logo

শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪

header-ad

অসহায় আরাকান বিদ্রোহিরা

আদম মালেক | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আরাকান বিদ্রোহিরা অসহায়। তাদের সক্ষমতা স্বল্প। তারা তেমন প্রশিক্ষিত ও সংগঠিত নয়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মোকাবেলায় তারা অনেকটা নিরস্ত্র। তাদের মিত্ররা দ্বিধাগ্রস্থ। দু একটি দেশ অন্যরা গা বাঁচিয়ে কথা বলেন। যেন ধরি মাছ না ছুঁই পানি। ইতোমধ্যে বিদ্রাহিরা অস্ত্র বিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবটি আমলে না নিয়ে রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ জঙ্গিরা। এ জন্য রোহিঙ্গাদের মুক্তি সংগ্রামী আরাকান বিদ্রোহিরা ক্রমেই কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, রোহিঙ্গাদের প্রতিপক্ষ মিয়ানমার সেনাবাহিনী আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। তাদের অস্ত্র সরবরাহ ও অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিশ্বের অনেক পরাশক্তির সঙ্গে বিশ্ব শান্তির বিষফোড়া ইসরাইল। এদিকে আরাকান বিদ্রোহিদের পাকিস্তানের প্রশিক্ষণ ও সৌদি আরবের সামান্য অর্থায়ন ছাড়া তেমন কোনো প্রস্তুতি নেই বলে জানা যায়। তাছাড়া বিদ্রোহিদের সন্ত্রাসী ঘোষণা দিয়ে মিয়ানমারের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে অনেক বিশ্বমোড়ল। বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র রাখাইন সহিংসতায় উদ্বেগ জানালেও ঐ সহিংসতার জন্য আরাকান বিদ্রাহিদের এই সংঘাতের জন্য দায়ি করে। আরেক পরাশক্তি চীনও রাখাইন সংঘাতের জন্য আরাকান বিদ্রোহিদের আসামির কাঠগড়ায় দাড় করায়। দেশটি রোহিঙ্গা গণহত্যায় নিন্দা না জানালেও মিয়ানমারের সেনা চৌকিতে হামলায় জন্য আরাকান বিদ্রোহিদের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। চীন রোহিঙ্গা বিরোধী অভিযানে মিয়ানমারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আহ্বান করেন। এ পরিস্থিতি আরাকান ব্রিদ্রোহিরা আরও হতাশ ও আতঙ্কিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

জনন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক কাজি ফারুক হোসেন ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আন্তজাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের প্রশ্নে তেমন সোচ্চার নয়। এ জন্য রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন চলছে। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের কল্যাণে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। এ জন্য তিনি শান্তি পুরস্কার পাওয়ার দাবিদার।

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ হুকাবি স্যান্ডার্স,বার্মিজ সামরিক স্থাপনায় হামলা ও এর প্রতিক্রিয়ায় লাগামহীন প্রাণঘাতী জাতিগত সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বার্মার (মিয়ানমার) চলমান সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

হামলার জন্য অভিযুক্ত আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও জাতিগত সহিংসতার জন্য অভিযুক্ত মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কারো নাম উল্লেখ না করেই মার্কিন তিনি বলেন, আমরা ওই হামলা ও পরবর্তী সহিংসতার নিন্দা জানাই।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত মা ম্যানকিং মিয়ানমারের সহিংসতার জন্য রোহিঙ্গাদেরই অনেকটা দায়ী করেছেন । রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে গণহত্যার নিন্দা না জানালেও দেশটির পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু বলেও মন্তব্য তার।

এদিকে চীন মিয়ানমারের এই ‘কর্মযজ্ঞে’ সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং বলেছেন বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখতে যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে আমাদের সমর্থন রয়েছে। আমরা আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব সেখানে শৃংখলা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসবে। তিনি আরো বলেন, জাতীয় উন্নয়নের জন্য মিয়ানমার তার স্থিতিশীলতার সুরক্ষা নিয়ে কাজ করছে। এ জন্যই তাদের প্রচেষ্ঠা। মিয়ানমারের এই প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি।

মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার ঘটনায় দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। মিয়ানমারে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, রাখাইনের সংঘাত নিয়ে মিয়ানমারের মতই উদ্বিগ্ন ভারত। তবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের গৃহিত পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন রয়েছে ভারতের। ভারত ও মিয়ানমার নিশ্চিত করছে যে, তাদের দেশে সন্ত্রাসের শিকড় গাড়তে দেয়া হবে না। প্রতিবেশী দেশে নাশকতা চালানোর জন্য সন্ত্রাসবাদীদের লালনও করবে না বলে মিয়ানমার সরকারের উপদেষ্টা অং সান সূচি।

মিয়ানমারকে চাপ দিতে ১১ সেপ্টেম্বর সংসদে প্রস্তাব পাশ হলেও কোন নিন্দা প্রস্তাব পাশ হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার কক্সবাজার শরনার্থী শিবির পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরা পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো হলে তা বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেছেন সরকারপ্রধান।

মিয়ানমারের প্রতি চাপ প্রয়োগ প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন,মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা চাট্টিখানি কথা নয়। মালদ্বীপ ছোট দেশ। তারা পেরেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া চাট্টিখানি কথা নয়।’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা হচ্ছে মিয়ানমারের, মিয়ানমারের সমস্যা নিয়ে সরকারের এত মাথা ব্যাথার কি কারণ আছে। মানবিক কারণে যতটুকু করণীয় সরকার ততটুকো করছে। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা সমস্যায় পড়লেই আমরা তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করি। কিন্তু বার বার কি রোহিঙ্গাদের সহায়তা করা সম্ভব?’ আমাদের সম্পদেরও তো একটা হিসাব আছে।’

ফেমাসনিউজ২৪/এএম/এমএইচ/অারকে