logo

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩ পৌষ, ১৪২৪

header-ad

সদরঘাট এখন অনেক ফিটফাট : জ্ঞান রঞ্জন শীল

মাহতাব শফি | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০১৭

 BIWTC Chairman Engineer Dr. Gyanaranjan Shil
একজন নিষ্ঠাবান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বিভিন্ন দফতরে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। মিষ্টভাষী এই কর্মকর্তা এখন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ২০তম চেয়ারম্যান। প্রকৌশলী ড. জ্ঞান রঞ্জন শীল এর আগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

সড়ক ও জনপথ বিভাগে ২২ বছর কাজ করেছেন তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, নন ফরমাল এডুকেশন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন আইআরডি, বেপজা এবং বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (প্রশাসন) ও পরিচালক (কারিগরি) পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গত সোমবার তার মুখোমুখি হন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি মাহতাব শফি। বিআইডব্লিউটিসির বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

ফেমাজনিউজ : নৌ পথে সতর্কতা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা ঘটে, এবার কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?

জ্ঞান রঞ্জন শীল : গেল ঈদের মত এবারও কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না। আশা রাখি দুর্ঘটনামুক্ত থাকবে। গতবার সতর্ক থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেনি। এবারও ঈদের সময় যাত্রী পরিবহনে আমরা বাড়তি নিরাপত্তা ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। আমাদের সমস্যা ছিল পুরাতন জাহাজ স্টিমার নিয়ে। এবার আমরা পুরাতন জাহাজ, লঞ্চ, ফেরিগুলো মেরামত করছি। ঈদের আগেই সব ডকইয়ার্ড থেকে চলে আসবে।

‘পাটুরিয়া ঘাটে ১৯টি ফেরি থাকবে। মাওয়াঘাটে থাকবে ২০টি। আগে ১৯টি ছিল এখন ১টা বাড়বে। ঈদের আগে ডকইয়ার্ডে কোনো জাহাজ ফেরি থাকবে না। আমরা সব ফেরি লঞ্চ জাহাজ স্টিমারের সংস্কার কাজ শেষ করবো। কাজ করছি। ঘাটেও কোনো সমস্যা থাকবে না।’

ফেমাজনিউজ : বন্যা চলছে, অনেক নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাড়তি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কি?

জ্ঞান রঞ্জন শীল : সেটি বিবেচনায় রেখে নৌযানের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে যাত্রীদেরও অতিরিক্ত সাবধানতা নিয়ে চলাচল করতে হবে। এবার কিছুতেই ফিটনেসবিহীন লঞ্চ ও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনো নৌযান চলাচল করতে দেয়া হবে না। বিশেষ করে সময়মতো নৌযান ছাড়া ও গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা নেয়া হয়েছে।


‘এছাড়াও বন্যার কারণে দেখা যায় পাটুরিয়া ঘাট ভেঙে যায়। ঘাট ভেঙে গেলেও যেন ঘরমুখো মানুষের কোনো ধরনের ভোগানি না হয় তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমরা পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শন করেছি। এক্ষেত্রে বিকল্প ঘাট করার প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা বিকল্প ঘাট বানাচ্ছি। ভাঙাঘাট সংস্কার করে নতুন ঘাট করছি। সেইসঙ্গে ওয়াটার বোটও থাকছে’।


‘বন্যা প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এখানে কারো হাত নেই। এটা থাকবে। তবে আমাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে, যতটুকু দায়িত্ব তার সর্বোচ্চটা দিয়েছি। ফেরি দিয়ে দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে যাত্রী পারপার করবো বিনা পয়সায়।

ফেমাজনিউজ : ঘাট নিয়ে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে আপনি কি বলবেন?


জ্ঞান রঞ্জন শীল : বিআইডব্লিউটিসি কিন্তু ঘাট রাখা না রাখা তা দেখবে। তবে ঘাট মেনটেইনেন্স পার্চেস ডিপার্টমেন্টে দুর্নীতি তুলনামূলক কম। আমরা অনেক কাজ বরাদ্দের অভাবে করতে পারি না। মাওয়াঘাটে অর্থাভাবে কিছু কাজ হচ্ছে না। বাংলাদেশ আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের যে প্রকল্প ছিল তা করতে পারছে না টাকার অভাবে। শিমুলিয়ায়ও। অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রজেক্টটা এখনও পাস হয়নি। তবে কাজ শুরু করে দিয়েছি। নৌবাহিনী দিয়ে কাজটি করছি, কোনো অর্গানাইজেশনকে দিয়ে করাচ্ছি না। এখন ড্রেজিং করছে নৌবাহিনী। যেহেতু নৌবাহিনী করছে তাই দুর্নীতির পরিবর্তে বরং স্বচ্ছতা আরো বেশি আসবে।

ফেমাজনিউজ : ঈদ মৌসুমে নৌ দুর্ঘটনার কারণ অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, এ ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন?

জ্ঞান রঞ্জন শীল : দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বেশি সতর্কতা নেয়া হয়েছে। এবার ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ চলতে দেয়া হবে না। সেগুলো কোনো ঘাটে ভিড়তে পারবে না। যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে, সে জন্য নৌপথে বিশেষ টহল থাকছে।
আমরা বলছি নিরাপত্তার স্বার্থে। ঈদের সময় দেখা যায় বেশি লোক আসা-যাওয়া করে।

‘তারপরও আমরা সতর্ক থাকবো লঞ্চের ধারণক্ষতার অতিরিক্ত যাত্রী যেন কেউ নিতে না পারে। আমরা চেষ্টা করি নিরাপত্তা দিতে। তারপরও মানুষ যায়। ওভারলোডের জন্য নরজরদারি আছে। তারপরও মানুষকে সচেতন হতে হবে। মানুষ আগে যেতে চায়, মানুষকে নিষেধ করা হলেও শুনে না। সবারই মানসিকতা থাকে আগে যাওয়া তা মানুষকে বাদ দিতে হবে। এক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সচেতনা বৃদ্ধির জন্য প্রচার করতে হবে। এবার আমরা সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।

ফেমাজনিউজ : নৌপথে স্টিমার অনেকটা নিরাপদ কিন্তু যাত্রী পাওয়া যায় না কেন?

জ্ঞান রঞ্জন শীল : হ্যাঁ, স্টিমারে অনেকটা নিরাপদ। লঞ্চ মালিকদের যে সংগঠন আছে তারা চায় না সরকারিভাবে যাত্রী পারাপার হোক। ওদের নিয়োজিত কিছু দালাল আছে যারা যাত্রীদের ধরে জোর করে লঞ্চে নিয়ে যায়। দালালরা যাত্রীদের স্টিমারের কাছে যেতেই দেয় না। আর আমরা তো মাইকিং করতে পারি না বিভিন্ন কারণে। আমাদের যে জাহাজ আছে তাতে সর্বোচ্চ দুই শতাংশ যাত্রী পরিবহন করতে পারি। কিন্তু বেসরকারি লঞ্চ মালিকদের আছে শত শত লঞ্চ, তাদের উপরেই ভরসা ৯৮ শতাংশ যাত্রীর। আর আমরা যাত্রী হিসেবে সচেতন না। এজন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ফেমাজনিউজ : দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ উদ্ধারে আপনাদের কি ধরনের ব্যবস্থা আছে?

জ্ঞান রঞ্জন শীল : উদ্ধারের বিষয়টা হল যেটা ডুবলো সেটার কেপাসিটি কত, আর আমাদের কি কেপাসিটি আছে- তার ওপর নির্ভর করে। দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান উদ্ধারকাজের জন্য ১৯৭৪ সাল থেকে ছিল হামজা ও রুস্তম নামে দু’টি জাহাজ। ওই দুটির প্রতিটির ক্ষমতা ছিল ৬০ টন। এরপর ২০১৩ সালে নির্ভীক ও প্রত্যয় নামের জাহাজ দুটির জাহাজ আনা হয়। যাদের মিলিত ক্ষমতা ৫০০ মেট্রিক টন। নির্ভীক ও প্রত্যয় নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে রাখা হয়। আর হামজা ও রুস্তম মাওয়া ও চাঁদপুরে। আমাদের চলাচলকারী লঞ্চের সংখ্যার তুলনায় উদ্ধারকারী চারটি জাহাজ পর্যাপ্ত না। সেই সঙ্গে আমাদের লোকবল পর্যাপ্ত নেই। তাছাড়া আমাদের এখানে ডুবুরির সংখ্যা কম। আমাদের লোকবল দরকার আরো। তবে যার যে কাজ তাকে দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে।

ফেমাজনিউজ : এখানে কাজ করতে আপনার কেমন লাগছে?

জ্ঞান রঞ্জন শীল : বিআইডব্লিউটিসিকে আমি ওন করি। সবাইকে আমি কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নৌ সেক্টরে অনেক উন্নতি হয়েছে। আমরা নতুন জাহাজ পেয়েছি, নতুন ফেরি বানানো হচ্ছে, যা আগেই কেউ চিন্তা করেনি। সদরঘাট এখন অনেক ফিটফাট। ওয়াটার বাসগুলো চালানোর জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু নদীর নাব্যতা যদি না থাকে তাহলে আমরা কীভাবে চালাবো? বুড়িগঙ্গা দূষণ বন্ধ করতে হবে। নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না মানসিকতার পরিবর্তন আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ হবে না। এ জন্য সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। পরিশেষে সবার জন্য ঈদযাত্রা সফল হোক-এই কামনা।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম