logo

মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫

header-ad
সালতামানি

বিএনপির রাজপথে নামার বছর!

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম বিএনপি হলেও দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর নেই ক্ষমতায়। ক্ষমতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত এ দলটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের জনপ্রিয়তা জানান দিতে রাজপথে এ বছর। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরে যে কয়বার সুযোগ পেয়েছে প্রতিবারই নেতাকর্মীদের ঢল নামিয়েছে রাজপথে।

তবে জাতীয় দিবসগুলো বা দলের বিশেষ দিনে সভা-সমাবেশ করতে চাইলেও প্রতিবারই অনুমতির জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। বেশিরভাগ সময়ই অনুমতি না পেয়ে স্বল্প পরিসরে চার দেয়ালের বদ্ধঘরেই সভা-সমাবেশ করেছে দলটি। এছাড়া দলের পক্ষ থেকে সারাদেশে প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের ঢাক দিলেও বছরজুড়ে রাজপথে তেমন কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপি।

রাজপথে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢল নামানো শুরু হয় এ বছরের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে। মহান স্বাধীনতা দিবসে রাজধানীতে শোভাযাত্রা বের করে বিএনপি। রাজধানীর নয়পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর মোড় পর্যন্ত এ শোভাযাত্রায় যোগ দিতে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। দীর্ঘদিন পর বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে এত বিপুলসংখ্যক উপস্থিতি ছিল যা লক্ষ্য করার মতো। সেদিন বিকেল সোয়া তিনটায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। তবে সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন, ঢাক-ঢোল, হাতি, ঘোড়া, গণতন্ত্রের কফিন, মাটিতে রোপণ করা ধানগাছ, রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ের প্রতীকী ছবিসহ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বড় বড় প্রতিকৃতি নিয়ে স্বাধীনতা দিবসের রঙে নিজেদের রাঙিয়ে নেতাকর্মীরা অংশ নেন শোভাযাত্রায়।

এর পরে দীর্ঘ সাত মাস বিএনপি রাজপথে তেমন কোনো কর্মসূচি দেখাতে পারেনি। রাজপথে বা কোনো সভা-সমাবেশেও নেতাকর্মীদের ঢল চোখে পড়েনি। এ বছরে দ্বিতীয়বারের মত রাজপথে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল নামে চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার দিন। দীর্ঘ ৩ মাস পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এসময় খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরের বাইরে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের ঢল নামে। হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বনানীর রেডিসন ব্লু হোটেল পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। বেগম খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে এদিন দুপুর থেকে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। বিকেল নাগাদ রাজধানীর এই ব্যস্ততম বিমানবন্দর সড়কে মানুষের চাপে পুরো রাজধানী জ্যামের নগরীতে পরিণত হয়।

খালেদা জিয়া দেশে ফিরেই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থা দেখতে এবং তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের যান। চারদিনের সফরে ২৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় গুলশানের বাসা থেকে রওনা হন খালেদা জিয়া। এর পরে ফেনীর সার্কিট হাউজে যাত্রাবিরতি করে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাতে অবস্থান করেন তিনি। সড়কপথের যাত্রায় বেগম খালেদা জিয়ার বহরকে স্বাগত জানান দলীয় নেতাকর্মীরা। খালেদা জিয়াকে একনজর দেখতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে বিভিন্ন পয়েন্টে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন নেতাকর্মীরা। এসময় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মিছিল স্লোগানে সরব হয়ে ওঠে মহাসড়ক এলাকা। যাত্রাপথে রাজধানীর নয়াপল্টন, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, সিদ্ধিরগঞ্জ, কাঁচপুর, সোনারাগাঁও এলাকায় যানজটে গাড়ির গতি কমলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন বেগম খালেদা জিয়া।

পরদিন সকালে সড়কপথে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন বিএনপি প্রধান। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের পথে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে স্বাগত জানাতে সেসময় কর্ণফুলী, পটিয়া, চান্দনাইশ, সাতকানিয়ার পথে পথে বিপুল সংখ্যক বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশেই জড়ো হয়েছিলেন। রাজপথে নেমেছিল বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল।

বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চাইলে অনুমতির জন্য একের পর এক তারিখ পরিবর্তন করে বিএনপি। ১২ নভেম্বর বেশকিছু শর্তে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়। সমাবেশের দিন ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীদের ঢল নামে উদ্যানে। দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিছিল নিয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢলে জনসমুদ্রে পরিণত হয় সোরওয়ার্দী উদ্যান। এ সমাবেশেই ১৯ মাস পর প্রকাশ্য বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

এবছরের সবশেষ বিএনপি নেতাদের রাজপথে ঢল নামে বিজয় দিবসের র‌্যালিতে। বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর রাজপথে নামতে না পারলেও ১৭ ডিসেম্বর বিজয় র‌্যালি করে দলটি। নয়পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে র‌্যালিটি শুরু করে মালিবাগ মোড় ঘুরে আবারো পল্টনের দিকে এসে শেষ হয়। এ র‌্যালিতেও উপস্থিতির জানান দেয় দলটি। জাতীয় পতাকা, নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন-রঙিন বেলুন নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক অংশ নিয়ে জনসমুদ্রে পরিণত করেন বিএনপির এই বিজয় র‌্যালি।

তবে নতুন বছরে নতুনভাবে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ২৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দলের এক সমাবেশে অংশ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি ঐক্যের আহবান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আগামী দিনে যে কর্মসূচি আসবে সে কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আন্দোলন ও নির্বাচন দুটোর জন্যই প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এর আগে সোহরাওয়ার্দীর এক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আগামী বছরটা জনগণের। দেশ থেকে ২০১৮ সালে সব জুলুম-অত্যাচার অবিচার বিদায় নেবে। বছরটি হবে জনগণের বছর।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম