙ্গে ওই স্লাইডের টপিক্সের কোনো মিল থাকে না। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অমনযোগী হয়ে পড়ে। তারা জানে, বাসায় গিয়ে হুবহু ওই স্লাইড ডাউনলোড করা যাবে। শিক্ষকরা যেন ক্লাসে নিজের বানানো লেকচার শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরতে পারে ও বুঝাতে পারে সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সামি বলেন, মাল্টিমিডিয়ায় ক্লাস নেওয়া বন্ধ হওয়ায় আগের তুলনায় এখন সময় নষ্ট হ‌চ্ছে বেশি। গতানুগতিক ধারায় লেকচার না দিয়ে প্রাকটিক্যালি ক্লাস নিলে শিক্ষার্থীদের সুবিধা হয়। ক্লাসের সময় প্রয়োজনীয় বই সাজেস্ট করলে আমাদেরও সুবিধা হয়।

সমাজকর্ম বিভাগের আরিয়ান হাসান বলেন, জগন্নাথে সমস্যার শেষ কোথায়? একটার পরে একটা সমস্যা লেগেই আছে। সমস্যা তো শিক্ষকদের নয়, সমস্যা শিক্ষার্থীদের। মাল্টিমিডিয়ায় ক্লাস নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল সুলভ মূল্যে পাওয়া যায় এমন বই নির্ধারণ করে দেবে। এটা আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না সন্দেহ আছে!

এ বিষয়ে লাইফ অ্যান্ড আর্থ অনুষদের ডিন কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, শিক্ষকদের জন্য এই নিয়ম করা হয়েছে। শিক্ষকরা যেন বাসায় বই পড়ে এসে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পড়ায়। শিক্ষার্থীদের নতুন জ্ঞানের সন্ধান দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, যদি শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হয় তাহলে তারা লিখিত অভিযোগ করতে পারে। আমরা আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত সিন্ডিকেটের সদস্য অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, অনেক শিক্ষক আছে, যারা মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার সময় লাইন টু লাইন শুধু পড়িয়ে যায় কিছু বুঝায় না। শিক্ষকদের একটা ইথিক্স থাকা দরকার। শিক্ষকরা যেন শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে বোঝাতে পারে সেজন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টেক্সটবুক সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি বছর বই কেনার জন্য প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি টেক্সটবুকের সমস্যার সমাধান হবে।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/কেআর/এস