logo

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

‘শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের আগে আর কিছু নয়’

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৩ মে ২০১৮

এম সাইফুল্লাহ সাইফুল। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক। জীবনের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করেছেন এই নেতা। বঙ্গবন্ধুকে বুকে ধারণ করে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথে চলছেন তিনি।

পারিবারিকভাবে ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী লীগের আদর্শ, নীতিকে অনুসরণ করেছেন। তার পরিবারের সব সদস্যই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে ছাত্রাবস্থায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। সেনপাড়া বড়বাগ ইউনিট আওয়ামী লীগের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেন এই তরুণ নেতা।

১৯৯০ সালে সরকারি বাংলা কলেজের বিকম শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, কলেজ শাখার গ্রন্থনা প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এই নেতা। এরপর মারুফ-মতি কমিটির মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য, অশ্রু-সাচ্চু কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি, অশ্রু-সাচ্চু সম্মেলন কমিটির চেয়ারম্যান, শামীম-পান্না কমিটির সদস্য, ঢাকা মহনগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

১৯৯৯ সালে তৎকালীন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ সভাপতি এম সাইফুল্লাহ সাইফুল দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেন এবং ওইদিন বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনাকে দেশরত্ন হিসেবে ভূষিত করা হয়।

এই তরুণ নেতা নিজের গুণাবলী দিয়েই তৃণমূল এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন সুসম্পর্কের বন্ধন। বাংলাদেশকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখেন সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে ঢাকা-১৫ আসনের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান এই নেতা।

নিজের রাজনৈতিক জীবন, ঢাকা-১৫ আসন, জনগণ এবং দলের হয়ে নিজের স্বপ্ন নিয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।

দলীয় পদ থেকে জনপ্রতিনিধিত্ব করার বিষয়ে জানতে চাইলে এম সাইফুল্লাহ সাইফুল বলেন, এ চাওয়াটা আজকে নতুন নয়। আমি ২০০৮ সালে এমপি প্রার্থী ছিলাম। আমি মনোনয়নপত্র জমা দিই। কিন্তু নেত্রী বলেছিলেন, তোমার বয়স আছে, কামাল মজুমদারের বয়স হয়েছে, তার হয়ে কাজ কর। পরবর্তীতে তোমারটা দেখবো। এর পরে কামাল মজুমদারকে আমি প্রথম সমর্থন করি এবং তিনিও জনগণের সামনে বলেছিলেন, এটাই আমার শেষ নির্বাচন এর পরে সাইফুল করবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনও তিনি করেছেন, এবারও তিনি প্রার্থী।

ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসন নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার এ আসনের প্রতিটি অলিগলি আমার পরিচিত। আমি এই জনপথের সন্তান। এ আসনের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। প্রত্যেকের সঙ্গেই আমার সখ্যতা আপনজনের মত। শুধু সমবয়সী নয় তরুণ, বৃদ্ধ সবাই আমাকে ভালোবাসে। আমিও তাদের পাশে সব সময় থেকেছি আগামীতেও থাকবো। আমার ইচ্ছা জনগণের পাশে থেকে তাদের সেবা করা।

তিনি বলেন, এ এলাকার রাস্তাঘাটের সমস্যা রয়েছে। বর্তমান এমপি কাজ করলেও এ আসনটি অপরিকল্পিত হয়ে আছে। এলাকার উন্নয়নের জন্য দরকার টিম ওয়ার্ক, যা আমার আছে। এ এলাকার জনগণকে নিয়ে আমার ভাবনা রয়েছে।

এম সাইফুল্লাহ সাইফুল বলেন, এলাকার রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ, পানির সমস্যা সমাধান, কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ, মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন করবো। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্ব দেব। এ এলাকায় শিক্ষাটা বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। আমি জনপ্রতিনিধি হলে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করবো। একইসঙ্গে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে ঢাকা-১৫ আসনকে বাংলাদেশের মডেল আসন হিসেবে গড়ে তুলবো।

মনোনয়ন প্রাপ্তির নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে তিনি বলেন, আগে যারা রাজনীতি করতো তাদের মানুষ স্যালুট করতো। আর এখন রাজনৈতিক নেতাদের মানুষ বাঁকা চোখে দেখে। আমি মনে করি, আমি পরিষ্কার পথে আছি। আমি যখন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম তখনও কোনো প্রকার টেন্ডারবাজি, দখলবাজি করিনি। এখনও এসব কোনো কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়ায়নি; আগামীতেও জড়াবো না। আল্লাহপাক আমাকে পারিবারিকভাবে যা দিয়েছে সেটা নিয়েই আমি এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করছি। মানুষের উপর জলুম করে আমি কখনই চলিনি, চলবোও না।

মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা করে এম সাইফুল্লাহ সাইফুল বলেন, আমার সততাই আমার মূল শক্তি। এ আসনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছেন। শুধু আমি না আমার সঙ্গে যারা আছেন তারা কেউই কোনো ধরনের খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত নন। আর আমার একটা টিম রয়েছে, যারা আমার একনিষ্ঠ কর্মী। যারা সজীব, পরিষ্কার। যারা কোনো অসাধু কাজের সঙ্গে জড়িত নয়। এদিক থেকে আমি মনে করি- আমি সবার থেকে আলাদা।

মনোনয়ন প্রাপ্তিতে দলের জরিপে নিজের ফলাফল পজেটিভ বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ নেতা। তিনি বলেন, আপা যে ধরনের নেতৃত্ব চাচ্ছেন আমি তা দিতে পারবো। আশা করি- মনোনয়ন পাব। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলে এ আসনে ঈদের আনন্দে মানুষ আমাকে ভোট দেবে। আমি জয়ী হব এবং দেশরত্নের যে স্বপ্ন তা বাস্তবায়নে আমার টিম নিয়ে কাজ করবো।

এম সাইফুল্লাহ সাইফুল বলেন, তবে এ আসনে তাকে ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলেও দলের হয়ে তার পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানান। বলেন, দল আগে, ব্যক্তি নয়। অবশ্যই সভানেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তার হয়েই আমি কাজ করবো। আপার সিদ্ধান্তের আগে আর কিছু নয়, কোনো কথা নেই। আমার যত যোগ্যতাই থাকুক না কেন, নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন, যাকেই দেবেন তার জয়ের জন্য অবশ্যই কাজ করবো। যদি শেখ হাসিনার নির্দেশ না মানি, তবে এ সংগঠন কারো করা উচিত নয়। কারণ সবার আগে নেত্রীর সিদ্ধান্ত।

দল ও জনগণ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুরে ধরে এম সাইফুল্লাহ সাইফুল বলেন, দল দেশের বাইরে নয়, জনগণের বাইরে নয়। দল যদি জনগণের বাইরে চলে যায় তবে সে দল বেশিদিন টিকে থাকে না। আমি যদি জনগণের বাইরে চিন্তা করি তাহলে আমিও টিকতে পারবো না। অবশ্যই জনগণ, দল এবং দেশকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

তিনি বলেন, এর বাইরে যে চিন্তা করবে সে মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। আমি টিকে থাকতে চাই। আমি দলের, জনগণের, দেশের মঙ্গল চাই। এ এলাকাকে মডেলে রুপান্তর করতে চাই। আমার দ্বারা নেত্রীর যেন কোনো বদনাম না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবো। আমরা নিজেকে এমনভাবে তৈরি করবো যাতে দলের সুনাম বৃদ্ধি পায়। আগামী প্রজন্মকে সেভাবেই তৈরি করতে চাই। আমি হয়তো একসময় থাকবো না, তবে আওয়ামী লীগ সব সময় এ আসনে জয়ী হবে ইনশাল্লাহ।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম