logo

শনিবার, ৩০ মে ২০২০ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭

header-ad

চবিতে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলি, আহত ১৫

চবি প্রতিনিধি | আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

পূর্ববিরোধের জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হামলা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় গ্রুপের ১৫ জন আহত হয়।

মঙ্গলবার রাতের পর বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ফের উভয় গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে শিবলু ও মোফাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সিক্সটি নাইট ও সিএফসি গ্রুপের মধ্যে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সিক্সটি নাইন নগর মেয়র ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাসিরের অনুসারী ও সিফসি শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান নওফেলের অনুসারী।

সংঘর্ষে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগ নেতৃত্বহীন বলে বারবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

সুত্রে জানা গেছে, নগরীর ষোলশহর স্টেশনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিক্সটি নাইন কর্মীরা পূর্ব ঘটনার জেরে সিএফসির এক কর্মীকে ষোলশহরে মারধর করে। এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা শুরু হয়। রাত ৯টা ২০ মিনিটে ক্যাম্পাসগামী শাটল ট্রেন পৌঁছালে বাড়তে থাকে এ উত্তেজনা।

এ সময় সিক্সটি নাইন কর্মীরা শাহ জালাল ও সিএফসি কর্মীরা শাহ আমানত হলে অবস্থান নিয়ে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনার মাঝেই রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। রাত ১২টার দিকে উত্তেজনা আবারো ছড়িয়ে পড়লে উভয় গ্রুপের কর্মীরা শাহ জালাল ও শাহ আমানত হল নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ ঘটনার জের ধরে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আবারও উভয় গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হলে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে সিএফসি গ্রুপের ১০ জন ও মোফা, শিবলু, প্রবাল, আবিদসহ সিক্সটি নাইনের ৫ জন আহত হয়। ঘটনার জন্য উভয় গ্রুপ প্রতিপক্ষকে দায়ী করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক উপগ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সিক্সটি নাইনের ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, ক্যাম্পাসে চিহ্নিত মাদক মামলার আসামি ও নারী কেলেংকারির সঙ্গে জড়িতরাই এসব ঘটনার ইন্ধন দিচ্ছেন। তাদের মদদেই আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।

চবি ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও সিএফসির জামান নূর বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।

তবে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, এদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো ছাড় নেই। ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

এদিকে দিনভর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। নেতৃত্বহীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণে শীর্ষ নেতাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে অভিমত দেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শাফায়াত হোসেন বলেন, আমি আমানত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। কয়েক দিন পরপর শাহ জালাল হল ও আমানত হলে ছাত্রলীগের সংঘর্ষেও ফলে আমাদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এখানে তাদের কাছে প্রশাসন অসহায় বলে মনে হয়।

রাফিদ হাসান নামে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শাহ জালাল হলের শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রসংগঠনের কাছে প্রশাসনের অসহায়ত্বেও ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আমরা। নেতৃত্বহীন ছাত্রলীগের লাগাম টানা দরকার।

ফেমাসনিউজ ২৪/এসএ/কেআর