logo

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রাহায়ণ, ১৪২৬

header-ad

ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা খেলেন জাবির পাঁচ শিক্ষার্থী

রুদ্র আজাদ, জাবি প্রতিনিধি | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৮

ক্যাম্পাসে আগাত বহিরাগত দুই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ছিনতাইকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পাঁচ শিক্ষার্থীকে ধরে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আজ রোবিবার দুপুর দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীরা। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও সাংবাদিক মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলো- বাংলা বিভাগের আসিফ আহমেদ ও সজিব গাজী, লোক প্রশাসন বিভাগের ইয়া রাফিউ শিকদার, মুস্তাফিজুর রহমান ও সোহেল রানা। তারা সকলেই ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

অভিযোগকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সিটিউটের সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থী জাহেদুর রহমান বলেন, আমি আমার বান্ধবীসহ বোটানিক্যাল গার্ডেনের দিকে বসে ছিলাম। পরে তারা পাঁচজন এসে আমাদেরকে ধরে এবং বলে তোদেরকে এখন আমরা প্রক্টরের কাছে নিয়ে যাব। প্রক্টরের কাছে নিলে একলাখ টাকা লাগবে, প্রক্টররা ও টাকা খায় সব আমাদের সেটিং করা। প্রক্টরও আমাদের হাতে আছে তো এখন তোরা কি ওই জায়গায় যাবি? আর না গেলে ভিতরে আয়।

জাহেদুর রহমান আরো বলেন, তারা আমাদেরকে ধরে ক্যাম্পাসের অনেক ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমদের মারধর করে। এ সময় তারা আমার কাছে থাকা মানিব্যাগ থেকে টাকা ও আমার বান্ধবীর কানের দুল নিয়ে নেয়। তারপর আমাকে আলাদা করে নিয়ে যায়। আমার বান্ধবীকে ওখানেই রাখে। আমাকে আলাদা নিয়ে তারা বিকাশের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা আনতে বলে। তখন আমি আমার বন্ধুকে কল করার কথা বলি সাথে সাথে ওরা আমাকে আরো মারধর করে। পরে আমি দৌড় দিয়ে পালিয়ে আসি। পরে জানা জানি হলে অন্য ভাইয়েরা এসে ওদেরকে ধরে।

ছিনতাইয়ের শিকার জাহেদুর রহমান ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি করে প্রক্টর বরাবর লিখিত আবেদন জানায়।

অভিযোগটি অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বোটানিকাল গার্ডেনের ভিতরে হাটঁছিলাম। তখন অভিযোগকারীদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে আমরা তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তারা নিজেদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে দাবি করে। বিভাগ, ব্যাচ ও হলের নাম জিজ্ঞাসা করলে তারা উত্তর দিতে পারেনি। এ সময় অভিযোগকারী ভয়ে দৌঁড় দেয়। পরে অভিযোগকারীর পরিচিত ক্যাম্পাসের সিনিয়র ভাইয়েরা এসে আমাদেরকে মারধর করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, আটককৃতরা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা নোটিশের জবাবও দিয়েছে। তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। আগামীকাল ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগকারীরা চাইলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত পাচঁ শিক্ষার্থীর মধ্য লোক প্রশাসন বিভাগের ইয়া রাফিউ শিকদার, মুস্তাফিজুর রহমান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক সাংবাদিক মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে সাময়িক বহিস্কার আদেশ চলমান রয়েছে।

ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম