logo

শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ, ১৪২৭

header-ad
কক্সবাজারে অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে ধর্ষিত নারী

‘মিয়ানমারে পাঠানোর আগে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মিয়ানমানের রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের কষ্টের কথা মন দিয়ে শোনেন হলিউডের এ সাড়া জাগানো অভিনেত্রী। গতকাল মঙ্গলবার কুতুপালংয়ে এক রোহিঙ্গা শিবিরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ধর্ষণের শিকার এক নারীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনেন তিনি।

ওই সময় ওই নারীসহ অন্যরা জোলিকে বলেন, ‘হয় তাদের বাংলাদেশে রাখা হোক, নতুবা গুলি করে মেরে ফেলা হোক। তবু তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবেন না।’ তখন অনেক নারী রাখাইনে ফিরে যাবেন না বলে তাকে জানান। তাদের ফিরে যাওয়ার নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারের বলে জানান জোলি।

বিকেলে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া ক্যাম্প-৫-এ প্রেস ব্রিফিংয়ে জোলি বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি- মিয়ানমারে অসংখ্য নারী-পুরুষ সেনা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখনো তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। তারা জানিয়েছেন, ‘হয় তাদের বাংলাদেশে রাখা হোক, না হয় গুলি করে মেরে ফেলা হোক।’

তিনি বলেন, ‘এখন সবার দায়িত্ব হলো রাখাইনে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যেন তাদের ফেরত না পাঠানো হয়। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও অন্য সুবিধা দেয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

জোলি বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০১৭ সালের আগস্টের পর সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এখনো মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা আসছেন। বাংলাদেশ উদার হস্তে এসব রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করছে, যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় এবং মানবতার জন্য অনন্য এক দৃষ্টান্ত।’

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা খুবই অসহায়। এসব মানুষ শুধু বাস্তুচ্যুতই হয়নি; তারা এখন রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বসহ অন্যান্য মৌলিক অধিকারকে অগ্রাহ্য করছে।’

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি