logo

শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৭ আশ্বিন, ১৪২৪

header-ad

কোন দিকে যাচ্ছে বিএনপি!

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর ক্ষমতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। ক্ষমতা না থাকায় দলটি হারিয়েছে তার প্রকৃত জৌলুস। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রত্যেকটি পদক্ষেপেই হোঁচট খেয়েছে দলটি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, ক্ষমতাসীনদের অগণতান্ত্রিক মনোভাব, একইসঙ্গে বিরোধী মতকে সহ্য না করার মনমানষিকতার কারণেই সভা-সমাবেশসহ রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি করতে পারছে না বিএনপি। সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে অনেকটা অসহায়বোধ করে দলটির নেতাকর্মীরা। ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই সরকারকে চাপে রাখতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে দলটি। তবে অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছে।

সম্প্রতি ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়ের পর্যবেক্ষণে সরকারের ক্ষমতায় থাকার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সেটিকে পুঁজি করে সরকারের ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়াকে অবৈধ দাবি করে সরকার পতনের দাবি করে আসছে বিএনপি। তবে সে দাবিকে জোরালো করতেও ব্যর্থ হয় দলটি।

একের পর এক কৌশল কাজে না আসায় আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে সহায়ক সরকারের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে বিএনপি। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয় এমন বক্তব্য দলের সিনিয়র নেতাকর্মীরা দিলেও সম্প্রতি তাদের বক্তব্যের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।

BNP
সহায়ক সরকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকলেও তাকে ছুটিতে থাকতে হবে বলেও বক্তব্য দিচ্ছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। তবে সবই হবে সমঝোতা এবং আলোচনার মাধ্যমে বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক দল। বিএনপি চায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন। নির্বাচনকালীন সময়ে দলীয় সরকার থাকলে সে নির্বাচন কখনেই সুষ্ঠু হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকলে তার পক্ষে চুপ করে থাকা সম্ভব নয়। তাকে ছুটিতে যেতে হবে। তবে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মাধ্যমেই সমাধান হবে। কিন্তু দুঃখজনক সেই পরিবেশ হচ্ছে না।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সংলাপে বসতে চায় না। তারা মনে করছেন, সংলাপ হবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে, বিএনপির সঙ্গে নয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়। সংলাপ হবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। সহায়ক সরকারের উল্লেখ সংবিধানে নেই।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গণতান্ত্রিক পন্থায় আলোচনা এবং সংলাপের মাধ্যমে দেশের চলমান রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে চায়। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পরে সরকারের বৈধতা নিয়ে কোনো মামলা নয় আলোচনা চায় দলটি।

একইসঙ্গে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে সহায়ক সরকারের রুপরেখা দেবে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তবে সবকিছুর সিদ্ধান্তই নিতে চায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে। কেন্দ্রীয় নেতার আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে সমাধান চায় না।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের থেকে ভিন্নরকম ভাবছে দলটির তৃণমূল বিএনপি। আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করতে হবে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের শুধু সংলাপের ভাবনায় অনেক তৃণমূল নেতারই প্রশ্ন- কোন দিকে যাচ্ছে বিএনপি?

দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, সরকারের উদ্দেশ্যে সবরকম অপশনই দেয়া রয়েছে। সমঝোতা-আলোচনা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে হবে নয়তো আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম