logo

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না জাবির এই অধ্যাপক

জাবি প্রতিনিধি | আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, নিয়োগে অনিয়ম, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পুকুর তৈরি এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে বাসা সংস্কার করার অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যপন্থি শিক্ষক অধ্যাপক আলী আজম তালুকদারের বিরুদ্ধে। তিনি একাধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শহীদ সালাম বরকত হলের প্রভোস্টের দায়িত্বে রয়েছেন।

অধ্যাপক আলী আজম তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নতুন গাড়ি পরিবহন পুলে যুক্ত না করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ- ৩১-০০৫৫। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত আরেকটি গাড়িও সার্বক্ষণিক ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো চ-৫৬-৩৩১৬।

দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি দুটি ব্যবহার করলেও জ্বালানি ও মেরামতের ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল হতে গ্রহণ করছেন তিনি। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল সকালে রাজধানীর শ্যামলী হতে ক্যাম্পাসমুখী শিক্ষকদের একটি বাস ট্রিপ ফেল করায় একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে ক্যাম্পাসে আসেন তিনি। পরে পরিবহন কার্যালয় হতে নগদ ২ হাজার ৬০০ টাকা পরিশোধ করেন।

এদিকে পরিবহন কার্যালয়ে ৩টি ড্রাইভার পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই তিনটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের অপেক্ষায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গাড়ি ক্রয় করায় নভেম্বরে আবারো তিনটি ড্রাইভার পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১০ ডিসেম্বর আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ। অথচ বিজ্ঞাপন অনুযায়ী নিয়োগ সম্পন্ন না করেই মাস্টাররোলে ড্রাইভার পদে সুজন কুমার সরকার ও মো. উজ্জ্বল আলী নামে দুজনকে নিয়োগ দেন অধ্যাপক আজম।

সূত্র জানায়, নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট পদে বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে মাস্টাররোলে নিয়োগ প্রদান করার নিয়ম নেই।

এছাড়া অধ্যাপক আজম সিন্ডিকেট সভা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ব্যতীত তার বাসার জন্য ১৫ লক্ষাধিক টাকার কাজ করেছেন, যেটা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত, কিন্ত কাজ শেষ করার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে টাকা নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনো স্থাপনার কাজ করতে হলে অবশ্যই সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাতে হয়। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে প্রকৌশল বিভাগ খরচের একটা খসড়া তৈরি করে। সেটার ভিত্তিতে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ করানো হয়।

তবে অধ্যাপক আজম এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের মত করে ঠিকাদার দিয়ে কাজ করিয়েছেন। যার ফলে খরচ বেড়েছে এবং সে টাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরই বহন করার কথা।

সরজমিনে দেখা যায়, অধ্যাপক আজম তার বাসার মধ্যে মাছ চাষ করার জন্য একটা পুকুর খনন করেছেন। এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ও অবকাঠামো নষ্ট করার।

এ বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ অনুযায়ী যে যার মত সুবিধা ভোগ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ লুটপাট করছে। আমরা মনে করি, এ ব্যাপারে সবাইকে সোচ্চার হওয়া 
উচিত।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো আমির হোসেন বলেন, আমি জানি না তিনি এভাবে গাড়ি ব্যবহার করছেন কিনা। তবে এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করার কোনো নীতিমালা নেই।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলী আজম তালুকদার বলেন, গাড়ি দুটার মধ্যে একটা আমি রেগুলার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে ব্যবহার করছি। আর অন্যটা এখনো পরিবহন পুলে যুক্ত করা হয়নি। তবে যাতে নষ্ট না হয়ে যায় এ জন্য মাঝে মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করা হয়।

পরিবহন কার্যালয় থেকে নগদ টাকা নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী গাড়ির ট্রিপ মিস করলে বাইরের গাড়িতে আসলে বিশ্ববিদ্যালয় তিন হাজার টাকা ভাড়া বাবদ দিয়ে থাকে। আমিতো এক্ষেত্রে আরো চারশ' টাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচিয়ে দিয়েছি।

মাস্টাররোলে নিয়োগের ব্যাপারে আলী আজম তালুকদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে লোকবলের অভাব থাকার কারণে ৬টি পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই ২ জনকে মাস্টাররোলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বাড়ির কাজ করানো এবং পুকুরকাটার ব্যাপারে তিনি বলেন, বাড়ির কাজ করাতে হলে সিন্ডিকেটে পাস করাতে হয় সেটা আমি জানি না। আজকে তোমার মাধ্যমে জানতে পারলাম। পুকুর কাটছি এ জন্যই যে, বাসার চারপাশে পানি জমে থাকে। এর ফলে বাসা নষ্ট হয়ে যায়।

এ বিষয়ে এস্টেট শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা নুরুল আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কিছু করতে হলে অবশ্যই অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবস্থাপনা থেকে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু আলী আজম সেটা নেননি। আমরা বিষয়টা কর্তৃপক্ষকে জানাবো। কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম