logo

বিশ্বকবির ৭৭তম প্রয়াণ দিবস আজ

বৃষ্টি নিয়ে অজস্র কাব্যগীতি রচনা করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মানবের সব অনুভূতিকে বারবার খুঁজে ফিরেছেন বর্ষার ফোঁটার মধ্যেই। সেই বর্ষাকে সঙ্গী করে তিনি পাড়ি জমান দৃষ্টি সীমানার ওপারে।

আজ ২২ শ্রাবণ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অনন্য সাধকপুরুষ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম প্রয়াণ দিবস।

বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজন করেছে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এতে একক বক্তৃতা করবেন নাট্যজন আতাউর রহমান। জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে রয়েছে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছায়ানটে রয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান। এ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে।

রবীন্দ্রনাথের পরলোকগমনের মধ্য দিয়ে বাংলাভাষা ও সাহিত্যের সবচেয়ে প্রদীপ্ত নক্ষত্রটি খসে পড়ে। কবিতা-গান-ছোটগল্প-উপন্যাসসহ সাহিত্যের সব শাখাতেই তিনি অবাধ বিচরণ করেছেন। এ ছাড়াও চিত্রকলা ও বিভিন্ন দেশ হিতৈষণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন তিনি। বাংলাভাষা ও সাহিত্যকে তিনি মহিমান্বিত করেছেন, গৌরবশীর্ষ পৌঁছে দিয়েছেন।

তার একক প্রচেষ্টায় বাংলা সাহিত্য বিশ্বসাহিত্য সভায় মূল্যবান আসন লাভ করতে সক্ষম হয়। মানুষের হৃদয়ের আকুতিতে, প্রকৃতির বৈচিত্র্যময়তায় আর জীবন-নদীর বাঁকে তিনি এক জীবন-দেবতার অদৃশ্য ছায় লক্ষ্য করে গেছেন। তাই জীবন-মৃত্যুকে তিনি অলক্ষ্যে কর্মরত সেই জীবন-দেবতার বিপুল রহস্যময় বিষয় বলে মনে করেন।

রবীন্দ্রনাথের ভাষায়- ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর/ আমার মাঝে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর।’ রবীন্দ্র চেতনায় এ দার্শনিক ভাব-ভাবনা বাঙালি চিত্তে সঞ্চার করেছে ঈশ্বরে-মানুষে মহামিলনের আকুতি।

১২৬৮ সনের ২৫ বৈশাখ (১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৮ মে) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, কথাশিল্পী, চিত্রশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, ছোট গল্পকার ও ভাষাবিদ।

বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্য গদ্যসঙ্কলন প্রকাশিত হয়েছে। তার সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সঙ্কলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। ‘গীতাঞ্জলি’কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে তিনি প্রথম এশীয় হিসেবে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি