logo

সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩ পৌষ, ১৪২৫

header-ad

'জননেত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথেই কাজ করছি'

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০১৮

মশিউর রহমান মোল্লা সজল। ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। পারিবারিকভাবে আওয়ামী পরিবারের সন্তান হওয়ায় জন্মের পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করেছেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে আসার পরেই তার আদেশ, নির্দেশ মেনেই পথ চলছেন এই নেতা। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেয়ায় ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। নৌকার নামে জীবনের প্রথম স্লোগান দিয়েছেন এই জনপ্রিয় নেতা। যার রক্তে মিশে আছে আওয়ামী লীগ।

বাবা আলহাজ হাবিবুর রহমান মোল্লা এমপির রাজনৈতিক সততা, দক্ষতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়েছেন মশিউর রহমান। জননেত্রী শেখ হাসিনার কার্যক্রম দেখে শিখেছেন কীভাবে দেশ এবং দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবতে হয়। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সে লক্ষ্যে ঢাকা-৫ আসনের উন্নয়নে নিজেকে সর্বদিক দিয়ে মনোনিবেশ করতে চান এ নেতা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন এবং ঢাকা-৫ আসন নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানালেন ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এ প্রতিবেদকের কাছে।

রাজনীতিতে প্রবেশ সম্পর্কে মশিউর রহমান মোল্লা সজল বলেন, রাজনীতিতে আসার মূল কারণ ও অনুপ্রেরণা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা । তিনি বলেন, আমার বাবা হাবিবুর রহমান মোল্লা দীর্ঘ ৬০ বছরের অধিক সময় ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। শুরু থেকে আজ অবধি আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আছেন। আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আমার চাচা হাফিজুর রহমানও ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সম্মুখযুদ্ধে তিনি শহীদ হয়েছেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ছোট থাকায় সরাসরি দেশের জন্য অবদান রাখতে না পারলেও বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের প্রতি অন্যরকম টান অনুভব করতে থাকি। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বজন হারানো মানুষের কাছে এ দেশের টানটা অনেক বেশি। কারণ আমাদের স্বজনদের রক্তের বিনিময়েই এ দেশ স্বাধীন হয়েছে।

'আমার বোঝার বয়স হওয়ার পর থেকে বুঝতে পারি, আমরা যারা জন্মগতভাবে আওয়ামী পরিবারের সন্তান তাদের দায়িত্বই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষে শেখ হাসিনার নির্দেশে কাজ করা। জননেত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথেই কাজ করছি'।

রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং আদর্শ সম্পর্কে মশিউর রহমান মোল্লা সজল বলেন, আমার মূল আদর্শই হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা। একইসঙ্গে জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা। এর পাশাপাশি আমার নিজস্ব একটা লক্ষ্য রয়েছে। ঢাকা -৫ আসন নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। আমাদের এলাকায় যে উন্নয়নের অগ্রধারা সেটা যেন গতিময় থাকে সে লক্ষ্যে কাজ করছি। নাগরিকদের সর্বাধিক সুবিধার মধ্যে আনা, রাস্তাঘাট, জলাবদ্ধতা নিরসন এগুলো ধারাবাহিক উন্নয়নের পাশাপাশি আমার মূল লক্ষ্যই হলো ঢাকা-৫ আসনকে ‘শিক্ষা জোন’ হিসেবে গড়ে তোলা। একইসঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা। সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, অবৈধ জমি দখলদার সবাই মাদকের সঙ্গে জড়িত।

মাদক নির্মূলের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয়- মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। সমাজের মানুষকে সচেতন করতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে হলে আমার প্রধান অবলম্বন শিক্ষা জোন। আমরা যদি শিক্ষার আলো সঠিকভাবে অর্থাৎ সু-শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারি তাহলে মাদক বন্ধ হয়ে যাবে। এতে করে একদিকে আমাদের সন্তানেরা সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হবে অন্যদিকে মাদক বন্ধ হয়ে যাবে।

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দেখা এ নেতা বলেন, যারা দলীয় পদ অবৈধভাবে ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে বিত্তবান হয়েছেন তাদের থামাতে পারছি না। তারা কোনো না কোনোভাবে দলীয় পদে চলে আসেন। এসেই তারা অনৈতিক কাজগুলোকে সহযোগিতা করেন।

নিজ এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বর্তমান সংসদ সদস্যের তত্ত্বাবধানে ঢাকা-৫ আসনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো। এ এলাকা নিরপত্তা ব্যবস্থা যাতে একশ' ভাগ নিরাপদ থাকে অর্থাৎ আমাদের মা-বোনেরা যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করবো। অনেক সময় আমাদের মা-বোনেরা নিরাপত্তা সংকটে বাসা থেকে বের হতে পারে না। কিন্তু সেই ভয় কাটিয়ে যাতে সবাই যখন তখন নিজেদের প্রয়োজনে নিরাপদে বাসা থেকে বের হতে পারে এবং স্বাচ্ছন্দে পথ চলতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করবো। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তো দূরের কথা তাদের দিকে কেউ খারাপ দৃষ্টিতেই তাকাবে না। পুরো দৃষ্টিভঙ্গিই পরিবর্তন করতে চাই।

ঢাকা-৫ আসনের উন্নয়ন নিয়ে মশিউর রহমান মোল্লা সজল বলেন, দৃশ্যমান উন্নয়নের মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ রাস্তার উন্নয়ন হয়েছে। ২০ থেকে ৩০ ভাগ রাস্তার উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। হাজী গফুর উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এ সরকারের আমলে। এছাড়া প্রায় প্রতিটি স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসার অবকাঠামগত উন্নয়ন হয়েছে। অনেকগুলো গভীর এবং অগভীর নলকূপ স্থাপন করে সুপীয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে তিনি বলেন, আমরা একটি কাজে এখনো সফল হতে পারিনি। এখনও কাজ চলছে। পরো বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধ হয়ে যায়। শুধু ঢাকা-৫ আসনই নয় পুরো ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ ডেমরা (ডিএনডি) এলাকারই এমন দশা হয়। তাই এটা নিরসনে শুধু ঢাকা-৫ আসনে কাজ করলে হবে না, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-৪, ঢাকা-৫, ঢাকা-৯ সহ ডিএনডি প্রজেক্টের পুরো এলাকার একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটি চিরস্থায়ী সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ চলছে।

শিক্ষা জোন তৈরি নিয়ে মশিউর রহমান মোল্লা সজল বলেন, আল্লাহ যদি আমাকে সেই জায়গায় দাঁড় করায়, একইসঙ্গে আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি মনে করেন- আমি জনগণের জন্য যোগ্য হবো তবে এই শিক্ষা জোন সহজেই হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে জরিপ করা হবে। সেই জরিপ অবশ্যই জননেত্রী চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন। জরিপে যদি জননেত্রী শেখ হাসিনা দেখতে পান যে, অন্য যারা প্রার্থী আছে তাদের থেকে যোগ্যতার দিক দিয়ে আমার ব্যবধান আছে, সেক্ষেত্রে নেত্রী যদি সিদ্ধান্ত নেন তবেই শিক্ষা জোন করা আমার জন্য সহজ হবে।

'এছাড়া আমরা এখন উন্নয়ণশীল দেশে পদার্পণ করেছি। এই উন্নয়নশীলের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। যদি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করতে না পারি তবে হয়তো আমরা উন্নয়নশীলের মর্যাদা ধরে রাখতে পারবো না। কারণ দেশে অন্য যে দলগুলো আছে প্রত্যেকটি দলই দুর্নীতির সাথে সম্পর্কিত। যারা দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত তার উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পুরোপুরি অর্জন করতে পারবে না'।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে বর্তমান সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লা বা তাকে মনোনয়ন না দিলেও শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন দলের হয়ে তার জন্যই কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রার্থী যে কেউ হতে পারে। তবে আমার কাছে মনে হয়- প্রত্যেক প্রার্থীকে সর্বপ্রথম উপলব্ধি করতে হবে যে, তিনি সবদিক থেকে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখে কিনা। এখন যদি দেখা যায়- এমন কাউকে প্রার্থী দেয়া হলো যে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিল, বঙ্গবন্ধুর ছবিকে ভাঙচুর করে তার ওপর লাফিয়েছে। আবার যদি কেউ সরাসরি মাদক, অবৈধ জায়গা জমি দখল, অনৈতিক কাজে দলীয় পদকে ব্যবহার করে সহযোগিতা করে, তারাও চাইতে পারে মনোনয়ন। আসলে তাদের চাওয়ার যোগ্যতা কতটুকু? এমন লোক যদি চলে আসে তাহলে তো শিক্ষা জোন হিসেবে ঢাকা-৫ কে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেতে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মশিউর রহমান মোল্লা সজল বলেন, আমাদের আওয়ামী লীগ এবং সব সহযোগী অঙ্গসংগঠনের যে সমস্ত নেত্রীবৃন্দ, কর্মীরা আছেন, যারা আমাদের অর্থাৎ আলহাজ হাবিবুর রহমানের সমর্থক তারা শতভাগ আমাদের পরিবার থেকে সংসদ সদস্য দেখতে চায়। যদি কোনো কারণে আমার বাবা নির্বাচনে না আসতে পারে তবে এর পরেই জননেত্রী শেখ হাসিনা সবদিক বিবেচনা করে যদি মনে করে আমাকে দেবেন; তবে আমি আমার বাবার কাছাকাছি যেতে পারবো। কারণ আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য, পারিবারিক অর্জন, দলীয় অর্জন, ক্লিন ইমেজ থাকার কারণে আমার বাবার সব সমর্থকের ৯৫ ভাগই আমার সাথে কাজ করবে। তরুণ প্রজন্মের শতভাগ ভোটার আমার সাথে আছে।

ঢাকা-৫ আসনে বর্তমানে আওয়ামী লীগের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, একসময় আমাদের এই অংশ একটি অংশে ছিল অর্থাৎ ঢাকা-৪। একটা আসনকে ভেঙে এখন তিনটি আসন করা হয়েছে। ঢাকা-৪, ৫ এবং ৯। ভোটের পরিসংখ্যানে ঢাকা-৪ এ সংখ্যাগরিষ্ঠ আছে আওয়ামী লীগ। ঢাকা-৯ আসনেও আছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু ঢাকা-৫ আসনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ নেই। তবে আমি নতুন করে দায়িত্ব পাবার পর এখানে সংখ্যাগিরষ্ঠ করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

মনোনয়ন পাবার বিষয়ে নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে এই নেতা বলেন, আমি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাবার পর থেকে মাদক, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছি। দলীয় যত কর্মসূচি আসে যেভাবে দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ ভাই নির্দেশ দেন সেভাবেই সক্রিয় থেকে পালন করে আসছি। আমার ক্লিন ইমেজ প্রমাণ করে- আমি এমন কোনো অবস্থানে নেই যে, জনগণের উপকার করবো না। উপকার সব সময় না করতে পারলেও কখনই মানুষকে কষ্ট বা ক্ষতি করতে পারি না। সংগঠনের রুট লেভেলের একজন কর্মী হয়ে কাজ করছি, টাকার জন্য নয়। পুরোটাই রক্তের ধারাবাহিকতা। আমার পেশা এবং নেশা দুটোই ভিন্ন। নেশা হচ্ছে জনগণকে কীভাবে ভালো রাখা যাবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, স্বপ্নকে কীভাবে বাস্তব করা যায়, জননেত্রী শেখ হাসিনার আদেশ, নির্দেশ কীভাবে পালন করে সোনার বাংলা তৈরি করা যায়। আমার পেশার সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

নতুন ভোটারদের সম্পর্কে তিনি বলেন, যারা এবার নতুন ভোটার তারা নৌকায় ভোট দেবে এমন প্রতিশ্রুতি আমাকে দিয়েছেন। অর্থাৎ তাদের কাছ থেকে আমি নিতে পেরেছি- জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে। এই উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখতে তরুণ ভোটাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনা ছাড়া কোনো উপায় নেই। সেজন্য তারা মনস্থির করেছে- নৌকায় ভোট দেবে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম