logo

বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ, ১৪২৫

header-ad

ফুটপাতে ঠকবাজির এনার্জি বাল্ব!

মো. আখতারুজ্জামান | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৮

'এনার্জি বাল্বে বিশেষ ছাড়। শুধুমাত্র কোম্পানির প্রচারের জন্য ৩০০ টাকার স্টার এনার্জি বাল্ব দিচ্ছি মাত্র ১০০ টাকায়। হ্যাঁ ভাই, ৩০ ওয়াটের একটা স্টার এনার্জি লাইট পাচ্ছেন মাত্র ১০০ টাকায়। সাথে থাকছে ছয় মাসের ওয়ারেন্টি কার্ড। আজই আসুন।' এভাবেই চমকপ্রদ কথার মাধ্যমে কম দামে এনার্জি সেভিং বাতি বিক্রি কতে দেখা যায় রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে।

রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, মগবাজার, গুলিস্তান, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব নিম্নমানের সিএফএল (এনার্জি সেভিং) বাতি খুচরা বিক্রি হয়। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি বাল্ব ১০০ টাকায় বিক্রি করলে বাল্বপ্রতি ৩০-৪০ টাকা লাভ থাকে। ফুটপাতে বিক্রি হওয়া এসব স্বল্পমূল্যের বাল্বের ক্রেতা মূলত নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত লোকজন।

জানা যায়, রাজধানীর ফুটপাতে স্বল্পমূল্যে বিক্রি হওয়া বাতিগুলো মূলত কিছু লোকাল ব্যবসায়ী চীন থেকে যন্ত্রাংশ কিনে নিয়ে এসে দেশে মেনুফ্যাকচারিং করছে। কারণ এভাবে যন্ত্রাংশ নিয়ে আসলে খরচ কম পড়ে। অন্যদিকে এসব যন্ত্রাংশ অতি নিম্নমানের। তাই ফুটপাতের এই এনার্জি নামে বিক্রি হওয় বাল্বগুলো বেশিদিন টিকে না।

রাজধানীতে স্টার প্লাস, স্টার লাইট, শাহ এনার্জি কোম্পানি, রানা ইলেকট্রিক, ন্যাশনাল কোম্পানিসহ বিভিন্ন কোম্পানির নামে এই এনার্জি বাল্ব বিক্রি হচ্ছে। এমনকি নষ্ট হওয়া এনার্জি বাতির সার্কিটগুলো পুরান ঢাকার নবাবপুরে রিপেয়ার করে আবার বাজারে ছাড়া হয়।

পুরানা পল্টন মোড়ে বাতি কিনতে আসা নাসির উদ্দিন ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এনার্জি বাতিতে বিদ্যুৎ কম খরচ হয়। দোকানে একটা বাতি কিনতে লাগে তিন থেকে চারশ' টাকা। এতো টাকা দিয়ে বাতি কেনার মত সামর্থ্য নেই। এই বাতিগুলোয় হলুদ বাতির চাইতে অনেক ভালো আলো হয় আর দাম কম। তাই এগুলো কিনি।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য মতে, সাধারণ বাল্বের আলোতে স্বল্পমাত্রায় অতি বেগুনী রশ্মি উপস্থিত থাকে। তবে সিএফএল বাল্বে ক্ষতিকর রশ্মির মাত্রা অনেক বেশি। তাছাড়া এই নিম্নমানের বাতি প্রথম কয়েকদিন উজ্জ্বল আলো দিলেও পরে আসতে আসতে আলো কমতে থাকে, যার কারণে চোখে সমস্যা হয়।

রাজধানীর গুলিস্তানের ফুটপাতে ব্যাপক হাকডাক ও সাউন্ড বক্স বাজিয়ে এসব বাল্ব বিক্রি হয়। কথা হয় আল আমিন নামের এক ক্রেতার সাথে। তিনি জানান, কম দামে পাওয়া যায় তাই একটা কিনলাম। সাথে ওয়ারেন্টিও দিল।

পাশে দাঁড়ানো ফজলু নামে একজন বলেন, এসব বাতি ভালো না। কয়েকদিন পরই আলো কমে যায়। তারপর আস্তে আস্তে কালো হয়ে এক সময় নষ্ট হয়ে যায়। আর এতে সময় লাগে মাত্র দেড় থেকে দুই মাস। আমি কয়েকবার কিনে প্রতারিত হয়েছি।

রাজধানীর মুগদাপাড়ার বাসিন্দা ফজুল বলেন, আমি মা এনার্জি নামের একটা কোম্পানির বাতি কিনেছিলাম গুলিস্তান থেকে। তখন আমাদের তারা একটা ৬ মাসের ওয়ারেন্টি কার্ড দিয়েছিল। পরে দুই মাসের মধ্যে আমার বাতি নষ্ট হয়ে যায়। আমি ওয়ারেন্টি কার্ড ও নষ্ট বাতি নিয়ে এসে বলি, এটা আপনাদের কোম্পানির বাতি। তারা আমাকে জানায় যে, এই কোম্পানির বাতি শেষ হয়েছে। থাকলে আপনাকে দিতাম।

কথা হয় রাজধানীর গুলিস্তানের ফুটপাতে এনার্জি বাতি বিক্রেতা মামুন-অর রশিদের সঙ্গে। তিনি আরএস স্টার এনার্জি কোম্পানির বাতি বিক্রি করছেন। রশিদ জানান, একেক দিন একেক রকম বিক্রি হয়। প্রতিটা বাতি বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ টাকা লাভ থাকে।

আপনারা ওয়ারেন্টি কার্ড দিয়ে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করেন এমন প্রশ্নের জবাবে রশিদ বলেন, না, আমি এমন করি না। আমার কাছে কেউ ওয়ারেন্টি কার্ড নিয়ে আসলে তাকে কোম্পানির বাতি থাকলে দিয়ে দিই। না থাকলে দেব কি করে। তবে আমি কয়েক বছর ধরে এ ব্যবসা করে আসছি। এখন পর্যন্ত কেউ বাল্ব ফেরত নিয়ে আসেনি।

এইচআরসি এনার্জি বাল্ব কোম্পানির সহকারী ম্যানেজার রাসিফ রানা জানান, ফুটপাত থেকে যারা নিম্নমানের এনার্জি বাতি কিনে প্রতারিত হচ্ছেন তারা পক্ষান্তরে এনার্জি বাতির প্রতি বিরুপ ধারনা নিচ্ছেন। তবে আমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে- ১০০ টাকায় কখনও এনার্জি বাতি পাওয়া যায় না।

বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক আলমগীর রহমান জানান, আমরা অনেকেই এখন এনার্জি সেভিং বাতির দিকে ঝুঁকছি। এতে করে এনার্জি সেভিং হয়। তবে আমরা না বুঝে নিম্নমানের এনার্জি সেভিং বাতি কম দামে বাজার বা ফুটপাত থেকে কিনে নিই। আমাদের জানা দরকার এসব নিম্নমানের এনার্জি বাতির আবরণ ভালো থাকে না। এসব নিম্নমানের বাতি থেকে অতিবেগুনী রশ্মি নির্গত হয়, যা ক্ষতিকর। বাতির ভেতরে পারদসহ কিছু ক্ষতিকর পদার্থ থাকে। বাতি ভেঙে গেলে এসব পদার্থ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম