logo

মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ | ৫ আষাঢ়, ১৪২৫

header-ad

'বাবা-মা'র পরেই আ.লীগকে ভালোবাসি'

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৭ মে ২০১৮

আবু আহমেদ মন্নাফী। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ১৯৬৬ সাল থেকে পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এই নেতা। দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে সূত্রাপুর, ওয়ারি এলাকায় আওয়ামী লীগের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

২৫ বছর বৃহত্তর সূত্রাপুরের আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রায় ১০ বছর সূত্রাপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং নীতিতে বিশ্বাস করে শেখ হাসিনার নির্দেশনায় কাজ করছেন এই নেতা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৬ আসনের উন্নয়ন এবং জনগণ, দেশ ও দলকে নিয়ে এ প্রতিবেদককে নিজের ভাবনার কথা জানান।

নিজের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আবু আহমেদ মন্নাফী বলেছেন, রাজনীতির শেষ ঠিকানা হচ্ছে নির্বাচন। প্রত্যেকটি নেতাকর্মীরই নির্বাচনের চাহিদা থাকে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, এলাকার মানুষের জন্য কাজ করা, পার্লামেন্টে গিয়ে কথা বলা, আইন প্রণয়ন করা- এগুলো একজন রাজনৈতিকের স্বপ্ন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আশাবাদী- যেহেতু আমি একজন বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী। দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। একইসঙ্গে রাজনীতিতে কখনো কোনো অন্যায় করিনি। সব সময় নিজেকে, পরিবারকে ক্লিন রাখার চেষ্টা করেছি।

নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে তিনি বলেন, আমার এলাকার অলিতে-গলিতে সবাই আমাকে চিনেন। আমাকে সম্মান করেন। দীর্ঘদিন জনগণের পাশে থেকে তাদের সময় দিয়েছি। ১১টি ওয়ার্ড, ৫টি থানার এমন কোনো রাস্তা নেই যেখানে আমার পদধূলি পড়েনি। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। সেদিক থেকে আমি আশা করি, আগামী নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা যদি আমাকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেন তবে বঙ্গবন্ধুর এই আসনটি আমি ফিরিয়ে আনবো। আর যদি নাও দেন তাতেও আমার কোনো আপত্তি থাকবে না। যাকে দেয়া হবে তার হয়েই কাজ করবো। তবে আমাকে দিলে, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমি জনগণকে যে সেবা দিয়েছি জনগণ আমাকে ঠকাবে না। আমাকে ঢাকা-৬ আসন থেকে জয়ী করবে।

নিজের যোগ্যতা প্রসঙ্গে আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, আমার যোগ্যতা আমি এলাকার জনগণকে ভালোবাসি। আমি ধর্ম-কর্ম সব কাজের সঙ্গে আছি। আমার ৫৪ বছরের পরিশ্রমে আমার বিশ্বাস জনগণ আমাকে খালি হাতে ফেরাবে না। ১৯৭০ সালের এ আসনে বঙ্গবন্ধু নির্বাচন করেছিলেন কিন্তু ১৯৭৫-এর পর এ আসনটি আওয়ামী লীগ আর পায়নি। তবে এখন আমাকে দিলে এ এলাকার উন্নয়নে দৃশ্যমান কিছু করবো।

'কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার একটা সুসম্পর্ক আছে। রাজনীতি করার মধ্য দিয়েই এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধু-কন্যা যখন আমাকে ভালো জানেন, আমি উনার সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে পারি। ৭৫-এর পরে এই এলাকাটা অবহেলিত। আমি দৃশ্যমান কিছু উন্নয়ন করবো। মানুষের চিকিৎসা, বাসস্থানের জন্য যা যা প্রয়োজন তাই করবো। আমি মনে করি- অনেকের থেকে আমি বেশি করতে পারবো।

তরুণ ভোটারদের নিয়ে তিনি বলেন, এ এলাকার তরুণ ভোটাররা আমাকে খুব ভালোবাসে। একজন সন্তান তার বাবাকে যতটা সম্মান করে এটা আর কাউকে করে না। আর বাবা সন্তানদের জন্য যা করবেন, পৃথিবীর আর কেউ তা করবে না। এ অঞ্চলের ২০ হাজারের বেশি ছেলে-মেয়ে আমাকে বাবা-চাচা ডাকে। দক্ষিণের মেয়র, আমাদের আওয়ামী লীগের ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সবাই আমাকে চাচা ডাকে। আমাকে মনোনয়ন দিলে সবাই আমার জন্য কাজ করবে।

দলের জন্য নিজের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, যখন আওয়ামী লীগের স্লোগান দেয়ার মত মানুষ ছিল না তখন থেকে আমি এই দলের সঙ্গে আছি। আমি মিছিল করেছি, স্লোগান দিয়েছি, আন্দোলন করেছি। আমি আমার বাবা-মা'র পরেই আওয়ামী লীগকে ভালোবাসি। আমি বঙ্গবন্ধুর স্পর্শ পেয়েছি।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম