logo

শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

‌'ফায়দা নিতে পারছে না আ.লীগ'

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে বড় হওয়া। বিয়েও হয়েছে রাজনৈতিক পরিবারে। বাবা ব্যারিস্টার নিতায় রায় চৌধুরী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য। নিজেও আছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে। একইসঙ্গে পালন করছেন কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব। বলছিলাম ব্যারিস্টার নিপুন রায় চৌধুরীর কথা।

সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশের সময়কাল খুব দীর্ঘ না হলেও বুদ্ধি, মেধা, কৌশল আর রাজনৈতিক নৈপুণ্যতায় নিজেকে নিয়ে গেছেন জনগণের দ্বারপ্রান্তে। একজন জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে গড়ে তুলছেন নিজেকে। স্বপ্ন দেখেন দেশের জনগণ এবং গণতন্ত্রকে নিয়ে। তার ভাবনায় রয়েছে বিএনপির আদর্শ।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় এগিয়ে যেতে চান তিনি। মানুষের আরো কাছে পৌঁছাতে আগামীতে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করারও স্বপ্ন দেখেন এই তরুণ রাজনীতিক। রাজনীতি ছাড়াও সংসার এবং পেশাজীবনেও সফল তিনি।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে খোলামেলা কথা হয় নিপুন রায় চৌধুরীর সাথে।

ফেমাসনিউজ : দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন?

নিপুন রায় চৌধুরী : বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। শুধু বিরোধী দল নয়, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে কোনো মানুষ আজ দাবি নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছেন না।

'প্রধার বিচারপতিকে কেন্দ্র করে দেশের আইনি ব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে অচল। আইন শুধুমাত্র সরকারের ইশায়ার চলে। এর বাইরে আইনের কোনো ধারাই বহমান নেই। পুলিশ, র্যাব, ডিবিসহ পুরো প্রশাসনটাই আজ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তারা আজ সরকারের বেড়াজালে আবদ্ধ। তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছে না। দেশের রাজনীতিতে আর সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। ৮ ফেব্রুয়ারিকে মোকাবেলার জন্য ছাত্রলীগের ছেলেদের লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। ওই দিন সারা ঢাকা শহর তারা মহড়া দিয়েছে। প্রশাসনের সামনে হাজার হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে তারা মহড়া দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন তাদেরকে বাধা দেয়নি। প্রতিহত করলো না।'

‌'ওইদিন আমরা নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছিলাম। আমাদের দেখিয়ে প্রশাসনকে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে বলে। না হলে তারা ব্যবস্থা নেবে। তখন প্রশাসনের লোকজন আমাদের কাছে এসে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, দিদি আমাদের কিছু করার নেই। আপনারা এখান থেকে না সরলে ওরা (ছাত্রলীগ) আপনাদের হেনস্থা করবে। তখন দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আমাদের কিছুই করার থাকবে না। আপনারা সরে যান। তার মানে কী প্রশাসন ছাত্রলীগ, যুবলীগের কাছে জিম্মি?'

'আমাদের কোনঠাসা করে রাখছে। আমাদের নেত্রীকে জেলে নিয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিচ্ছি; সেখানেও বাধা দেয়া হচ্ছে। আমার এলাকায় আমি যাতে না ঢুকতে পারি সেজন্য মিটিং করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতারা বলেছেন- নিপুন যেন কোনোভাবেই এলাকায় ঢুকতে না পারে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে লোক দিয়ে রাখছে আমাকে অপমান-অপদস্ত করার জন্য। এজন্য কারো অনুমতি লাগবে না। এলাকার মন্ত্রী নাকি এমন নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন। এই যদি হয় রাজনীতির প্রক্ষাপট; আমি তো মেয়ে মানুষ; একজন ছোট রাজনীতিবিদ, আমার উপরই এ অবস্থা তো যারা শীর্ষ পর্যায়ে আছে তাদের অবস্থা কী একটু ভাবুন।'

'আমাদের মাঠের বাইরে রেখে, দেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, আমাদের নেত্রীকে জেলে নিয়ে বাংলাদেশে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি সভা-সমাবেশ করে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। এ দেশে গণতন্ত্র বলে থাকলো কি? রাজনীতি বলে থাকলো কি? সবকিছু তাদের ইচ্ছামত হচ্ছে। গণতান্ত্রিক কোনো দেশ এটাকে ভালো চোখে দেখছে না। সরকার যদি এই অপকর্ম থেকে সরে না আসে তাহলে বাংলাদেশ ধ্বংস হতে সময় লাগবে না।'

ফেমাসনিউজ : বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান কেমন?

নিপুন রায় চৌধুরী : বিএনপি দীর্ঘ প্রায় দশ বছর ক্ষমতার বাইরে। এর মধ্যে সরকারের দমন নীতির কারণে আমাদের কোনো নেতাকর্মী আজ ঘরে থাকতে পারছেন না। ঘরে থাকার খবর পেলেই সাদা পোশাকে গিয়ে গ্রেফতার করছে। (যদিও হাইকোর্ট থেকে নির্দেশ রয়েছে- কাউকে সাদা পোশাকে গ্রেফতার করা যাবে না)। তারপরও এগুলো ঘটছে। তবুও যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সব নেতাকর্মী অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। যার ফলে লক্ষ নেতাকর্মীর উপস্থিতির মাধ্যমে ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারের ১৪৪ ধারা ভেঙে ম্যাডামকে আমরা আদালতে পৌঁছে দিয়েছি। সরকার জানে- বিএনপি তৃনমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী। সাংগঠনিকভাবে কতটা শক্তিশালী। যার কারণেই তাদের এত ভয়।

'তারা বিএনপিকে ভয় না করে কেন খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হবে? কেনইবা এত মামলা। এখন বিরোধী দল তো জাতীয় পার্টি- তাহলে তাদের নামে মামলা দিক। সেটা না করে বিএনপিকে কেন ঘায়েল করার চেষ্টা করা হচ্ছে? তার মানে হলো- তারা খুব ভালো করেই জানে বিএনপি কতটা শক্তিশালী। যার শক্তি আছে তাকেই তো ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়।'

'শীর্ষ নেতাদের তো জুলুম করছেই। তারপরও কি তৃণমূল ভেঙে পড়েছে। বরং এখন আরও বেশি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তো এখন জেলে। তাই বলে কি কেরানীগঞ্জে সভা-সমাবেশ হচ্ছে না? বরং এখন আরও বেশি হচ্ছে। তার অবর্তমানে আমি দেখছি। আমিও যদি চলে যাই তাহলে আরেকজন দেখবে। কারও জন্য তো দলের কার্যক্রম থেমে থাকবে না।'

ফেমাসনিউজ : খালেদা জিয়ার দীর্ঘ কারাবাসে আইনজীবীদের কি ব্যর্থতা রয়েছে?

নিপুন রায় চৌধুরী : সার্টিফাইড কপি পেতে আইনজীবীদের গাফিলতি আছে কথাটা একেবারেই ঠিক না। যেখানে সরকার-প্রধান সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে। তারপরেও আমাদের আইনজীবীরা প্রতিদিনই কোর্টে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন- তাহলে গাফিলতিটা কোথায়?

'সার্টিফাইড কপি দেয়া না দেয়া পুরোটাই নির্ভর করে আদালতের উপর। ওইদিন রায়ের পরেই তো ডকুমেন্টস নেয়ার জন্য পিটিশন করা হয়েছে। এখন এটা দেয়া না দেয়া তো পুরোটাই সরকারের হাতে চলে গেছে। এটা কিন্তু আদালতের হাতেও নেই। আদালত চাইলে কিন্তু দুদিনের মধ্যেই দিতে পারতো। ১২ দিন লাগল কেন?'

ফেমাসনিউজ : খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে আসবে- সরকারি দলের নেতারা এমন মন্তব্য করছেন। এ বিষয়ে আপনারা কি ভাবছেন?

নিপুন রায় চৌধুরী : তারা ভাবছে ম্যাডামকে জেলে নিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই তারা বিএনপিকে ভাঙার জন্য অনেক আগে থেকেই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপি কোনা নির্বাচনে অংশগ্রহণ তো করবেই না, দেশে কোনো নির্বাচনও হবে না। এটা আমাদের ফুলস্টেপ দেয়াই আছে। তাকে মাইনাস করে বা জেলে রেখে বাংলাদেশের মাটিতে কোনো নির্বাচন হবে না।

ফেমাসনিউজ : খালেদা জিয়া জেলে আর শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচারণা করছেন- এতে করে কি বিএনপি প্রচারণায় পিছিয়ে পড়ছে?

নিপুন রায় চৌধুরী : ‘চেনা বামনের পইতা লাগে না।’ যার জনপ্রিয়তা আছে, গ্রহণযোগ্যতা আছে সে এক ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচারণায় নামলেও বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। আপনারা দেখেন- আমরা কিছুই করতে পারছি না তারপরও আমাদের মনোবল ভাঙেনি। কিন্তু তারা এত উন্নয়নের বুলি ছাড়ছে, এই করেছে, সেই করেছে। জনগণ কিন্তু তা বিশ্বাস করছে না। তাদের জনসমর্থন নেই বলেই বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে যেটুকু শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ছিল তাও ধূলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে।

ফেমাসনিউজ : বিএনপির ঐক্যবদ্ধতা এখন কেমন?

নিপুন রায় চৌধুরী : বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একেবারে নিম্ন থেকে সিনিয়র পর্যায়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ। তিনি প্রতিনিয়ত আমাদের নির্দেশন দিয়ে যাচ্ছেন এবং যখন যাকে ইচ্ছা তার সাথে সরাসরি কথা বলছেন। তিনি সব সময়ই আমাদের টাচে আছেন।

'আমাদের নেত্রী বারবার আমাদের বলে গেছেন, আমার মামলা, কারাবাসকে কেন্দ্র করে মানুষকে যেন কোনো দুর্ভোগ পোহাতে না হয়। এজন্য তিনি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান সেভাবেই পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যাতে সাধারণ মানুষকে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে না হয়। বেগম খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার পর থেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি এটাই প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, এর আগে বিএনপি কখনও জ্বালাও-পোড়াওয়ের আন্দোলন করেনি।'

‌'আমাদের আন্দোলন যে প্রক্রিয়ায় চলছে আর চলবে, সে কারণেই সরকারের গায়ে জ্বালা-পোড়া হচ্ছে। তার কারণ এবার তো তারা ফায়দা লুটতে পারছে না। বিএনপি কেন নাশকতা করছে না। তাদের অস্ত্রধারী কিছু বাহিনী আছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ- নাশকতার অজুহাতে তারা সেই বাহিনী নামাতে পারবে। এমনকি বোরকা পরে শেখ হাসিনাও নামতে পারেন। বিএনপি নাশকতা করছে না বলেই তাদের পীড়াদায়ক এত কথাবার্তা। তাদের এই আন্দোলন পছন্দ হচ্ছে না। তাই তারা উস্কানিমূলক কথা বলছে; যাতে বিএনপি নাশকতা করে আর ঘরে ফল তুলে নেবে তারা।

ফেমাসনিউজ : বিএনপিতে কি দায়িত্ব নেয়ার মত একজনও নেই যে, তারেক রহমানকে দায়িত্ব দিতে হবে- প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এমন বক্তব্য সম্পর্কে আপনার মতামত কি?

নিপুন রায় চৌধুরী : এটা বিএনপির নিজস্ব ব্যাপার। আমাদের সব পর্যায়ের নেতাদের সম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এটা নিয়ে তাদের রাজনীতি করার কিছু নেই। শেখ হাসিনা বলেন- আমি তো আমার ছেলেকে দায়িত্ব দেইনি। তার উদ্দেশ্যে বলতে চাই- আপনার ছেলের কি সেই যোগ্যতা আছে? একটা দেশ চালানোর মত যোগ্যতা তো থাকতে হবে। যোগ্যতা না থাকলে কী নেতারা মেনে নেবেন? আমাদের দল, জোট থেকে আমাদের নেতাকে মেনে নিয়েছি। আমাদের চাওয়া পাওয়াতে তারেক রহমান আজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এটা শুধু ম্যাডামের একার চয়েজ নয় কিংবা তারেক রহমান ইচ্ছায় নেতৃত্ব দিতে আসেননি। দল ও সময়ের প্রয়োজনে সবার উদ্যোগে তাকে নেতৃত্বে আনা হয়েছে।

ফেমাসনিউজ : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মামলার সর্বশেষ অবস্থা কোন পর্যায়ে?

নিপুন রায় চৌধুরী : উনার মামলার প্রাথমিক স্টেজ শেষ হয়েছে। আমরা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেছি। কিন্তু আমাদের তারিখটা অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। দুটি মামলার তারিখ দিয়েছেন মার্চের শেষের দিকে। সময় কমিয়ে আনার জন্য আমাদের আইনজীবীরা পিটিশন জমা দিয়েছিলেন কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। এটা সরকারের নীল নকশা, এটা একটা চাল। সব কিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমাদের এগোতে হবে।

ফেমাসনিউজ : আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

নিপুন রায় চৌধুরী: আপনাকেও ধন্যবাদ। ধন্যবাদ ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর.কম পরিবারের সবাইকেও।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম