logo

বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ, ১৪২৫

header-ad

জাবিতে কৃষকলীগের সভাপতি লাঞ্ছিত

রুদ্র আজাদ, জাবি প্রতিনিধি | আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সিন্ডেকেট সভায় অংশ নিতে এসে বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি ও সিন্ডিকেট সদস্য মোতাহের হোসেন মোল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একটি গ্রুপের কয়েকজন শিক্ষকের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সিন্ডিকেট সভায় অংশ নিতে আসেন তিনি। এই সময় তাকে সিন্ডিকেট সভাস্থলে প্রবেশ করতে বাঁধা দেয় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’র কয়েকজন শিক্ষক। তখন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা তাকে সিন্ডিকেট সভায় প্রবেশ করাতে গেলে উপাচার্য বিরোধী শিক্ষকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে কোন শিক্ষক আহত না হলেও লাঞ্চিত হয়েছেন কৃষকলীগের সভাপতি ও সাবেক জাকুসর ভিপি মোতাহের হোসেন মোল্লা।

এমনটা দাবি করেছেন উপাচার্যপন্থী কয়েকজন শিক্ষক। তারা বলেন, মোতাহের হোসেন মোল্লা অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তার সাথে এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে মোতাহের হোসেন মোল্লা বলেন, উপাচার্য বিরোধী শিক্ষকরা সভা শুরুর আগে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারতো। কিন্তু তা না করে আমাকে সভাকক্ষে প্রবেশে বাধা দেয়। যা অত্যন্ত অশোভন ও নিন্দনীয়। এ ধরনের কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া উচিত না। এসব বিষয় নিয়ে সরকারের উর্ধ্বতন পর্যায়ে কথা বলবো।

এদিকে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজে’র শিক্ষকরা তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে গ্রুপটির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমদ জানান, ‘মোতাহের হোসেন মোল্লাকে বাধা দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র তার সাথে আমরা কিছু কথা বলতে ছেয়েছিলাম। তিনি ভুলে গেলে হবেনা তিনি আমাদের গ্রুপের সমর্থনে সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, সিনেট নির্বাচনে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আজ তিনি আমাদের শিক্ষকদেরকে মাড়িয়ে সিন্ডিকেট সভায় অংশ নিয়েছেন, যা কোনভাবেই তার কাছ থেকে আমরা আশা করি নাই।

এই সময় তিনি আরো বলেন, আজকের পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কখনো এমন একতরফা ও অনির্বাচিত সদস্যদেরকে নিয়ে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। উপাচার্যের এমন আচরণের আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমাদের সকলের এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিৎ।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কি উপাচার্যের অনুগত ব্যাক্তিদের দ্বারা চলবে? নাকি বঙ্গবন্ধুর দেয়া ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী চলবে?

এছাড়া তিনি বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দেশবাসীকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে বাচাঁতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এদিকে এই সিন্ডিকেট সভায় উপাচার্য বিরোধী সিন্ডকেট সদস্যরা সভা বর্জন করেছেন। বর্জনকারী সদস্যরা হলেন- উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরিফ এনামুল কবির, অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ, সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার।

ফেমাসনিউজ২৪/এসকে/কেআর