logo

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১ | ৫ মাঘ, ১৪২৭

header-ad

'কিছু মানুষ শিল্পীদের টাকা দিয়ে কেনা গোলাম মনে করেন’

বিনোদন ডেস্ক | আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শহরের তথাকথিত সংস্কৃতিবান, সঙ্গীতরসিক, সুশীল নাগরিকদের সংগঠন আয়োজিত সঙ্গীতানুষ্ঠান। গত রোববার সেখানে গান শেষ করে মঞ্চ থেকে নামার পরই কর্মকর্তাদের হাতে চরম লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ করেন সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। ফেসবুকে লাইভে সেই হেনস্থার কথা বর্ণনাও করেন তিনি। প্রশ্ন তুলেছেন শিল্পীর স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিয়ে।

ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন অধিকাংশ কৃষ্ণনাগরিক। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও আয়োজক সংস্থা ‘কৃষ্ণনগর সাংস্কৃতিক মঞ্চ’ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইমন দাবি করেন, রোববার মঞ্চ থেকে নামার পর কর্মকর্তারা তার গাড়ি আটকে দেন। তাকে গালিগালাজ করে মাঠের গেটে তালা দিয়ে দেয়া হয়। তুইতোকারি করে তাকে আরও কিছু গান গাওয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়।

কথা না শুনলে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়। বাদ্যযন্ত্র শিল্পীদের ধাক্কাও দেয়া হয়। শিল্পী ও তার সহযোগীদের এভাবে লাঞ্ছিত হতে দেখে শেষ পর্যন্ত জনতা গেট ভেঙে তাদের উদ্ধার করে গাড়িতে তুলে দেন।

ইমনের কথায়, শিল্পীদের টাকা দিয়েছেন বলে কিছু মানুষ তাদের কেনা গোলাম বলে মনে করেন। যেভাবে আমাদের অপমান ও হেনস্থা করা হয়েছে ভাবা যায় না। দর্শকেরা এগিয়ে এসে আমাদের সাহায্য না করলে চরম বিপদ হত।

শহরের প্রায় কেন্দ্রস্থলে কৃষ্ণনগর পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল। আয়োজক মঞ্চের সম্পাদক অনন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কৃষ্ণনগর সাংস্কৃতিক মঞ্চ স্থানীয় পুরসভার আর্থিক সাহায্য পায়। নতুন বোর্ড হয়নি বলে দায়িত্বে রয়েছেন মহকুমাশাসক অম্লান তালুকদার। তিনি খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। প্রাক্তন পুরপ্রধান অসীম সাহা মঞ্চের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। তার খেদ, সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতির পরিচয় দিল সাংস্কৃতিক মঞ্চ। অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা।

রোববার ওই অনুষ্ঠানে থাকা বেশকিছু দর্শক দাবি করেন, গান গেয়ে চলে যাচ্ছিলেন ইমন। আচমকা অনন্ত গাড়ি থামিয়ে দেন। আরও গান গাইতে বলা হয়। অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করা হচ্ছিল। তখন তারা রুখে দাঁড়ান।

দর্শকদের একাংশের পাল্টা দাবি, তারা শুধু কয়েকটি গান শুনতে চেয়েছিলেন। তাতে ইমন দুর্ব্যবহার করেন। সময়ের আগে গান থামিয়ে নেমে যান। এ অভিযোগ অবশ্য ইমন মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

একজন বললেন, অত্যন্ত ন্যক্কারজনক একটি ঘটনা। আমি ইমনের ফেসবুক লাইভটা দেখছিলাম। দেখতে-দেখতে একটা কথাই আমার মনে হচ্ছিল। রাজনৈতিক বাতাবরণটাই এখন এ ধরনের হয়ে গেছে। শিল্পীদের প্রশাসনিকভাবে নিরাপত্তা দিতে আমরা ব্যর্থ।

'আর একটা প্রশ্ন— তাহলে আর গানবাজনা করে কী হল? গানবাজনা তো শিল্পীরা করে থাকেন একটা সুস্থ মানসিকতা তৈরি করার লক্ষ্যে। সেটাই তো তৈরি হচ্ছে না! শিল্পীকে এভাবে অপমান করা হচ্ছে! আমাদের প্রত্যেক শিল্পীর উচিত, এর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে প্রতিবাদ করা। প্রয়োজনে ছয় মাস আমরা আর গাইতেই যাব না। জানি, সেটা পেশাগতভাবে অনেক সময়ে সম্ভব হয় না। কিন্তু শিল্পীদের একজোট হতেই হবে এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে।'

সঙ্গীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্র বললেন, এটা আমার সঙ্গে বা ইমনের সঙ্গে ঘটেছে বলে নয়, অনেক শিল্পীদের সঙ্গেই ঘটে। সকলে মুখ খোলেন না, ভয় পান, অকারণ ঝামেলায় যেতে চান না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিল্পীদের অনুষ্ঠান করতে গিয়ে এমন নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়।

'আমার মনে হয়—‘ইটস হাই টাইম’। প্রতিবাদ করতেই হবে। এখন চুপ করে থাকার সময় নয়। আর একটা বিষয়- আমার ক্ষেত্রেই যেমন দেখেছি, পুলিশ এগিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করেছিল, ইমনের ক্ষেত্রেও কৃষ্ণনগরের সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসেছেন সাহায্য করতে। ভালো মানুষ এখনও আছেন। তাই কিছু খারাপ মানুষের জন্য ভয় পেলে চলবে না। চেষ্টা করতে হবে, যাতে চারপাশে ভালো মানুষের সংখ্যাটা বাড়ানো যায়।'
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম