logo

সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭ | ৭ কার্তিক, ১৪২৪

header-ad

‘আমি আর কোন বক্তব্য দেব না’

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০১৭

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে শোকের এবং রক্তাক্ত ও কলঙ্কিত দিন। ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল। তাকে হত্যা এবং আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে চালানো হয় বর্বরোচিত এ গ্রেনেড হামলা। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। শেখ হাসিনাসহ ৫ শতাধিক মানুষ আহত হন। সেদিন বেঁচে গেলেও স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
 
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এবং দেশের রক্তাক্ত ও কলঙ্কিত দিনকে তুচ্ছ এবং স্বাভাবিক ঘটনা বলায় বিপাকে পড়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
গত সোমবার ৭১ টিভিতে দেয়া এক স্বাক্ষাতকারে বিএনপির এই বয়োজেষ্ট্য নেতা বলেছেন, “২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা একটি দুর্ঘটনা। এটা কোনো ক্ষতই না। পৃথিবীর অনেক দেশে এরকম ঘটনা ঘটে। এটা নিয়ে পৃথিবীর কোনো জাতি এত কান্নাকাটি করেনি।”
 
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এমন বক্তব্যের পর আওয়ামী যুবলীগের পক্ষ থেকে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপির এ বয়োজেষ্ট্য নেতাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। এসময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার ও দুঃখ প্রকাশ না করলে মোশাররফকে সারা দেশে অবাঞ্ছিত ঘোসণা করবে যুবলীগ।
 
যুবদলের চেয়ারম্যনের এমন হুশিয়ারির পর বৃহস্পতিবার রাতে ২১ আগস্ট বোমা হামলার ঘটনা নিয়ে দেয়া বক্তব্য গণমাধ্যমে খণ্ডিতভাবে এসেছে আর তাতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে দাবি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এসময় ২১ আগস্টের বোমা হামলার ঘটনাকে ‘জঘন্যতম’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘২১ আগস্টের জঘন্যতম ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি ৭১ টেলিভিশনে আমি যে কথা বলেছি, কর্তৃপক্ষ তা কিছুটা খণ্ডিতভাবে প্রচার করে।
 
তবে বিএনপির এই নেতার দুঃখ প্রকাশ করার পরেও বৃহস্পতিবার রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল মিলনায়তনে শোক দিবসের আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিএনপির এই নেতাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। 
 
দুঃখ প্রকাশ করার পরেও আবার ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ফেমাস নিউজ টুইন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা তাদের রুচি। আর কিছু বলতে চাইনা।”
 
এর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ বা আবার কোন বক্তব্য দিবেন নাকি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, আমি আর কোন বক্তব্য দিব না।” 
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বয়োজোষ্ট্য এই নেতা তার বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করার পরেও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আবারো কেন তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হলো জানতে চাইলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগে সহ-সভাপতি চৈতালী হালদার চৈতী বলেন, “২১ আগষ্টের ঘটনা একটি মর্মান্তি এবং হৃদয়বিদারক। এই ঘটনায় সারা জতি শোকহত। তার পরেও উনার মত একজন সিনিয়র নেতৃত্ব একজন ডক্টরেট ব্যাক্তি। উনি কিভাবে বললো আসলে এটা আমার বোধগম্য নয়। এধরণের ঘটনা উনারা বারবার ঘটায়। এর আগেও টুঙ্গি পাড়ায় আপার জন্য বোমা পুতে রাখা হয়েছিল। এধরণের ঘটনা উনারা করেই থাকেন। সুতরাং এটা হতেই পারে। এ নিয়ে এতো বাড়াবাড়ি করার কি আছে।”
 
তিনি বলেন, “আমরা এ ধরণের কথা খুবই আশাহত হই যে আমাদের বাংলাদেশের রাজনীতির কালচারটা কি আসলে এই দিকে যাবে? আমরা তরুণ প্রজন্ম এধরণের রাজনৈতিক কোন দলকে বাংলাদেশে চাই না।” 
 
ফেমাসনিউজ২৪/এমএইচ/আরকে