logo

বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ, ১৪২৫

header-ad

ফরম পূরণে জালিয়াতি, রাবিতে ধরা খেল ৩ জন

রাবি প্রতিনিধি | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (বিসিএস) ৪০তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফরম পূরণে ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করার প্রতারণার কারণে পরীক্ষায় বসতে পারা নিয়ে শঙ্কায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। এদিকে অভিযুক্ত দোকানিদের পুলিশে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সরকারি কর্মকমিশন প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের জন্য আদৌ কোনো সুযোগ দেবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বুধবার রাতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে রাবি প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক সোহাগ এ বিষয়ে অনুসন্ধ্যান করেন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে প্রতারণার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেন তিনি। অভিযুক্তদের আটক করে প্রক্টর অফিসে দুপুর পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে বেলা দুইটার দিকে তাদের মতিহার থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোপর্দকৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন মার্কেটের স্পন্দন কম্পিউটারের মালিক মোস্তাক আহমেদ মামুন ও ভাই ভাই কম্পিউটারের আরিফ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম।

অভিযুক্তদের পুলিশে সোপর্দ করা হলেও বিসিএসের এবারের পরীক্ষায় আদৌ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বসতে পারবেন কিনা এ নিয়ে শংকা প্রকাশ করে জুবায়ের আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরম পূরণের সময় দেয়া আছে। পিএসসি নিজেদের মতো করে চলে। তারা যদি আমাদের সুযোগ না দেয় বা এর মধ্যে যদি বিষয়টি ঠিক করা না যায় তাহলে পরীক্ষায় বসা অনিশ্চিত হয়ে যাবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই জানিয়ে সরকারি কর্মকমিশনের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. লায়লা আরজুমান বানু বলেন, পিএসসির সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আজকের মধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা পাঠানোর কথা জানিয়েছেন তারা। পাঠানোর পর পিএসসি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য টাকা প্রদানের ৭২ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হবে।

এদিকে ভুক্তোভোগী হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মোমিন হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করে টাকা নিয়েছে। দোকানিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি আমরা। এর আগে তাদের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যেটি শিক্ষার্থীদের ফেরত দেয়া হবে। পিএসসির সাথে কথা হয়েছে শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না।

সূত্রে জানা যায়, প্রতিবন্ধী না হওয়া সত্ত্বেও প্রায় তিন শতাধিক প্রার্থীকে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ইচ্ছাকৃত প্রতিবন্ধী কোটায় ফরম পূরণ করে দিয়েছে অভিযুক্ত দোকানিরা। যদিও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোটা ব্যতীত কর্মকমিশন নির্ধারিত ফি ৭০০ টাকা নিয়েছে দোকানিরা।

আর প্রতিবন্ধী কোটায় ১০০ টাকায় ফরম পূরণ করায় দোকানির পকেটে গেছে বাকি ৬০০ টাকা। সকালে দোকানির এমন উদ্দেশ্যমূলক কাজের বিষয়টি চক্ষুগোচর হলে সাংবাদিকসহ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেন। এরই প্রেক্ষিতে তাদের আটক করে প্রক্টর দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পুলিশে দেয়া হয় তাদের।
ফেমাসনিউজ২৪/প্রতিনিধি/এফএম/এমএম