logo

সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৮ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

যে দোকানে ক্রেতা আছে, বিক্রেতা নেই!

বাকি বিল্লাহ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৮

দোকানে বিক্রেতা নেই এমন দোকান খোঁজে পাওয়া ভার। বিক্রেতা ছাড়া কোনো দোকান চলে না। কিন্তু রাজধানীর কিছু দোকান ঘুরে দেখা যায়, যে দোকানে বিক্রেতা নেই। দোকানের একপাশে বা সাইনবোর্ডে শুধু দোকানিদের মুঠোফোন নাম্বার লেখা থাকে। কারো প্রয়োজন হলে ওই মুঠোফোন নাম্বারে ফোন দিলে দোকান মালিকের দেখা মেলে। এসব দোকানের ভিন্ন ভিন্ন কয়েকটি নাম থাকলেও সবার কাছে ‘বিদায় স্টোর’ বা ‘শেষ বিদায় স্টোর’ নামে পরিচিত।

দোকানগুলোতে মূলত মৃত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করা হয়। সেসব জিনিসপত্রের মধ্যে কফিন, কাফনের কাপড়, সাবান, খিলাইল, আতর, কর্পুর, সুরমা, আগরবাতি, তুলা, মোমবাতি ও দিয়াশলাই অন্যতম।

রাজধানী ঘুরে কয়েকটি ‘শেষ বিদায় স্টোর’-এর মালিকের সঙ্গে কথা হয়। মগবাজার চৌরাস্তা এলাকার একটি ‘শেষ বিদায় স্টোর’ এর মালিক মো. হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, তার দোকান সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। সাইনবোর্ডে থাকা মুঠোফোন নাম্বারে যেকোনো সময় কল করলে তিনি দোকানে এসে প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করেন।

প্রতিদিনের বিক্রি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বিক্রি হয়। শুক্রবার ও বিশেষ ধর্মীয় দিনে আরো বেশি বিক্রি হয়। কেননা ওইসব দিনে প্রায় সবাই তাদের আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করতে যায় বা মিলাদ পড়ায়।

তার দোকানের কোন পণ্য সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জানতে চাইলে মো. হাফিজুর রহমান জানান, দোকানে থাকা জিনিসগুলো প্রায় সবগুলোই সমান বিক্রি হয়। কেউ মারা গেলে কাফনের কাপড়, সাবান, খিলাইল, আতর, কর্পুর, সুরমা, আগরবাতি, তুলা, মোমবাতি ও দিয়াশলাই সবই লাগে।

তিনি জানান, কফিন কম বিক্রি হয়। গ্রামের কেউ মারা গেলে তখন কফিন বিক্রি হয়। এছাড়া আতর ও সুরমা বেশি বিক্রি হয়। লোকজন আতর ও সুরমা বেশি কেনে।

খিলগাঁও পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় কয়েকটি ‘বিদায় স্টোর’ এর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বিভিন্ন দামে কফিন বিক্রি করেন। এগুলো ৯শ’ থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত। তবে অনেক ক্ষেত্রে তারা নামমাত্র দামেও কফিন বিক্রি করেন। এর কারণ হিসেবে তারা জানান, মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে দাম গুরুত্বপূর্ণ না, এটা তাদের কাছে সওয়াবের কাজ মনে হয়।

বিদায় স্টোরের আরেক মালিক মো. মাহবুবুর রহমানের কাছে কাফনের কাপড় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, টেইলারদের দিয়ে তিনি পুরুষ ও মহিলাদের জন্য কাফনের কাপড় বানান। পুরুষদের জন্য তিন পিস ও মহিলাদের পাঁচ পিস কাপড়। কাফনের কাপড়ের দাম ১৩শ' থেকে ১৫শ' টাকা বলে জানান তিনি।

আরেক 'শেষ বিদায় স্টোরের মালিক মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, তিনি খুচরা ছাড়াও মৃত ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র একত্রে প্যাকেজ হিসেবেও বিক্রি করেন। সেক্ষেত্রে প্যাকেজের দাম পড়ে ২ হাজার ৩শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা।

দামের কমবেশি নিয়ে তিনি জানান, এসব কেনাকাটায় লোকজন তেমন বেশি দরদাম করে না। আর আমরাও কারো কাছ থেকে বেশি দাম রাখি না। সবসময় চেষ্টা করি কমিয়ে রাখার। এটা আমার কাছে পবিত্র কাজ মনে হয়।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম