logo

বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

জাবির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ

রুদ্র আজাদ, জাবি প্রতিনিধি | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০১৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ উঠেছে। কোনোকিছুর তোয়াক্কা না করে একের পর এক অমানবিক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন তিনি। রিকশাচালকদের মারধর ও বহিরাগতদের মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।

আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলাচলরত বেশ কয়েকটি অটোরিকশা ও ভ্যান ভাঙচুর এবং চালককে মারধর করেন সুদীপ্ত শাহীন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ১৮টি অটোরিকশার চাকা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে দিয়েছেন তিনি। এ সময় রিকশাচালকদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন একাধিক রিকশাচালক।

৭৫ বছর বয়সী রিকশাচালক আহমদ আলী বলেন, 'আমি আজ প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে রিকশা নিয়ে এসেছি। শরীরটা খুব অসুস্থ ছিল। এজন্য বটতলা পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ি। তাই একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ শাহীন স্যার আরো কয়েকজন ছুরি নিয়ে আসলো আর আমার রিকশার চাকা কেটে দিল। তাদের পায়ে ধরে কত অনুনয় বিনয় করলাম, তবুও ছাড়লো না। বলেছিলাম- বাবা আমার গলায় ছুরি দাও, তবৃুও রিকশায় দিও না। আমার ঠিক করার মত টাকা নাই।' এদিকে আহমদ আলী অসুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে পড়ে থাকার খবর জানতে পেরে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ তার পাশে দাঁড়ান।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতা জানান, 'নিজের চিকিৎসার ব্যয় জোগাড় করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে রিকশা চালাতে আসেন আহমদ আলী। কিন্তু নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা তার রিকশার চাকা কেটে দেন। তিনি তাদের পা ধরে কান্নাকাটি করলেও রেহাই দেয়নি। তার গায়ে ছিল ১০৩ ডিগ্রি জ্বর। চিকিৎসার খরচ তো জোগাড় হয়নি বরং ভাঙচুর করা রিকশা ঠিক করার জন্য ১৪০০ টাকার প্রয়োজন। অসুস্থ আহমদ আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বসে কান্নাকাটি করতে থাকেন। পরে খবর পেয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা তাকে রিকশা ঠিক করার জন্য ১৪০০ টাকা দেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। রিকশাচালক আহমদ আলীকে বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করেন তিনি।

এছাড়া গত ১৫ আগস্ট বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের এক নেতাকে মারধর করা অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম তাহমিদ আহমেদ। এ ব্যাপারে তাহমিদ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমি কোনোরূপ অসংলগ্ন অবস্থায় ছিলাম না। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মকর্তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে মারধর করেছেন।'

এ ব্যাপারে জানতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীনের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমাদের নিরাপত্তা টিম আজ বেশ কয়েকটি অটোরিকশা অকেজো করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোনো অটোরিকশা চলতে দেয়া হবে না। এর আগে কয়েকবার মাইকিং করা হয়েছে। বন্ধ না হওয়ার কারণে অভিযান চালানো হয়।'

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক নিয়ম কানুন আছে। তারপরেও আমরা মানুষ, সে হিসেবে আমাদের মানবিক হওয়া প্রয়োজন। শাহীন ভাই বাবার বয়সের একজন মানুষকে এভাবে ক্ষতি না করলেও পারতেন।'

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা যখন তখন যাকে তাকে মারধর করছেন। তার নামে আরো অনেক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না জানি না। আমরা আশা করবো, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পাপ্পু বলেন, নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন এভাবে কারো উপর শক্তি প্রয়োগ করতে পারেন না। তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু যাকে তাকে এভাবে মারধর ও রিকশা ভাঙচুর করার অধিকার তার নেই।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম