logo

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

জালিয়াত চক্রকে ধরে দিলেন ছাত্রলীগ নেতা

রুদ্র আজাদ, জাবি থেকে | আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০১৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চলমান ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তি জালিয়াতের অভিযোগে ৩ জালিয়াত চক্রের সদস্যকে ধরে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

সোমবার কলা ও মানবিক অনুষদের (সি ইউনিটের) ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় ছিল এ চক্র বলে জানা যায়।

আটককৃত জালিয়াত চক্রের তিন সদস্য হলেন- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের আশিক-ই-আতাহার মেজবাহ। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার ইসলামবাগের নূর ইসলাম সরকারের পুত্র। অন্যজন হলেন জবি রসায়ন বিভাগ অনার্স প্রথম বর্ষের সাকিব- উল- সাদাত। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার মো. ফজলুল হকের পুত্র।

আটককৃত মাইক্রোবাসের (ঢাকা মেট্রো গ- ৩১১৪৪৯) ড্রাইভার আনোয়ার হোসেন (২৭)। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানায়। তিনি উবারের গাড়িচালক। আটককৃতরা উবারে ফোন দিয়ে সাড়ে চার হাজার টাকার চুক্তিতে খিঁলগাও থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন বলে তিনি জানান।

ভর্তি পরীক্ষার্থীদের ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন সরবরাহের কথা স্বীকার করেন তারা। তাদের কাছে থেকে সি ইউনিটের প্রথম শিফটের প্রশ্ন ও সি ইউনিটের জামিল আহম্মেদ নামে এক (রোল-৩১৪৮৮৪) ভর্তি পরীক্ষার্থীর এডমিট কার্ড উদ্ধার করা হয়।

সূত্র জানায়, আটককৃত ‘জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক এক শিক্ষার্থীকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ‘সি’ ইউনিটের (কলা ও মানবিক অনুষদ) প্রথম শিফটের প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখায়। ওই ভর্তিচ্ছু বিষয়টি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান নীলকে (ওই ভর্তিচ্ছুর পূর্ব পরিচিত) বিষয়টি জানায়।

তাৎক্ষণিক মাহবুবুর রহমান নীল বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইনকে অবহিত করেন। পরে ছাত্রলীগ নেতা নীল অভিভাবক সেজে ওই জালিয়াত চক্রের সদস্যদের সাথে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র নেয়ার টোপ দেন। সেই টোপে পা দিয়ে ওই জালিয়াত চক্রের সদস্যরা রাত ১.২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন।

পরে ভোর ৫টার দিকে তারা প্রশ্ন দেয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করেন। তখন ওঁৎ পেতে থাকা মাহবুবুর রহমান নীলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে থেকে তাদের আটক করেন।

আটক করার পর ৬টার দিকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের হাতে তুলে দেন তারা। তবে জালিয়াত চক্রের মূলহোতা জাকিরকে আটক করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ- সভাপতি মাহবুবুর রহমান নীলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কেউ টাকা দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন দিচ্ছে বিষয়টি শোনার পর আমি একজন ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হিসেবে মানতে পারিনি। তাদের ধরার জন্য টোপ দেই। এ টোপে পা দিয়ে তারা আজ ভোরে প্রশ্ন দিতে আসে।

তিনি বলেন, আমি আমার লোকজন নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম। ভোর ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে আসলে আমরা তাদের ধরে ফেলি। পরে প্রক্টর স্যারকে ডেকে স্যারের হাতে তুলে দেই।

প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতায় দুজন জালিয়াত চক্রের সদস্যকে আটক করেছি। বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিচার করা হবে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম