logo

বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ, ১৪২৫

header-ad

‘শেখ হাসিনার ক্ষমতা থাকলে জেলে যেতেন না খালেদা’

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ক্ষমতা থাকলে কখনোই খালেদা জিয়া জেলে যেতেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন। তিনি বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী যতই খালেদা জিয়াকে হিংসা করুক, তিনি কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা। বঙ্গবন্ধু খালেদা জিয়াকে কন্যার মর্যদা দিয়েই তাকে সম্মান দিয়েছেন। যেখানে বঙ্গবন্ধু স্বয়ং তাকে কন্যার মর্যদা দিয়েছেন সেখানে শেখ হাসিনা কেন তাকে জেলে দেবেন?

‘খালেদা জিয়ার আশা ছিল, শেখ হাসিনা তাকে জেলে দেবেন না। কিন্তু সেই আশা ভেঙে দিয়েছেন। এখানে আমার একটা সংশয় আছে। যতই তিনি উপরে দম্ভ দেখান, আমার মনে হয় না যে, উনার ক্ষমতা উনার হাতে আছে। যদি উনার (প্রধানমন্ত্রী) ক্ষমতা থাকতো তবে খালেদা জিয়া জেলে যেতেন না। খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছে ষড়যন্ত্রকারীরা। তারা ভেবেছিল, খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠালে উদ্ভুত এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, সেই সুযোগ নিয়ে ৭৫-এর ১৫ আগস্টের মত শেখ হাসিনাকেও তারা সরিয়ে দেবে।’

মাইনাস টু সৃষ্টি করার জন্য, দেশে একটা উদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে আজকে শেখ হাসিনার ঘাড়ে বন্দুক রেখে দেশের জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে এভাবে অপদস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন আহসান হাবিব লিংকন। এছাড়া দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ২০ দলীয় জোটের অবস্থান নিয়েও এ প্রতিবেদকের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে আহসান হাবিব লিংকন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ। বাংলাদেশ কখনই এত খারাপ রাজনৈতিক সংকটে পড়েনি। দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে আমরা একের পর এক ধ্বংস করে দিচ্ছি। যেমন জাতীয় সংসদ একটা প্রতিষ্ঠান। সেখানে কোনো বিরোধী দল নেই, সেখানে তারাই সরকারে, তারাই বিরোধী দলে। একবার বলছে বিরোধী দল, আবার বলছে সরকারি দল।

‘প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদের যে সম্মান এবং মর্যাদা এটাকে হেয় করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে একের পর এক হত্যার আসামিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সুপ্রিমকোর্ট নিয়েও রাষ্ট্রপতির অফিসকে ব্যবহার করা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টকেও অনুরূপভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশনকে একটি চরম বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেছি। দেশের সম্মানজনক যে প্রতিষ্ঠানগুলো একের পর এক ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, জাতি হিসেবে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো?’

তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে কেউ কি কখনো শুনেছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা চুরি হয়? আমাদের তাও হয়েছে। তার পরেও আমরা নির্বিকার। আমরা যারা দায়িত্বে আছি, সরকারে আছি তারা বিষয়টাকে আমলেই নিতে চাচ্ছি না। রাষ্ট্রয়াত্ব এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো যেভাবে লুট হয়ে যাচ্ছে, তাহলে আমরা যাচ্ছি কোথায়? রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে আমরা চরম সংকটে আছি।

‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আহসান হাবিব লিংকন বলেন, ২০ দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার। জনগণ যাতে নির্ভয়ে; কোনো চাপ ছাড়াই ভোট প্রয়োগ করতে পারে, ভোটের ফলাফল যেন জনগণের প্রদত্ত ভোটের আলোকে রায়টা ঘোষণা হয়- সে দাবিটাই আমাদের। ভারতে এক মাস পর ভোটের ফলাফল প্রকাশ পায়। ভারতে কি কেউ বলে যে, কারচুপি হয়েছে?

তিনি বলেন, নেপালে ভোট হল কয়েকদিন আগে। কেউ প্রশ্ন করেছে? এই উপমহাদেশে সবচেয়ে সুষ্ঠু এবং শৃঙ্খল ভোট ব্যবস্থা শ্রীলঙ্কায়। এমনকি যে দেশটাকে বলা হয় গণতন্ত্রহীন এবং সেনাবাহিনী শাসিত- সেই পাকিস্তানেও একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। সেখানেও নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন হচ্ছে না। কিন্তু আমরা এত অহঙ্কার করছি, নোবেল প্রাইজ পেতে চাচ্ছি, আমরা কত কিছু করতে চাচ্ছি। কিন্তু আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা আজও পর্যন্ত প্রণয়ন করতে পারলাম না।

আহসান হাবিব লিংকন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই আমি জাতীয় পার্টির হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে ১৭২ দিন হরতাল করেছি। আমি সেই আন্দোলন করতে গিয়ে কারাগারে গিয়েছি। সেই আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক মানুষ জীবন দিয়েছে। অনেক মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মামলা-মোকদ্দমায় জর্জরিত হয়েছে। আজকে সেই প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার নেই। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নতি স্বীকার করেছে এবং সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সন্নিবেশিত হয়েছে। আজকে উনি এসে সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে দিলেন। আজকে এরশাদ সাহেব বলছেন, আমি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই না। তাহলে উনি একসময় আমাদের ১৭২ দিন হরতাল করার নির্দেশ কেন দিয়েছিলেন?

তিনি বলেন, যদি এই তত্ত্ববধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রণয়নে সমস্যা থাকে তবে আমাদের একটা পার্মানেন্ট ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে জনগণের ভোটের অধিকার তারা ফিরে পায় এবং প্রদত্ত ভোটের প্রতিফলনে নির্বাচনে জয়লাভ করে।

গণতন্ত্রের কথা বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুলই বলছে, প্রকৃত গণতন্ত্র কি- এমন প্রশ্নের জবাবে আহসান হাবিব লিংকন বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে একটা শাসন ব্যবস্থা। যেই শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করবেন জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। কিন্তু এখানে তো এটা নেই। এখানে তো সব টিক চিহ্ন দিয়ে হয়ে যাচ্ছে। এমনকি মসজিদ কমিটিও টিক চিহ্ন দিয়ে হচ্ছে। সেখানেও কোনো ভোটের ব্যবস্থা নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এফবিসিসিআইসহ সব জায়গাতেই সিলেকশন।

বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে সরকারের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বলছে- এ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে এটি সংবিধানে লেখা আছে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য যখন আমরা আন্দোলন করেছি তখনও তো তত্ত্বাবধায়কের কথা সংবিধানে লেখা ছিল না। সংবিধানে সন্নিবেশ করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের আন্দোলন সেদিন বিজয় অর্জন করেছিল।

যদি এ সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যেতে বাধ্য করা হয় সেক্ষেত্রে ২০ দলীয় জোট কি পদক্ষেপ নেবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে পদক্ষেপের তো কিছু নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যা ঘটেছে এটি পৃথিবীর ইতিহাসে একটা নজিরবীহীন ঘটনা। ৩৯টি সেন্টারে একজনও ভোট দিতে যায়নি। ৩৯টি সেন্টারের অধীনে আওয়ামী লীগের শত শত কর্মী, হাজার হাজার সমর্থক ছিল। তারও তো সেই নির্বাচন বয়কট করেছিল।

‘১৫৪টি আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। বিরোধী দলের আন্দোলনের এটি একটি বিরাট বিজয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যে আশ্বাস দিয়েছিলেন সে কথা বা আশ্বাস তিনি রক্ষা করেননি। আমাদের দেশের আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারত একটি ফ্যাক্টর। নির্বাচন হওয়ার পরে এই নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার জন্য তারা যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে তাতে সারাবিশ্ব মেনে না নিলেও কোনো ধরনের উচ্চবাচ্চ্য করেননি ভারত।

বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিল হবে সরকারের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে আহসান হাবিব লিংকন বলেন, রাজনীতি করতে হলে নিবন্ধন থাকতেই হবে- এটা কোথায় লেখা আছে? বাংলাদেশে শত শত দলের নিবন্ধন নেই। নিবন্ধনের পরোয়া বেগম খালেদা জিয়া করছেন না। তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে আছেন। এখন তার জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। তার দলের নিবন্ধন বাতিল করে যদি দেশ চালানো সম্ভব হয়, তবে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

‌‘যদি সারাদেশে বিএনপিকে তছনছ করে দেয়া হয়, তবে আগামীতে ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত কেউ আছে? প্রকারন্তে এটা করা হচ্ছে, যাতে বিরাজনীতিকরণ করা হয়, আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই না থাকে। সেই জন্যই আজকে এত নকশা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ একটি প্রতিষ্ঠিত দল, এদের ঐতিহাসিক ইতিহাস আছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং অবদানও আছে, আবার খারপ দিকও আছে।

‘‌আবার বিএনপিরও ভালো দিক আছে, খারাপ দিকও আছে। দল ভাঙার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ নিজেকে সম্পৃক্ত করলে আওয়ামী লীগের সম্মান এবং মর্যাদা ধুলোয় মিশে যাবে। এখন সবাই বুঝতে পেরেছে যে, একদিকে ভয়ভীতি আরেক দিকে প্রলোভন দেখিয়ে বিএনপিকে ভাঙার সর্বপ্রকার চেষ্টা করছে। বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ে কেউ যদি দ্বিমত থেকেও থাকে আওয়ামী লীগের এ প্রচারের কারণে এখন আর সাহস পাবে না কেউ- দালাল হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ভয়ে। বিএনপিকে ভাঙার জন্য তারা দীর্ঘদিন থেকেই অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, বিএনপি ভাঙার দল না। বিএনপি থেকে যদি কোনো নেতা বের হয়ে যায় তাহলে তিনি একা তার নিজ দায়িত্বে যাবেন। এই আন্দোলনের মধ্যে কোনো নেতা সেই ঝুঁকি নেবেন কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাকে তো ভোট চাইতে যেতে হবে। দেশের এমন কোনো বাড়ি নেই যে বাড়িতে একজন বিএনপি বা আওয়ামী লীগ নেই। বিএনপি ভেঙে বা ছেড়ে, বিএনপির নামে গ্রামে যারা ভোট চাইতে যাবে তাদের নিরাপত্তা দেবে কে? বিএনপিকে ভাঙা সম্ভবপর হবে না।

দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়ার কারাবরণকে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল হিসেবে নেবে কিনা জানতে চাইলে আহসান হাবিব লিংকন বলেন, বিশ্বের কোনো দেশের মিডিয়াতেই খালেদা জিয়ার এই মামলার রায়কে দুর্নীতির জন্য বলেনি। তারা এটিকে রাজনৈতিকভাবে দেখছেন। এটা প্রতিপক্ষকে দমন করার একটি কৌশল। জনগণও এখন মনে করছেন- খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০ হাজার কোটি টাকা নিতে পারতেন; সেখানে মাত্র দুই কোটি টাকা। এই খালেদা জিয়া জেলখানা থেকে বললেই ২০০ কোটি টাকা হাজির হয়ে যাবে। যদি তার কর্মীরা এক টাকা করে দেয় ২০০ কোটি টাকা হতে সময় লাগবে না।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যেদিন থেকে রাজনীতিতে পদার্পণ করেছেন সেদিন থেকে অদ্যাবদি গণতন্ত্রের বাইরে কোনো কাজ করেছেন বলে প্রমাণিত হয়নি। তিনি ক্ষমতায় বা ক্ষমতার বাইরে সব সময় জনগণের অধিকারের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে, ভোটাধিকারের পক্ষে কাজ করেছেন।

খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে জাপা নেতা বলেন, ক্ষমতায় থাকলে অনেক কথাই বলা যায়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকাররা এমন করে টিটকারী মারতো। আজকে বিএনপিকে আগুন সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে। একই রকমভাবে ৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের পাক হানাদার বাহিনী, রাজাকাররা দুষ্কৃতকারী বলেছেন। যুদ্ধ জয়ের পরে সেই রাজাকাররা হারিয়ে গেছে। আজকে যারা এভাবে কটাক্ষ করছেন তারাও রাজনৈতিক কর্মী, তারা এদেশে আন্দোলন করেছেন। বিএনপি একটি জনপ্রিয় দল। তাকে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য যেটা করা উচিত ২০ দলীয় জোট বা বিএনপি সেটাই করছে। এতে আওয়ামী লীগ কি বললো আর না বললো এসব নিয়ে ভেবে লাভ নেই।

আহসান হাবিব লিংকন বলেন, বিএনপি সম্পর্কে যেসব নেতা যেমন- ওবায়দুল কাদের, হাসান মাহমুদ, তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু যা বলছেন এতে তাদের জনপ্রিয়তা দিনকে দিন কমছে। জনপ্রিয়তায় যে ধস নেমেছে তাতে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা তলানিতে নামছে।

২০ দলীয় জোটের সাথে যে জাতীয় পার্টি যুক্ত আছে সেটিকে গঠনতন্ত্রের নিয়মমাফিক বলে দাবি করেন এই নেতা। তিনি বলেন, এরশাদ সাহেব তার নীতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ধর্মনিরপেক্ষ হয়েছেন, যাতে করে বিএনপির ভোটকে এক ভাগও কমিয়ে আওয়ামী লীগের উপকার করা যায়। যখন আমরা এটি বুঝতে পেরেছি তখনই জাতীয়তাবাদীর রাজনীতির ধারায় সম্পৃক্ত হয়ে বিএনপির সাথে যুক্ত হই। কারণ জাতীয় পার্টি এবং বিএনপির গঠনতন্ত্রে নিয়মনীতি ও আদর্শের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্পর্কে তিনি বলেন, এরশাদ হচ্ছেন বাংলাদেশের রাজনীতির একটা ব্যারোমিটার। ভারতের ব্যারোমিটার হচ্ছেন এরশাদ। ভারত কি চাচ্ছে এরশাদ সাহেবের কার্যক্রম দেখেই তা বোঝা যায়। উনি সকালে একরকম বলছেন তো বিকেলে আরেকরকম বলছেন। তবে ভারতের প্রতি আনুগত্যের বিষয়ে বিচ্যুত হননি।

চলমান অন্যায়ের প্রতিবাদ করে সংসদ থেকে বেরিয়ে আসলে এবং আন্দোলনে সামিল হলে আবারো জাতীয় পার্টির সব অংশই এক হবে এমন আশ্বাসও এই নেতা।

খালেদা জিয়াকে নিয়ে তিনি বলেন, আজকে খালেদা জিয়া দেশ মাতায় রূপান্তরিত হয়েছেন। আজকে প্রধানমন্ত্রী যতই তাকে হিংসা করুক, তিনি কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা। বঙ্গবন্ধু খালেদা জিয়াকে কন্যার মর্যাদা দিয়েই তাকে সম্মান দিয়েছেন। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, শেখ হাসিনা আমাকে জেলে দেবেন না। এখানে আমার একটা সংশয় আছে। যতই তিনি উপরে দম্ভ দেখান, আমার মনে হয় না যে, উনার ক্ষমতা উনার হাতে আছে। যদি উনার (প্রধানমন্ত্রী) ক্ষমতা থাকতো তবে খালেদা জিয়া জেলে যেতেন না। খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছে ষড়যন্ত্রকারীরা। তারা ভেবেছিল, খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠালে উদ্ভুত এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, সেই সুযোগ নিয়ে ৭৫-এর ১৫ আগস্টের মত শেখ হাসিনাকেও তারা সরিয়ে দেবে। মাইনাস টু সৃষ্টি করার জন্য, দেশে একটা উদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে আজকে শেখ হাসিনার ঘাড়ে বন্দুক রেখে দেশের জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে এভাবে অপদস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।

আগামী নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। দেশের বেশিরভাগ নিবন্ধিত দলই খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছে। আগামী নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলকেই কাছে পাবেন না শেখ হাসিনা।

জাতীয় পার্টির এ নেতা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। কুষ্টিয়া-২ আসনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ইনুর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। ইনশাল্লাহ এক লাখ ভোটে এগিয়ে থাকবো।

ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম