logo

মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ, ১৪২৫

header-ad

উল্টো পথে চললে চাকা ফুটো!

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক | আপডেট: ১১ মার্চ ২০১৮

রাস্তায় নৈরাজ্য, যেন আইন ভাঙার হিড়িক। কে শুনে কার কথা, সুযোগ পেলেই যে যার মতো চলে। উল্টো আর সোজা তাকাবার সুযোগ নেই। ঢাকা শহরে নানা ট্রাফিক অব্যবস্থপনার মধ্যেই উল্টো পথে চলে গাড়ি। বাইকার, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ভিআইপি– অনেকেই নিজের তাড়াতাড়ি যাওয়া নিশ্চিত করতেই উল্টো পথে গাড়ি ছোটান। এতে দুর্বিসহ হয়ে ওঠে যাত্রীর জীবন। অথচ উল্টো পথে গাড়ি বন্ধ করতে একটি যন্ত্রও বসিয়েছিল ট্রাফিক পুলিশ। কথা ছিল গাড়ি উল্টো পথে চললে তাতে চাকা ফুটো হয়ে যাবে। কিছুদিন পর এ যন্ত্রটিও নষ্ট হয়ে যায়৷ ঢাকা শহরের গাড়িকে স্বয়ংক্রিয় সংকেত বাতির ওপর নির্ভরশীল করে দিতে সর্বশেষ ২০১৫ সালে একটি উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

অপরদিকে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীবাহী গাড়িকে। তবে রাস্তা ফাঁকা পেলে যেন দেরি সয় না অনেক চালকের। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে দেন তারা। এর ফলে অনেক সময়ই প্রাণ যায় মানুষের। প্রিয়জন হারানোর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ বাতাস। কেবল ঢাকার রাস্তাতেই প্রতিবছর কয়েকশ' মানুষের প্রাণ যায়।

রাজধানীর ঢাকার সড়কগুলো আর যাই হোক, বিপুল পরিমাণ মানুষ আর যান বাহনের চাপ সামলানোর মতো নয় বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত৷ সরু সেই সব রাস্তার অবস্থা আরো করুণ হয়ে যায়, যখন যত্রতত্র পার্কিংয়ে এ রাস্তা আরো সরু হয়ে যায়।

আধুনিক জীবনে যানবাহনের বিকল্প নেই। ঘর থেকে বেরুলেই কমবেশি সবাইকে চড়তে হয় কোনো না কোনো যানে। অথচ আমাদের জীবনের এই জরুরি অনুষঙ্গটি পথেঘাটে প্রায়ই আমাদের উটকো যন্ত্রণা আর আশঙ্কা তৈরি করে। প্রতিদিন খবরের পাতায়, টিভিতে দুর্ঘটনার খবর এখন আমাদের কাছে সাধারণ বিষয়। কিন্তু একটু সচেতনতা আর যুগোপযোগী মোটরযান আইনের যথার্থ বাস্তবায়নে বেঁচে যেতে পারে অনেক মূল্যবান প্রাণ।

সড়কে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গাড়ির চালক ও মালিকের দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোটরযান আইনের বিভিন্ন বিধান থাকলেও বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ নেই। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে গাড়ির চালকদের বেশির ভাগেরই তেমন কোনো ধারণা থাকে না। ফলে আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

মোটরযান আইনের বিধান অনুসারে ২০ বছরের নিচে কোনো ব্যক্তি পেশাদার চালকের আসনে বসতে পারবে না। অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালানো একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। চালকের পাশাপাশি সহকারী চালকের জন্যও লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। আইন অনুসারে এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করতে পারেন।

গাড়িতে চালকের পাশাপাশি এক বা একাধিক শ্রমিক থাকে। যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়কারীকে আমরা কন্ডাক্টর বলি। গাড়ির কন্ডাক্টর হতে হলে ১৮ বছর এবং কন্ডাক্টরের লাইসেন্স থাকতে হবে। পঙ্গু বা রোগাক্রান্ত কেউ কন্ডাক্টর হিসেবে গাড়িতে কাজ করতে পারবে না।

আইন অনুযায়ী গাড়ির চালক যতখানি সম্ভব রাস্তার বামদিকে নির্ধারিত লেনে গাড়ি চালাবেন এবং বিপরীত দিক থেকে আসা সব যানবাহনকে ডান দিক দিয়ে যেতে দেবেন। চালক যদি কোনো মিছিল কিংবা একদল সৈন্য বা ওই রাস্তায় কার্মরত পুলিশের সম্মুখীন হন কিংবা রাস্তা মেরামতে নিয়োজিত শ্রমিকদের পাশ দিয়ে যান তাহলে গাড়ির গতি ঘণ্টায় ১৫ মাইলের বেশি করা যাবে না।

চালক এমনভাবে গাড়ি চালাবেন, যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। দুটি গাড়ি অতিক্রম করার সময় পরস্পরের গায়ে যেন না লাগে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে । স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল এলাকা দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় চালককে সব দিকে নজর রাখতে হবে এবং নির্দিষ্ট গতিসীমার চেয়ে বেশি গতিসীমায় গাড়ি চালানো যাবে না।

চালককে বাধ্যতামূলক ট্রাফিক সংকেত মেনে চলতে হবে। ট্রাফিক পুলিশ চাইলে গাড়ির কাগজপত্র দেখাতে চালক বাধ্য থাকবেন। রাস্তায় পথচারী পারাপারের জন্য নির্ধারিত সীমানার ওপর দিয়ে পথচারী পারাপারের সময় চালককে নির্দিষ্ট লাইন বরাবর অবশ্যই গাড়ি থামাতে হবে।

ঢাকার রাস্তায় আরেক যন্ত্রণা সৃষ্টি করে খোদ পথচারীরাই। নির্ধারিত জায়গার পরিবর্তে যেখানে সেখানে রাস্তা পার হয়ে যান তারা। রাজধানীতে পথচারীদের আইন না মানার প্রবণতাও এখানকার দুর্ঘটনার একটা কারণ। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে নানা আইন থাকলেও, সেটা প্রয়োগে ফাঁকি রয়েছে। খোদ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনেক সদস্যকেই আইন ভাঙতে দেখা যায়।

ঢাকার সমস্যা গণপরিবহন ব্যবস্থায় নৈরাজ্য। মানসম্মত গণপরিবহনের অভাব তো রয়েছেই। যে গাড়িগুলো রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। যেখানে সেখানে থামিয়ে যাত্রী তোলা যেন নগরীর নিত্যদিনের চিত্র।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম