logo

মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

'আমাকে জেলে দিয়ে ম্যাডামকে ছেড়ে দাও'

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ১০ মার্চ ২০১৮

 

শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা। জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। শুধু রাজনৈতিক জগতেই নয়, সফলতা অর্জন করেছেন এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মিডিয়াতেও। বিএনপির এই তরুণ নেত্রীর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তবে পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর। ছোটবেলা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে, তাদের জন্য কাজ করতে ভালোবাসতেন। মায়ের কাছ থেকে শিখেছেন কীভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে থেকেছেন মানুষের পাশে। কাজ করেছেন জনগণ এবং দেশের স্বার্থে। নিজের স্বপ্নকে আরো বাস্তবে রূপ দিতে ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশাও করছেন তিনি। মনোনয়ন পাবার বিষয়ে আশাবাদী এই নেত্রী ফেমাসনিউজ২৪.কম-কে জানালেন দেশ ও দেশের মানুষ নিয়ে তার ভাবনা এবং স্বপ্নের কথা।

শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা
''ছোটবেলা থেকেই আমার আম্মাকে মানুষের সেবা করতে দেখে এসেছি। আগে থেকেই সমাজ সেবক হিসেবে আমার আম্মার পরিচিতি ছিল। ছোটবেলা থেকেই আম্মার মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখে আমার মাঝেও জনসেবামূলক কাজ করার মেন্টালিটি তৈরি হয়। আম্মার দেখানো পথেই এখন আমিও হাঁটছি। সমাজসেবা করতে আমারও অনেক ভালো লাগে। মনের দিক থেকে এক ধরনের শান্তিও পাওয়া যায়।'' এভাবেই নিজের অনুভূতি জানালেন শায়লা।

''আমার জীবনের প্রথম উপার্জন দিয়ে আমি মসজিদ তৈরি করেছি। আমার ইচ্ছাই মানুষের পাশে থাকা, তাদের সেবা করা। সে লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত মানুষের সেবায় এগিয়ে যাই। অসহায় মানুষের চিকিৎসা, পড়াশোনার জন্য বই কিনে দেয়া, অসহায় বাবা-মায়ের মেয়েকে বিয়ের খরচ আমি দিয়েছি। জনসেবা করতে আমার ভালো লাগে। মন থেকেই এই কাজগুলো করি।''

১৯৯৮ সালে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। পরবর্তীতে জাসাসের আন্তার্জাতিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন।

রাজপথের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলের সব ধরনে কর্মসূচিকে সফল করতে সামনে থেকেছেন এই নেত্রী। শত বাধার মুখেও রাজপথ ছাড়েননি। বেশ কয়েকবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দলের সুদিনের পাশাপাশি দুর্দিনেও সমানভাবে কাজ করছেন তরুণ এই নেত্রী। প্রতিনিয়তই যোগাযোগ রাখছেন নিজের সংসদীয় এলাকার (ফরিদপুর-৪) জনগণের সঙ্গে। এলাকার জনপ্রিয়তা নিয়ে রাজনৈতিক জীবনে আরো সামনে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া নিয়ে শায়লা বলেন, ''আমি যখন চলচ্চিত্রে আসি তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল। আমার রাজনীতি সম্পর্কে জানাশোনা হয়েছে বিএনপিকে দিয়ে। আমি রাজনীতি বলতে বিএনপিকেই বুঝি। সরকার বলতে বুঝি বিএনপি, নেত্রী বলতে বুঝি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, দলের পরবর্তী নেতৃত্ব বলতে বুঝি তারেক রহমানকে। আমি তাদের দেখেই বড় হয়েছি, তাদের জেনেই সব শিখেছি।''

তিনি বলেন, ''বিএনপিতে আসার আরও একটা বড় কারণ ম্যাডামকে দেখে। ম্যাডাম এতো সুন্দর, এতো স্মার্ট, তার পোশাক-আশাক আমার কাছে মনে হয়েছে আমার আইডল তিনি। সে কারণে আমার মনে হয়েছে আমি যেহেতু অভিনেত্রী, আমাকে তো মানুষ অনুসরণ করবে। আমারও তো কাউকে অনুসরণ করতে হবে। আমি ম্যাডামকে অনুসরণ করি। তাকে আমার খুব ভালো লাগে। তার প্রতি ভালো লাগা থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে আসা।''

রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, ''আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য। আমার কোনো কিছুরই অভাব নেই। রাজনীতি থেকে আমার কিছু নেয়র নেই। আমাদের পরিবারের সবাই শিক্ষিত। আমাদের কোনো পিছুটান নেই। এমন নয় যে, রাজনীতি থেকে আমার কিছু নিতে হবে। রাজনীতি করার একটাই উদ্দেশ্য মানুষের জন্য কাজ করা। আমি রাজনীতি করলে মানুষের জন্য কিছু করতে পারবো। ২০১৪ সালে আমি উপজেলা নির্বাচন করেছিলাম শুধু আমার এলাকার উন্নয়নের জন্য। তবে সেবার জিততে পারিনি। আওয়ামী লীগ ভোট কেটে নিয়েছে। তবে এবার আমি এমপি ইলেকশন করবো। এমপি হয়ে মানুষের পাশে থেকে খুব ভালোভাবে সেবা করবো, মানুষের জন্য কাজ করবো।''

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ''অনেকেই আমাকে বলে আপা আপনারাতো আগামী ৪০ বছরেও ক্ষমতায় আসবেন না। আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। বিএনপি যদি জীবনে কোনো দিনও ক্ষমতায় না আসে তার পরেও আমি বিএনপি ছেড়ে যাবো না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে বিধায় আমি সুযোগ পাব, এজন্য আমি রাজনীতি করি না। আমি বিএনপিতেই আছি, বিএনপিতেই থাকবো। আমার জন্মই হয়েছে বিএনপিতে আর আমার শেষ নিঃশ্বাসও বিএনপি থেকেই যাবে। আমি কখনই দল পরিবর্তন করবো না।''

তিনি আরও বলেন, ''অনেকেই আবার বলে, এবার তো এমপি নমিনেশন পাবেন না। আমি আবারো বলছি, আমি নমিনেশনের জন্য রাজনীতি করি না, এমপি হওয়ার জন্যও রাজনীতি করি না। আমি রাজনীতি করি দলের জন্য। দল আজকে দুর্দিনে আছে, আমি দলের সাথে আছি। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকবো। আমি সব সময় নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে বলি, হে আল্লাহ আমাদের দিন পরিবর্তন কর। অন্তত ম্যাডামের এই কষ্ট সহ্য হয় না। দুচোখে দেখা যায় না।''

বিএনপির এই তরুণ নেত্রী কান্নাজরিত কন্ঠো বলেন, ''যখন বার বার ম্যাডাম কোর্টে হাজিরা দিতেন, আমি কান্না করতাম, আর বলতে ইচ্ছে করতো, আমাকে জেলে রেখে দাও, তবুও ম্যাডামকে ছেড়ে দাও। ম্যাডামের জন্য এরকম আবেগ আমার মধ্যে কাজ করে। ম্যাডাম আমাকে অনেক আদর করেন। আমিও ম্যাডামের প্রতি অনেক দুর্বল। আমি ম্যাডামের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। আমার মা মারা গেছেন ২০১২ সালে। কিন্তু তার পরেও আমি ম্যাডামকে দেখে মনি করি আমার মা বেঁচে আছেন। আমি ম্যাডামকে মা মনে করে এখনো জীবনযাপন করছি। দলের জন্য, ম্যাডামের জন্য দলের সবারই অনেক কষ্ট তবে আমার কষ্টটা অনেক বেশি।''

বিএনপির ঐক্য নিয়ে তিনি বলেন, ''অনেকেই বলে দল ভেঙ্গে যাবে, দল থাকবে না। জিয়াউর রহমান মারা যাবার পরেও এমন কথা এসেছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান মারা যাবার পরে ম্যাডাম বিএনপিকে আরো শক্তিশালী করেছেন। ঠিক তেমনি এখন যতই নাজুক অবস্থা আসুক বিএনপি দিনে দিনে আরো শক্তিশালী হচ্ছে। বিএনপি মানুষের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে। আমি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে কাজ করি। আমার এলাকার তৃণমূলের মানুষের কাছ থেকে জানি তাদের কাছে বিএনপির কতটা জনপ্রিয়তা। সাধারণ একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ একটা দুইটা ভোট পাবে কি না সন্দেহ। মানুষ বলে ১০ ভাগ ৫ ভাগ, আমি বলি শেখ হাসিনা তার নিজের ভোট ছাড়া অন্য কারো ভোট পাবে কিনা সন্দেহ।''

সংসদীয় আসন (ফরিদপুর-৪) নিয়ে শায়লা বলেন, ''আমার আসনে বিএনপির অনেক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে এখন আওয়ামী লীগের অনেক চাপ আছে। চাপের মধ্যে কেউই কাজ করতে পারছে না। আমি নিজেও করতে পারছি না। আমি আগে ব্যাপক আকারে কাজ করতাম। এলাকায় আমার নেতাকর্মী প্রচুর। দলের সব রকম কর্মসূচি আমি এলাকায় গিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে করি। গত ২৩ জনু আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকিতে আমি ইফতার পার্টি দিয়েছিল এলাকায়। সেদিন আওয়ামী লীগের এমপি কাজী জাফরউল্লাহ খাবারের আয়োজন করেছিল আর আমি বিএনপির তরফ থেকে ইফতারের আয়োজন করি। কিন্তু তার আয়োজন থেকে আমার ইফতার পার্টিতে বেশি মানুষ হয়েছিল। তার আয়োজনে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ হয়েছে। তাহলে বোঝেন বিএনপির জনপ্রিয়তা কেমন?''

আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞ প্রতিদ্বন্দ্বীকে কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ''আমি বিএনপির ব্যানারে নির্বাচন করবো। বিএনপি খুবই জনপ্রিয় এবং বড় একটি রাজনৈতিক দল। আমার এলাকায় বিএনপির অগণিত ভোট রয়েছে। সব ভোটই আমি পাব। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমি একজন নারী। যেহেতু ৫০ ভাগের বেশি নারী ভোটার, আমি যদি শুধু নারী ভোটারদের ভোট সংগ্রহ করতে পারি তার পরেও আমি জিতবো। তরুণ হিসেবে আমি তরুণ প্রজন্মের সম্পূর্ণ সাপোর্ট পাবো। নারীরা সরাসরি আমাকে বলেছে, আপনি আসলে আমরা আপনার কাছে যেতে পারবো। আপনার কাছে আমরা সুখ দুঃখের আলাপ করতে পারি। এজন্যই তারা আমাকে আশা করছে। পাশাপাশি মুরব্বিরা বলছেন, আমি আসলে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি হবে না, নেশা দুর হবে। তরুণদের কাছে আমার কাজের স্টাইল খুব পছন্দ। সব দিক থেকেই তারা আমাকে পছন্দ করেছে।''

''রাজনীতির জন্য যদি কারো সৎ উদ্দেশ্য থাকে তবে সে পারবে। আমি পরিশ্রমী, সৎ উদ্দেশ্য আছে আমার, আমার সাথে নেতাকর্মী আছে। আমার এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবেও জনপ্রিয় এবং তাদের খুবই আপন। আর এক জিনিস বার বার মানুষ খেতে চায় না। তরুণ প্রজন্মরা চায় পরিবর্তন।''

নির্বাচত হলে জনগণের জন্য, এলাকার জন্য কি কি করবেন এমন প্রশ্নে জবাবে তরুণ এই নেত্রী বলেন, ''প্রথমত, সাধারণ শিক্ষিতদের কর্মের ব্যবস্থা করবো, চাকুরীর ব্যবস্থার পাশাপাশি এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবো, নারীদের জন্য আলাদা করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো, কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প নিয়ে কাজ করবো। দ্বিতীয়ত, মাদকমুক্ত এলাকা গড়ে তুলবো। বৃদ্ধদের জন্য বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করবো। যারা খুবই গরিব, যাদের আয় করার অবস্থা নেই তাদের কার্ড করে দিবো। তারা যেন দুমুঠো খেয়ে বাঁচে। পড়ালেখার পাশাপাশি যারা ভালো ফলাফল করবে তাদের প্রথম ২০ জন বা ৫০ জনকে প্রতিবছরই পুরষ্কৃত করবো। এতে করে খারাপ ছাত্ররাও উৎসাহিত হয়ে ভালো ফলাফল করবে। এলাকার প্রতিটি স্কুলে আমার একটা ফান্ড থাকবে। এলাকায় অভিযোগ জমা দেয়ার জন্য অভিযোগ বাক্স থাকবে। সর্বোপরি এলাকার সব রকম উন্নয়ন করবো। যা মানুষের কল্যাণে আসবে।''

নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুতি কি নির্বাচনের পরে থাকবে? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ''এর আগে যারা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তারা কোনো উন্নয়ন করেনি। তারা স্বপ্ন দেখায়, আসলে করবে, তার পরে জনগণের স্বপ্ন ভেঙে যায়। আমি আসলে করবো না, আমি অলরেডি করছি। আমি ছোট বেলা থেকেই মানুষের জন্য কাজ করেছি। এখনও করছি। এখন কিন্তু সরকার বা অন্য কেউ আমাকে টাকা দিচ্ছে না। আমি আমার নিজের টাকা খরচ করে করছি, আগামিতেও করবো। আমি নির্বাচনের আগে যা বলবো তা যে পরেও করবো এটাই তার প্রমাণ।''

দলের পক্ষ থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার শতভাগ প্রত্যাশা নিয়ে তিনি বলেন, ''একটি এলাকার প্রত্যেকেই নমিনেশন চাইতে পারে। এটা তার গণতান্ত্রিক অধিকার। আমি এতে বাঁধা দেবো না। সবাই যেমন নমিনেশন চাচ্ছে আমিও চাচ্ছি। আমি ভালো চিন্তভাবনা নিয়ে কাজ করছি, এলাকায় নিয়মিত যাচ্ছি, মানুষকে নিয়ে কাজ করছি। নির্বাচন করবো বলেই যে মানুষের পাশে যাচ্ছি তা নয়। আমি উপজেলা নির্বাচন করেছি, ৩০ হাজার ভোট পেয়েছি। ইতোপূর্বে উপজেলা নির্বাচন করে বিএনপিতে এতো ভোট কেউ পায়নি। এমপি প্রার্থীরাও পায়নি। এটাই হচ্ছে প্রমাণ যে জনগণের সাপোর্ট আমার প্রতি আছে। আমাকে জনগণ চায়। আমি যেহেতু মানুষের সেবা করছি, আমার মনের মত বড় করে মানুষের সেবা করতে হলে এমপি হওয়া ছাড়া করা সম্ভব নয়। আমি অলরেডি বিএনপির মনোনিত।''

''মননোয়ন প্রার্থী অনেকেই থাকতে পারে। আমি মনে করি যে, মনোনয়ন পাওয়ার জন্য একজন নেতার মধ্যে যতগুলি গুণাবলি থাকা দরকার, আমার মধ্যে তার থেকেও বেশি আছে। রাজনীতি করতে গেলে শুধু গুণাবলি থাকলেই হয়না তার অর্থনৈতিক সাপোর্টও দরকার। আমার সেটাও আছে।''

দেশ এবং মানুষকে নিয়ে তার স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেন, ''ফরিদপুর-৪ আসনকে আমি এমনভাবে তৈরি করবো, যাতে ফরিদপুর-৪ সারা বাংলাদেশের একটা আইডল হবে। সারা বাংলাদেশ ফরিদপুর-৪ কে অনুসরণ করবে।''

প্রতিবেদকের সঙ্গে শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা
শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা বলেন, ''আমি ৮ ফ্রেব্রুয়ারি যেভাবে মার খেয়েছি এটা সবাই দেখেছে। ২৪ তারিখেও আমি দলের জন্য একই রকমের ভূমিকা রেখেছি। আমার জীবনের ঝুঁকি ছিল, গ্রেফতার হওয়ার ভয় ছিল, তার পরেও আমি কাজ করে গেছি। সবারই ভূমিকা ছিল তবে আমার ভূমিকা সবার থেকে বেশি ছিল। আমি সারাক্ষণ স্লোগান দিয়েছি। যখন রঙ্গিন পানি দেয় আমি পানি খেয়েও দাঁড়িয়ে থাকি। দৌঁড় দেইনি। পানি শেষ হয়েছে তবু আমি শেষ হয়নি। আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে অবশ্য অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিলাম। আন্দোলনের জন্য সারা দেশ এখন আমাকে আইডল মনে করছে। ৮ তারিখের পরে সমস্ত মেয়েরা আমাকে দেখে মাঠে নেমে গেছে। এটা আমার জন্য বড় পাওয়া যে আমি মানুষকে মাঠে নামাতে পেরেছি। আমি আমার এলাকার উন্নয়ন করে মানুষের চোখে আইডল হতে চাই।''

দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ''আমি জনগণকে বলবো, বিএনপি অনেক কষ্ট করেছে। বিএনপি গণতন্ত্রের দল, বিএনপি মানুষের দল। আমাদের নেত্রী মানুষের জন্যই দেশ ছেড়ে যাননি। যার সন্তান মারা গেল, এক ছেলে বিদেশে, তিনি নিজেও এখন কারাগারে। এতো কষ্ট করছেন শুধু দেশের মানুষের জন্যই। দেশের মানুষকে বলবো আপনাদের চোখ-কান খোলা রাখেন, আপনারা দেখেন। এই পরিবারটার দিকে আপনারা তাকান। যে পরিবারটা আপনাদের জন্যই শেষ হয়ে গেছে। তাদের পাশে এসে দাঁড়ান, তাদেরকে ভোট দেন। আপনার নিজেদের কথা নিজেরা বলেন এবং আপনাদের অধিকার নিজেরা আদায় করে নেন। আওয়ামী লীগ যেভাবে অত্যাচার করছে আপনারা আর মেনে নিয়েন না। আপনারা গর্জে উঠুন, আপনারা মাঠে নামুন, আমাদের সাথে একত্রিত হয়ে বিএনপিকে আবারো ক্ষমতায় আনেন। দলের পাশাপাশি মানুষকে সেবা করার সুযোগ করে দেন।''

ফেমাসনিউজ২৪.কম/এমআরইউ/এসআর/এসএম