logo

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩ পৌষ, ১৪২৪

header-ad

একটি ইস্যুর সমঝোতা হলে কেটে যাবে রাজনৈতিক সংকট!

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংকট দেখা দিয়েছে। একটি বিষয়ে সমঝোতা হলেই সংকটের সমাধান হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের সুরাহা হলে সংকট কেটে যেতে পারে। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে বিএনপি যে দাবি তুলেছে আলোচনার মাধ্যমে একটা সমঝোতায় পৌঁছলে দেশের চলমান সংকট নিরসন সম্ভব। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের স্বার্থে নমনীয় হতে হবে। বসতে হবে এক টেবিলে, যেখানে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকারের একটা পথ বেরিয়ে আসতে পারে।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকার সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে নির্বাচন দেয়। এর পরেই ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচন তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হয়। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় দলীয় সরকারের অধীনে। এরপর থেকেই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে নামে বিএনপিসহ দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয় সংকট।

বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সবার অংশগ্রহণের যে প্রস্তাবনা দিয়েছে তার প্রধান দাবিই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে এসে সহায়ক সরকারের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। দলীয় সরকার অর্থাৎ শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না।


নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা-সংলাপের দাবি জানিয়ে আসছেন বিএনপি নেতারা। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ বের করতে সরকারের প্রতি আহবানও জানিয়েছে বিএনপি। নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে না হলে সে নির্বাচন কখনই সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হবে না। দলীয় সরকারের অধীনে প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে না। বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার মূল সর্তই সহায়ক সরকার। এ সংকট সমাধান হলে আর তেমন কোনো সমস্যা আগামী নির্বাচনকে ঘিরে থাকবে না বলেও সূত্রে জানা গেছে।

তবে আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো নির্বাচন করবে না আওয়ামী লীগ। সংবিধাননের নিয়ম অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে দলীয় সরকারের অধীনে। অর্থাৎ শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে নির্বাচন কমিশন নয়, বড় দুটি রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্য দলের নেতাদের সাথে আলোচনায় বসতে হবে। একইসঙ্গে একটা বিষয়ে সমঝোতায় আসতে হবে। তাদের মতে, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের বিষয়ে সমঝোতায় প্রধান বাধা।

এটিকে আমলে নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনাই সমস্যার মূল সমাধান। আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনকে যে প্রস্তাবনা দিয়েছে তার মধ্যে নির্বাচনকালীন নিরদলীয় সহায়ক সরকার নিয়ে সমঝোতা হলেই একাদশ নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ হবে।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরকারের নেতিবাচক বিষয় বাদ দিয়ে পজিটিভ রাজনীতি করতে হবে। দেশের মানুষের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা বলি না বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া হোক। কিন্তু জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। আর তা কেবল নির্বাচনকলীন সহায়ক সরকারের পক্ষেই সম্ভব।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। গণতান্ত্রিকভাবেই সব সমস্যা সমাধান হোক এটা চাই। এ জন্য আমরা সরকারকে বারবার বলছি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনায় বসতে। সরকার যদি শেষ পর্যন্ত না বসে তবে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। বিএনপি সেটার জন্যও প্রস্তুত আছে। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আন্দোলনেও পিছপা হবে না বিএনপি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিএনপি যে দাবি করছে তা কখনই মেনে নেবে না আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচন হবে দলীয় সরকারের অধীনেই। বিএনপি এখন যতই লাফালাফি করুক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার অধীনেই অংশ নেবে বিএনপি। তবে প্রধানমন্ত্রী চাইলে নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে সংলাপ বা আলোচনা হতেও পারে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম