logo

বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad
২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

নতুন মাত্রায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

এফ. আর. বিপুল, জবি | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৮

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বহুল প্রতীক্ষিত নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের একনেকের নবম সভায় এ প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। এতে জবিকে একটি পরিপূর্ণ ও অত্যাধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের জন্য নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন, ভূমি অধিগ্রহণ এবং ভূমির উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৯২০ কাটি ৯৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একনেক কমিটি।

এর আগে প্রকল্পটি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন পেয়েছিল। এ ছাড়া গত ৩ অক্টোবর সচিবালয়ের ১১৭তম সভায় ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের পশ্চিমদি মৌজায় প্রায় ২০০ একর ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেক সভায় ২৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে সাত একর জায়গায় একটি ২০তলা একাডেমিক ভবন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এক হাজার সিটের আবাসিক ছাত্র হলের জন্য ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’শিরোনামের একটি প্রকল্প উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য নজরুল ইসলাম।

প্রকল্পের প্রস্তাবনা দেখার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই ৭ একর, ১০ একর দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার সমাধান হবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য খুচরা একটি হল ও একাডেমিক ভবন দিয়ে কাজ হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে হবে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, ক্যাম্পাস, একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরিসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস এমনভাবে করো যাতে কেউ ঢাকা এলে এই ক্যাম্পাস একবার হলেও ঘুরে যেতে বাধ্য হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যত জমি লাগবে, যত টাকা লাগবে, তার জোগান দেয়া হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করে তার কাছে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নির্দেশের এক বছরের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে উপাচার্য় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমাদের যে ভূমি সংকট ছিল সেটা সমাধানের যাত্রা শুরু করলাম। বাংলাদেশে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে দুইশ একর জমি দেয়ার নজির নেই। সর্বেচ্চ ৩০-৪০ একর দেয়। এখন আমরাই সর্বোচ্চ জায়গা এবং প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা পেলাম। এর আগে এত টাকা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া হয়নি। আমাদের আশা পূর্ণ হয়েছে। এখন আমাদের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্পের মধ্যে অত্যাধুনিক বিশ্ববদ্যিালয়ের মাস্টার প্ল্যান রয়েছে। ইতোমধ্যে ১ অক্টোবর ২০১৮ থেকে এ প্রকল্পের মেয়াদ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির অধীনে ভূমি অধিগ্রহণ, নিচু জমি ভরাট করা, পুকুর খনন, গাছ লাগানো, কতটা হল, কতটা বিল্ডিং, খেলার মাঠ, টিএসসি ও ডিজাইনের জন্য ৩৫ কোটি টাকার মতো বাজেট।

এই প্রজেক্ট আমরা সময়মত সাবমিট করব। এরপর এই প্রজেক্টের অধীনে আরেকটা ৫ বছর বা তার বেশি মেয়াদি প্রজেক্ট তৈরি করা হবে। সেই প্রজেক্টের মধ্য দিয়ে নতুন ক্যাম্পাসের কাজ সম্পন্ন হবে।

এদিকে প্রকল্পটি একনেকে পাস হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জবি উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি একেএম মনিরুজ্জমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাকী ও জবি প্রেস ক্লাবের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান দিপুসহ জবিস্থ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি