logo

রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ | ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪

header-ad

মনজুরের বউ ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জান্নাতুল নাঈম! (দ্বিতীয় পর্ব)

বিশেষ প্রতিবেদক | আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০১৭

বিয়ের কাবিননামা ও বিজয়ী জান্নাতুল নাঈম
জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল নামে যে প্রতিযোগীকে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ ঘোষণা করা হয়েছে তিনি আসলে বিবাহিত। এর সত্যতার প্রমাণও মিলেছে। এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সুন্দরী আমেনাকে দেখে পছন্দ হয় সেখানকার এক যুবকের। পরীক্ষার পর বেশ ঘটা করেই পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আমেনার।

৮ লাখ টাকার কাবিননামায় উসুল ধরা হয় ৩ লাখ। বিয়ের অনুষ্ঠানে বরপক্ষ খরচ করে ১৫ লাখ টাকা। চন্দনাইশ বড়মা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুল নাঈম আমেনার স্বামী জামিয়াতুল আহম্মদিয়া সুন্নি আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মনজুর উদ্দিন রানা। এসএসসি পরীক্ষায় আমেনা ৪.৪৪ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হন। মনজুর উদ্দিন রানার বাবা চুন্নু মিয়ার শখ ছিল নাতিকে নিয়ে মজা করার। কিন্তু তার আগেই বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাদের, তখন আমেনা দুই মাসের সন্তান-সম্ভবা ছিলেন বলে জানান তার স্বামী। 

বিয়ের আসরে জান্নাতুল নাঈম। ছবি: সংগৃহীত
এরপর নিরুদ্দেশ হয়ে যান জান্নাতুল নাঈম আমেনা। দীর্ঘদিন পর তার বাবা-মা জানতে পারেন- স্থানীয় এক যুবকের হাত ধরে ঢাকায় চলে গেছে আমেনা। ঢাকায় এসে জান্নাতুল নাঈম আমেনা হয়ে যান জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশ হলে মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রথম জনসম্মুখে আসে তার বিয়ের বিষয়টি।

তবে প্রশ্ন ওঠে, একজন বিবাহিত মহিলা কীভাবে ‌‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদশ’ হন? বিচারকদের রায়কে পাশ কাটিয়ে জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলকে দ্বিতীয় থেকে প্রথম করায় আয়োজক প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়েও সমালোচনার ঝড় উঠে। আয়োজকের এমন কাণ্ডে এরই মধ্যে এই প্রতিযোগিতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জান্নাতুল নাঈম নামের যে প্রতিযোগীকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে, তিনি নাকি বিচারকদের পছন্দের তালিকায় ছিলেন না। যাচাই-বাছাই শেষে বিচারকরা ভোট দিয়ে যাকে প্রথম নির্বাচিত করেন, আয়োজকের নির্দেশে উপস্থাপক তাকে দ্বিতীয় ঘোষণা করতে বাধ্য হন। এমন কাণ্ডে বিস্মিত হয়েছেন গ্র্যান্ড ফিনেলের ছয় বিচারক।

জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের জন্ম চট্টগ্রামের একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এভ্রিলের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ৫নং বরমা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। বাবা তাহের মিয়া। তারা দুই ভাই, দুই বোন। ফোরকান উদ্দিন (৩০), জান্নাতুল আয়শা (২৮), রিয়াজ উদ্দিন (২৬)।

সাড়ে তিন বছর আগে জান্নাতুল নাঈমকে বিয়ে করা মো. মনজুর উদ্দিন রানা বর্তমানে কাপড়ের ব্যবসা করেন। চন্দনাইশ সদরে রয়েছে তার দোকান। এভ্রিল মাত্র ১৪ বছর বয়সেই বাইক চালানো শিখেন। এরপর ধীরে ধীরে মোটরবাইক চালানো তার শখে পরিণত হয়। এ যানকে ঘিরেই চলতে থাকে তার নানা কসরত।

এদিকে, জান্নাতুল নাঈমের বাবা ফেমাস নিউজকে জানান, মেয়েকে বাইক চালানোর বিষয়টি একেবারেই সত্যি নয়। বিয়ের আগ পর্যন্ত বাইকের সঙ্গে তার কোন সম্পর্কই ছিল না।

মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন নৈপুণ্য দেখাতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন তিনি। এভ্রিলের বাইক নৈপুণ্য প্রদর্শনী, বাইক চালানোর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে। সেলিব্রেটি বনে যান তিনি। ফেসবুক ফলোয়ারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯০ হাজারে। বর্তমানে এই মডেল ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের অ্যাক্টিভিটি অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন।

বিয়ের আসরে বর মোহাম্মদ মুনজুর উদ্দিনের সঙ্গে জান্নাতুল নাঈম। ছবি: সংগৃহীত
জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল গণমাধ্যমকে বলেন, মোটরসাইকেল চালানো কিংবা উচ্চতর প্রযুক্তি গ্রহণ করার মতো বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত তিনি। ভবিষ্যতে তিনি বাইক-সম্পর্কিত যেকোনো উদযাপন এবং উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখতে চান। বাংলাদেশের তরুণী-নারী বাইকারদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি বাইক প্রশিক্ষণ স্কুল পরিচালনা করারও ইচ্ছা রয়েছে তার।

এভ্রিল বলেন, ১৪ বছর বয়সে বাবা আবু তাহেরের বাইকেই তার হাতেখড়ি। তবে ওই সময় বাবার এতে সায় ছিল না। কিন্তু বাইকের প্রতি তার ঝোঁক ছিল প্রচণ্ড। তাই মামার কাছ থেকে বাইক চালানো শিখে নেন তিনি। তখন তিনি ডিসকভারি চালাতেন। এরপর সিসির ব্যাপারটা বোঝার পর হাই সিসির দিকে ঝুঁকে পড়েন। ভাইয়ের হোন্ডা সিডিআই ১৫০ সিসি চালাতে শুরু করেন। বাইক চালানোর বিভিন্ন ছবি ফেসবুকে আপলোডের পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, তখন ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের চিফ বিজনেসম্যান সুব্রত রঞ্জন দাস তাকে খুঁজে বের করে কোম্পানিতে কাজ করার প্রস্তাব দেন। ওই কর্মকর্তা তাকে বলেন, তাকে নারী বাইক রাইডারদের আইকন হিসেবে তারা কাজে লাগাতে চান। তার মাধ্যমেই হাইস্পিড বাইকের প্রতি নারীদের আগ্রহী করতে চান।

প্রথমদিকে প্রস্তাবে রাজি না হলেও পরে নারীদের এগিয়ে নেয়ার চিন্তা থেকে তিনি ওই কোম্পানিতে কাজ করতে আগ্রহী হন। ভারতের প্রথম নারী বাইকার ভিনু পালিওয়াল ২০১৫ সালের নভেম্বরে ১৭ হাজার কিলোমিটার বাইক চালিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন জানিয়ে এভ্রিল বলেন, আমি তাকে ছাড়িয়ে যেতে চাই। বিশ্বের অন্যতম সেরা নারী বাইক স্টান্টার ক্রিস্টিনা লি বিলিংসের মতো হতে চাই।

তার সম্পর্কে বন্ধুদের মন্তব্য নিয়ে এভ্রিল বলেন, আমার এই সাহসিকতা, প্রতিবাদী চরিত্র এবং হাইস্পিড মোটরবাইক চালানোর পারদর্শিতার জন্য তারা আমাকে ‘মাফিয়া গার্ল’ হিসেবে ডাকে। তবে এ সম্বোধনে উৎসাহ পান তিনি। সম্বোধনের মাধ্যমে আমাকে সাহসিকতার স্বীকৃতি দেয়।

গত জুলাই মাসে আয়োজক প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ নির্বচনের ঘোষণা দেয়। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫ হাজার আগ্রহী নাম নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্য থেকে কয়েকটি ধাপে বাছাই করা হয় সেরা ১০ জনকে। এই ১০ জন হলেন রুকাইয়া জাহান, জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল, জারা মিতু, সাদিয়া ইমান, তৌহিদা তাসনিম, মিফতাহুল জান্নাত, সঞ্চিতা দত্ত, ফারহানা জামান, জান্নাতুল হিমি ও জেসিকা ইসলাম।

গত শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী হলে এ প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ড ফিনেলে অংশ নেন তারা। যিনি সেরা হয়েছেন তিনি ১৮ নভেম্বর চীনের সানাইয়া শহরে অনুষ্ঠেয় ৬৭তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন।

‘লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনেলের বিচারক ছিলেন জুয়েল আইচ, শম্পা রেজা, বিবি রাসেল, চঞ্চল মাহমুদ, রুবাবা দৌলা ও সোনিয়া বশির কবির। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন শিনা চৌহান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন বিচারক গত শনিবার সকালে কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। তাদের মতে, ‘এটা খুব অন্যায় হয়েছে। আমাদের সবার কাছে যে প্রথম হয়েছে, তাকে প্রথম করা হয়নি। যাকে প্রথম করা হয়েছে, সে আমাদের প্রথম তিনজনের তালিকায়ও ছিল না। যেহেতু এটা একটা আন্তর্জাতিক ইভেন্ট, তাই আমরা এমন একজন প্রতিযোগীকে বাছাই করতে চেয়েছি, যে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারে।

‘আমরা একবাক্যে জেসিকা ইসলামকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নির্বাচিত করি। ওই রাতে যা ঘটল তা আমাদের জীবনে খুব খারাপ একটা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। এত বড় একটা অন্যায় এভাবে হবে, ভাবতেও পারিনি।’

ক্ষুব্ধ বিচারকরা বলেন, ‘আয়োজকরা যদি নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন, তাহলে তো বিচারক হিসেবে আমাদের রাখার প্রয়োজন ছিল না। আমাদের জন্য এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। নাম ঘোষণার ওই মুহূর্তে এত মানুষের সামনে আমরা আয়োজকদের অপমান করতে চাইনি। এখন মনে হচ্ছে, তখন আমাদের এই কাজটি করা উচিত ছিল।’

গ্রান্ড ফিনালের বিতর্ক ও বিচারকদের বিভিন্ন মন্তব্যের বিষয়ে এভ্রিল বলেন, যদি বিচারকদের কথা মূল্যায়ন করা না হত তাহলে এই প্রতিযোগিতায় বিচারকদের রাখার কোনো মানেই হয় না। বিচারকরা জাজ করেই আমাকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। এটাই শেষ। আমার আর কিছু বলার নেই।

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে অন্তর শোবিজ ও অমিকন এন্টারটেইনমেন্ট। বাংলাদেশে এবারই প্রথম ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠান দুটি। অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী এ ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ‘এটা আসলেই একটা মিসটেক (ভুল) হয়ে গেছে।’

তবে ওইদিন বিকেলে একটি লিখিত বক্তব্য সংবাদপত্রে পাঠান স্বপন চৌধুরী। এখানে তিনি বলেন, ‘আসলে দুজনের নাম প্রায় একই হয়ে যাওয়ায় সমস্যাটা হয়েছে। লাইভ টেলিকাস্টের কারণে আমরা হুট করেই জানতে পারি, আমাদের হাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় আছে। তখন তাড়াহুড়ো করতে হয়েছে।



ভারতীয় উপস্থাপক শিনা চৌহান ঠিকঠাক সব চালিয়ে নিলেও মূল নাম উপস্থাপন করতে গিয়ে ভুল করে ফেলেন। এমন ভুল অস্কারের মতো আসরেও হয়। এর পরও আমরা এ ধরনের ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। এটাই চূড়ান্ত ফল, এখানে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।’

এদিকে ৫নং বরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, তার নাম জান্নাতুল নাঈম আমেনা। এলাকায় তার বিয়ে হয়েছিল। তবে সে সংসার বেশিদিন টেকেনি। শুনেছিলাম, একবার চট্টগ্রামের একটি হোটেলে রেড করার পর তাকে আটক করা হয়েছিল। ডিভোর্সের পর আর তার কোনো খোঁজ-খবর জানি না।

জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের বাবা তাহের মিয়া জানিয়েছেন, আমি সিঙ্গাপুরও থাকি না, বড় ব্যবসায়ীও না। আমরা সাধারণ মানুষ। তাকে আমি মেয়ে বলে এখন আর স্বীকারও করি না। তার ভালো-মন্দ কোনো কাজের দায়ভার আমি কোনোদিনই নেব না।

এদিকে এরই মধ্যে জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলকে নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। নিজের পরিচয়-বৈবাহিক অবস্থা গোপন করে মিডিয়াতে এসেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয়। আর এভাবেই পরিচয় গোপন করে পৌঁছে যায় সুন্দরী প্রতিযোগীতায়। ঢাকায় নিজেদের বাড়ি-গাড়ি, বাবা সিঙ্গাপুরে, বড় ভাই বড় ব্যবসায়ী পরিচয় দিলেও অনুসন্ধানে মিলেছে উল্টোটা। তার জন্ম একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে। এখনো খুব অভাব-অনটনে দিন কাটছে তাদের।

বিয়ের আগেই এভ্রিলের চলাফেরা স্বাভাবিক ছিল না। বিভিন্ন ছেলে-বন্ধুর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। বিয়ের পর বেশিদিন সংসার টেকেনি। ঢাকায় এসে মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য গড়ে তোলেন নিজের নেটওয়ার্ক। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির প্রোমোটর হিসেবে নিয়োগ পান।

এদিকে জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলকে তার এলাকার অনেকেই প্রতারক হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রতারণার জন্য তার শাস্তিও দাবি করেছেন। শুধু এলাকারই নয়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তার বাবা স্বয়ং অভিযোগ করেছেন। ৫নং বরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, তার নাম জান্নাতুল নাঈম আমেনা। এলাকায় বিয়ে হলেও সে সংসার বেশিদিন টেকেনি।

বিয়ের আসরে বর মোহাম্মদ মুনজুর উদ্দিন, জান্নাতুল নাঈম ও তাঁর মা। ছবি: সংগৃহীত
তবে বিয়ে নিয়ে গণমাধ্যমকে জান্নাতুল নাঈম জানান, ১৬ বছর বয়সে আমার বাবা জোর করে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। চিটাগাংয়ে একটা নিয়ম আছে, মেয়েরা একটু বেশি সুন্দরী হলে সবাই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে। বিয়ের জন্য ফ্যামিলিকে খুব বেশি ‘প্যারা’ দেয়। এটা চিটাগাংয়ের স্বাভাবিক ঘটনা। তাছাড়া ছোটবেলায় খুব সুন্দরী ছিলাম আমরা দুই বোন। প্রতিবেশীরা সবসময় বাবাকে বলত, আপনাদের মেয়েকে বিয়ে দেন। এগুলোতে প্রভাবিত হয়ে বাবা রাজি হয়ে যান। আমাকে বিয়ের চাপ দেন। আমি খুব বেশি দুরন্ত ছিলাম। আমি নিজের মতো থাকতে চাইতাম। অল্প বয়সে বিয়ের প্যারার মধ্যে ঢুকে যেতে চাইনি। বাবার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ওখান (চট্টগ্রাম) থেকে চলে আসি। আমি স্টাডি করব, নিজের ক্যারিয়ার গড়ব। এখন অ্যাকচুয়ালি বাবার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ফ্যামিলির বাকিরা আমাকে সাপোর্ট দেই।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে সর্বশেষ ২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর ৫১তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তাবাসসুম ফেরদৌস শাওন। ওইবার এ আসর বসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সান সিটিতে। ১৯৯৪ সালে প্রথম মিস বাংলাদেশ অংশ নেন বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায়। তিনি ছিলেন আনিকা তাহের। এরপর ইয়াসমিন বিলকিস সাথী (১৯৯৫), রেহনুমা দিলরুবা চিত্রা (১৯৯৬), শায়লা সিমি (১৯৯৮), তানিয়া রহমান তন্বী (১৯৯৯) ও সোনিয়া গাজী (২০০০) মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

(স্বামীর বক্তব্য এবং বিয়ের বিস্তারিতসহ আগামীকাল পড়ুন তৃতীয় পর্ব)

এ সংক্রান্ত আরও খবর:
‘লাভেলো মিসওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’র প্রতিযোগী কে এই জান্নাতুল নাঈম? (প্রথম পর্ব)

ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম