logo

বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩০ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

রাজধানীতে জবাই হওয়া মহিষের মাংস যায় কই?

বাকি বিল্লাহ | আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ২শ’র বেশি মহিষ জবাই হচ্ছে। কিন্তু মাংস বিক্রেতাদের কাছে মহিষের মাংস পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি ঢাকার অধিকাংশ গুরত্বপূর্ণ স্থানে গরুর মাংস বিক্রি করতে দেখা গেলেও সে হারে মহিষের মাংস বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে না। অথচ রাতের সড়ক বলছে অন্য কথা। প্রায়শই দেখা যায়, দলবেধে পশু সড়ক ধরে যাচ্ছে। সেখানে মহিষের পাল দেখা যাচ্ছে। অথচ বিক্রির সময় (এক-দুজন ব্যাতিক্রম ছাড়া) রাজধানীর কোনো বিক্রেতাই বলছে না এটি মহিষের মাংস। 

সিটি করপোরেশন নির্ধারিত পশু জবাই স্থান রাজধানীর কাপ্তান বাজার ঘুরে জানা যায়, এ বাজারে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১শ’র বেশি মহিষ জবাই হয়। পরে তা রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে পাঠানো হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাবতলি পশুর হাটসহ আরো কয়েক স্থানে মহিষ জবাই করা হয়।

মহিষের মাংস বাজারে কম পাওয়া যায় কেন এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে কাপ্তান বাজারের মাংস বিক্রেতা মো. সেলিম জানান, মহিষের মাংস হোটেলগুলোতে বেশি ব্যবহার করা হয়। খুচরা বাজারে মহিষের মাংসের চেয়ে গরুর মাংসের চাহিদা বেশি।

ঢাকার জনপ্রিয় ফারস হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানায়, আমাদের হোটেলে মহিষের মাংস পরিবেশন করা হয় না। আর অন্য কোনো হোটেলে মহিষের মাংস পরিবেশন করা হলেও এ বিষয়ে আমাদের জানা নেই।

বাংলাদেশ মাংস বিক্রেতা সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা প্রায়ই এ ধরনের অভিযোগ শুনি। তবে হাতেনাতে এমন বিক্রেতা ধরা পরলে বা কোনো বিক্রেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নিই। অনেক ব্যবসায়ীকে শাস্তিও দিয়েছি।

তিনি জানান, গরুর মাংস বলে মহিষের মাংস বিক্রির ঘটনা আগে বেশি দেখা যেত। এখন মানুষ বেশি সচেতন। তাই খুব বেশি এরকমের ঘটনা ঘটে না।

এদিকে কাপ্তান বাজারে মহিষের মাংস বিক্রেতা মো. সুমন বেপারী জানান, নিয়মিত যারা মহিষের মাংস কেনে, তারা তার দোকান চেনেন। এ ছাড়াও সবার কাছে মহিষের মাংস বিক্রেতা হিসেবে তার পরিচিতি আছে। তিনি আরো জানান, তিনি পাইকারি ও খুচরাভাবে মহিষের মাংস বিক্রি করেন।

সুমন বেপারীর কাছে মাংস বদল করে বিক্রি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি এমন কাজ করেন না। তবে শুনেছেন অনেক খুচরা বিক্রেতা বেশি লাভের আশায় এমনটি করে থাকেন।

কাপ্তান বাজারে মাংস কিনতে আসা চাকুরিজীবী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আমি মাংস দেখে যাচাই করে কিনে থাকি। আপনি দেখবেন, গরুর মাংসের তুলনায় মহিষের মাংস বেশি লালচে হয়। এ ছাড়াও মহিষের মাংসের আঁশ বেশি ও শক্ত হয়।

তিনি আরো বলেন, মাংস কিনতে যেয়ে তার সন্দেহ হলে সেখান থেকে তিনি মাংস কেনেন না। এ ছাড়াও তিনি তার পরিচিত দোকান থেকে মাংস কিনে থাকেন।

অবশ্য সবাই জাহাঙ্গীর হোসেনের মতো এমনটা করেন না, করার সক্ষমতাও অর্জন করেন না। তারা চান এমন প্রতারণার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।  

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ