logo

মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

বাসে পুলিশ পাস, শিক্ষার্থীদের নেই!

মাহতাব শফি | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রাজধানীতে চলাচলরত পরিবহনগুলোতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘হাফ’ ভাড়া নেয়ার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না অধিকাংশ পরিবহন মালিক। অথচ ওইসব বাসে পুলিশ, আনসার ও ট্রাফিক পুলিশের কাছ থেকে কোনো ভাড়াই নেয়া হয় না। শিক্ষার্থীদের পুরো ভাড়া গুনেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। এসব বাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য লাব্বাইক পরিবহন, স্বাধীন পরিবহন, আয়াত পরিবহন, ৭১ পরিবহন, হিমাচল, প্রজাপতি, বিকল্প অটো, হাজী পরিবহন, আকিক পরিবহন, বসুমতি, জাবালে নূর, রবরব, দিশারী, নিউ ভিশন। এসব বাসে বড় অক্ষরে লেখা থাকে ‘হাফ পাস নাই’। এ নিয়ে প্রতিদিনই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কন্ডাক্টরের ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা।

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী মোস্তফা কামাল বলেন, সিটিং সার্ভিস বাসগুলো শিক্ষার্থী দেখলেই বাসে তুলতে চায় না। আবার নিজেকে ছাত্র পরিচয় দিয়ে কেউ হাফ ভাড়া দিতে চাইলে হেলপার ক্ষেপে যান। তারা খুব খারাপ ব্যবহার করেন।

হাফ ভাড়া না নেয়ার কারণ জানতে চাইলে লাব্বাইকের বাসচালক আকতার বলেন, বাসে চেকার চেক করার সময় হাত তুলতে বললে দেখা যায় অধিকাংশ যাত্রীই ছাত্র-ছাত্রী। এরকম হলে আমরা কী আয় করবো, মালিককে কী দেব। তাই আমরা হাফ ভাড়া নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আর পুলিশ, আনসার ও ট্রাফিক পুলিশদের কাছ থেকে আমরা ভাড়া নিই না। আর ভাড়া চাইলেও তারা দেন না।

এদিকে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, সিটিং সার্ভিস বাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া নেয়ার নিয়ম নেই। তারপরও প্রায় সময় বাস ভাড়া নিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে হেলপারের বাকবিতণ্ডা হয়। এছাড়াও অনেক সময় দেখা যায়- ছাত্র না হয়েও নিজেকে ছাত্র পরিচয় দিয়ে কম ভাড়া দেয়ার চেষ্টা করে। এসব কারণে আমরা সিটিং সার্ভিসগুলোতে বড় অক্ষরে লিখে রাখি ‘হাফ পাস নাই।’

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ঠিকই কিন্তু বেশিরভাগ পরিবহনগুলো তা মানে না। যেহেতু রাজধানীর বাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া আদায়ে এখনও সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। সেই সুযোগেই পুরো ভাড়া আদায় করছে পরিবহনগুলো। এ বিষয়টি গেজেট আকারে প্রকাশ করলে শক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

সিদ্ধেশরী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলেন, আগে আমরা কয়েকজন বান্ধবী মিলে প্রতিবাদ করতাম। কিন্তু বাসের কিছু লোক আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের জন্য এতো ভাড়া দিয়ে প্রতিদিন কলেজে যাওয়া একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে অনেক খরচের।

বাসাবো এলাকা থেকে যাতায়াত করা মিরপুর বাংলা কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন ৩৫ টাকা বাস ভাড়া দিতে হয় কলেজে যেতে। যখন বাসের মধ্যে চেকার বলেন, পুলিশ থাকলে হাত তোলেন। কিন্তু একবারের জন্যও বলে না স্টুডেন্টদের হাত তুলতে। স্টুডেন্টের ভাড়া কম নেয় না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিকের দায়িত্ব) মোসলে উদ্দিন জানান, বাসমালিকরা যদি পুলিশের কাছ থেকে ভাড়া না নেয় সেটা তাদের বিষয়। কিন্তু পুলিশ থেকে ভাড়া আদায় না করার কোনো আইন নেই। পুলিশের জন্য কোনো হাফ বা ফুল পাস নেই। স্টুডেন্টদের জন্যও কোনো পাস নেই।

রমনা থানার এক এসআই বলেন, বাসে আমরা ভাড়া না দিয়ে নামি না। সরকার আমাদের বেতন দেয়। সামান্য কিছু ভাড়ার জন্য কথা বলবো কেন? এটাতো একটা লজ্জার বিষয়। তবে ট্রাফিক পুলিশরা হয়তো ভাড়া দেয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্র অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ বাসে উঠলে তাদের ভাড়া পুরোপুরি ফ্রি করে দেয়। কিন্তু ছাত্রদের ক্ষেত্রে এটা করা হয় না। রাজধানীতে অল্প কিছু বাস আছে যেগুলো ছাত্রদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, গুলিস্তান থেকে উওরাগামী বাস সুপ্রভাত স্পেশাল, মঞ্জিলসহ অন্য কোনো বাসই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নেয় না। তারা স্টুডেন্টদের বাসে তুলতেও চায় না। এছাড়া উত্তরাগামী প্রজাপতি, নিউ পল্লবী কিংবা নতুন বাজারগামী আকিক পরিবহন বা জাবালে নূর, মিরপুর থেকে গুলিস্তানগামী তানজিল, দিশারীসহ অন্যান্য রুটের বিহঙ্গ, শিকড়, ভিআইপি, স্বাধীন ও বিকল্পসহ অনেক বাসের বিরুদ্ধেও রয়েছে এমন অভিযোগ।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম