logo

বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ, ১৪২৫

header-ad

স্বগৌরবে ছাত্রলীগ

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন। দীর্ঘ ৭০ বছর পেরিয়ে স্বগৌরভে ৭১ বছরে পদার্পণ করেছে এ সংগঠন। ভারতবর্ষ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে যাত্রা শুরু করেছিল ছাত্রলীগ। সেই দীর্ঘ ইতিহাস পেড়িয়ে আজও সৌরভ বিস্তার করেই চলেছে ছাত্রলীগ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠনের এক বছর আগেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গঠন করেন ছাত্রলীগ। তিনি জানতেন, মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে হলে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজই পারে মানবীয় দেশ গড়ে তুলতে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর এ সংগঠন বাঙালি জাতির সব অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। ছাত্রলীগ দেশের সব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগ্রামের গর্বিত অংশীদার। চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছে বিজয়।

এ দীর্ঘ সময়ে কালের সাক্ষী হয়ে আছে সংগঠনটি। রাজনৈতিক পরিক্রমায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে বাঙালির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব দিয়েছিল ছাত্রলীগ, ৫৪-এর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ৫৮-এর আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-এর ৬-দফার পক্ষে গণঅংশগ্রহণের মাধ্যমে মুক্তির সনদ হিসেবে এই দাবিকে প্রতিষ্ঠা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে পাক শাসকদের পদত্যাগে বাধ্য এবং বন্দীদশা থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করা, ৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়লাভ এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য নেতাকর্মী সম্মুখসমরে অংশগ্রহণ করে লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ছাত্রলীগ।

স্বাধীনতার পরও থেমে নেই ছাত্রলীগ। গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে তখনই এ সংগঠন আবির্ভূত হয়েছে ত্রাতার ভূমিকায়। ৯০-এর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে ১/১১-এর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পতন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ছাত্রলীগের ভূমিকার কথা দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে সময়ের টানে বিভিন্ন নেতার নেতৃত্বে চলেছে এ সংগঠন। ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়া নেতাকর্মীরা পরে জাতীয় রাজনীতিতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এখনও দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান জাতীয় রাজনীতির অনেক শীর্ষনেতার রাজনীতিতে হাতেখড়িও হয়েছে ছাত্রলীগ থেকে।

প্রতিটি নেতার নেতৃত্বের অবদানে আজকের এ ছাত্রলীগ। সংগঠনটি সর্বদায় সংগঠিত এবং নিজ গৌরভে বলীয়ান। বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে দিতে জাতির জনকের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৭ হাজার ছাত্রলীগের নেতাকর্মী সেদিন বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেল।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আত্মদানের এই মিছিল কেবল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। কিন্তু থেমে থাকেনি প্রতিরোধ। বঙ্গবন্ধু পরবর্তী বাংলাদেশে হত্যা ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বিশ্ব মানবতার নেত্রী মাদার অব হিউম্যানিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রতিটি সংগ্রামেই তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের হয়ে এ ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন কাজ করবে আজীবন।

দীর্ঘ ৭০ বছরে সংগঠনটির জাতীয় কাউন্সিল সম্মেলন হয়েছে ২৮ বার। সবশেষ নেতৃত্বের দায়িত্বে রয়েছেন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন। বর্তমান কমিটির মেয়াদ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই শেষ হয়েছে। সে লক্ষ্যে আগামী ৩১ ও ১ এপ্রিল ২৯তম জাতীয় কাউন্সিলের আয়োজন করেছে সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্ব।

আগামীতে যারা নেতৃত্বে আসবে তাদের কাছেও ছাত্রলীগের ঐতিহ্য এবং গৌরব সমহিমাতেই উজ্জ্বল থাকবে বলে প্রত্যাশা সিনিয়র নেতাদের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ছাত্রলীগ সম্ভাবনার বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এমনটা প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। সংগঠনটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ কোটি। এ সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছেই।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ বলেছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছাত্রলীগ বাংলার মানুষের এবং ছাত্র সমাজের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সর্বদা কাজ করেছে। ছাত্রলীগের আন্দোলনের ফসল হিসেবে আমরা পেয়েছি আমাদের ভাষা অধিকার এবং স্বাধীন বাংলাদেশ। এছাড়া দেশের গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে ঠিক তখনই ছাত্রলীগ আবির্ভূত হয়েছে ত্রাতার ভূমিকায়। আমাদের লক্ষ্য বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে যাওয়া। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ মুক্ত, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।

ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি চৈতালি হালদার চৈতি ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে ছাত্রলীগের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। আবার ছাত্রলীগের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস। কোনোটিকে বাদ দিয়ে কোনো কিছু চিন্তা করা যায় না। দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধে ১৭ হাজার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জীবন দিয়েছেন। ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে ভাষার জন্য আন্দোলন শুরু হয়। ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯'র গণঅভ্যুত্থান সব ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে ছাত্রলীগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই ধারাবাহিকতায় উপমহাদেশের বৃহত্তম সংগঠন হিসেবে সফলতার সাথে স্বগৌরবে এগিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগ। আগামীতে আরো ভালো করবে ছাত্রলীগ। বর্তমান কমিটিতে যারা আছেন তারা যেমন সফলতর সাথে কাজ করছেন, নতুন কমিটিতে যারা আসবেন তারাও সফলভাবেই কাজ করবেন।

চৈতালি হালদার চৈতি বলেন, আজকে যারা ছাত্রলীগে আছে তারাই আগামীতে জাতীয় নেতৃত্বে অংশ নেবে। আওয়ামী লীগের শিক্ষানবিশ কাল হচ্ছে ছাত্রলীগ। রাজনীতিতে প্রবেশ করার জন্য যে আদর্শ বা শিক্ষা দরকার তা ছাত্রলীগ থেকেই শিক্ষা লাভ করে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও পাঠবিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ছাত্রলীগ এমন একটি সংগঠন যে সংগঠনকে কোনো দেশ জন্ম দেয়নি, এ সংগঠনই একটা দেশকে জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকেও সিনিয়র এ সংগঠন। এটি আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তার যৌবনের শ্রম ঘাম দিয়ে; একটি স্বপ্ন নিয়ে এ সংগঠন তৈরি করেছিলেন। তার ইচ্ছে ছিল সোনার বাংলা গড়ার। সে লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি আন্দোলনেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। সব সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগ। আগামীতে দেশের যেকোনো ক্রান্তিকালে ছাত্রলীগ থাকবে।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন; সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাবে ছাত্রলীগ। আগামীতে ছাত্রলীগের আরো আমুল পরিবর্তন আসবে। সাধারণ মানুষ ছাত্রলীগ আস্থার প্রতীক হিসেবে নেবে। একজন বাবা গর্ব করে বলবেন তার ছেলে ছাত্রলীগ করে। আমার প্রত্যাশা ছাত্রলীগ এমন জায়গায় পৌঁছাবে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম