logo

বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩০ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

'শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করবো'

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৯ মে ২০১৮

শেখ আতিয়ার রহমান দীপু। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। একইসঙ্গে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। সাসকো গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিও। জীবনের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করেছেন এই নেতা। বঙ্গবন্ধুকে বুকে ধারণ করে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথে চলছেন তিনি।

পারিবারিকভাবে ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী লীগের আদর্শ, নীতিকে অনুসরণ করেছেন। তার পরিবারের সব সদস্যই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

এই তরুণ নেতা নিজের গুণাবলী দিয়েই তৃণমূল এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন সুসম্পর্কের বন্ধন। বাংলাদেশকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখেন সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে গোপালগঞ্জ-১ আসনের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান তিনি।

নিজের রাজনৈতিক জীবন, গোপালগঞ্জ-১ আসন, জনগণ এবং দলের হয়ে নিজের স্বপ্ন নিয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে যুবলীগ নেতা শেখ আতিয়ার রহমান দীপু বলেন, নির্বাচন করার আকাঙ্ক্ষা সবারই থাকে। আমি দীর্ঘ ২০ বছর যাবত আমার এলাকার আপামর জনতার সাথে কাজ করছি। দলে থেকে এমপি না হয়েও যে কাজ করা যায়, এলাকার উন্নয়নে এ ধরনের কাজে আমি সব সময় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। এলাকার বিভিন্ন ব্রিজ, কালভার্ট, মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণে সব সময় অনুদান দিয়ে আসছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সাসকো ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অসহায়দের ত্রাণ দিয়ে আসছি। এসব দিক বিবেচনা করে প্রত্যেকটি মানুষ চায়- তার এলাকার স্থায়ী উন্নয়নে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদ। এ জন্যই নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা। আমি প্রতিবারই গোপালগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন চেয়েছি।

'দীর্ঘদিন থেকে প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল ফারুক খান নির্বাচন করছেন। তিনি সিনিয়র এবং সম্মানিত ব্যক্তি। তবে গোপালগঞ্জের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যোগ্য মনে করেন, আমাকে বিশেষভাবে বিবেচনা করেন, তাহলে আমি আশা করি এলাকার আপামর জনতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য যা যা করা দরকার তার সবই করার চেষ্টা করবো।'

আওয়ামী লীগের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের থেকে নিজেকে আলাদা করে তিনি বলেন, অনেকেই আছেন এটা সত্য। থাকতেই পারেন। আমি গোপালগঞ্জের যুব সমাজের সংগঠক। দেশের ৬৫ ভাগ এখন যুবক। তাদের সাথে যদি কাজ করা যায় দেশের উন্নয়ন বৃদ্ধি করা সম্ভব। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণদের অগ্রাধিকার দেবেন। সেই দিক বিবেচনা করে আমি নিজেকে যোগ্য মনে করি। তবে আমার পরিবর্তে গোপালগঞ্জ-১ আসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তার হয়েই কাজ করবো।

গোপালগঞ্জ-১ আসন নিয়ে নিজের স্বপ্ন তুলে ধরে শেখ আতিয়ার রহমান দীপু বলেন, এ এলাকায় আমার জন্ম। এখানেই আমি বড় হয়েছি। মোরশিদপুরের কাঁদা-মাটির সাথে আমি জড়িত। আমি জানি এ এলাকার সাধারণ মানুষ, কৃষকরা কি চায়, ছোট ব্যবসায়ীরা কি চায়, শিক্ষক-ছাত্র কি চায়? কি হলে তাদের ভালো লাগবে? আমি তা জানি। আমি কোনো আত্মকেন্দ্রিক রাজনীতির পক্ষে না। বর্তমান সংসদে কিছু কিছু এমপি, মন্ত্রী আছেন যারা এলাকা থেকে জনবিচ্ছিন্ন। এ ধরনের রাজনীতির পক্ষে আমি না। আমাকে যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দেন তাহলে আমার কাজ হবে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২৬৫ দিন। যেখানে আমার জন্ম, যে মাটিতে আমি বড় হয়েছি, যেখানের মানুষের সাথে আমি কাজ করে যাচ্ছি, যাদের সঙ্গে আমি পড়াশুনা করেছি তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো।

তরুণ এই নেতা বলেন, এলাকার যে কাজগুলো এখনো রয়ে গেছে সেগুলোর সমাধান করবো। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের নিবিড় এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ আসেনি। এ এলাকায় বিদ্যুৎ আনবো, রাস্তাঘাটের কাজ পরিপূর্ণ করবো, নদীগুলোকে খনন করবো। এখনো অনেক কাজ বাকি রয়ছে। হয়তো আমাদের যারা সিনিয়র আছেন তাদের চোখে এ কাজগুলো কম আসে। এলাকার জনগণের শতকরা ৮০ ভাগ যা ভোগ করবে সেই কাজগুলোই আমি করবো। আমি ব্যবসায়ী হিসেবে যতটা সফল; জনপ্রতিনিধি হলে আরো বেশি সফল হবো বলে বিশ্বাস করি।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি গত ২০ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি নিজেই তৃণমূলের একজন। সুতরাং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলেয়ে কাজ করার অভ্যাস রয়েছে। এ অভ্যাসের কারণেই আমি আশাবাদী তৃণমূলের শতভাগ লোক আমাকে চাইবে। আমার নেতৃত্ব গ্রহণ করবে।

মনোনয়ন পেলে নৌকার বিজয়ের নিশ্চয়তা নিয়ে শেখ আতিয়ার রহমান দীপু বলেন, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার আদর্শের একজন সৈনিক আমি। বঙ্গবন্ধুর রক্তের আদর্শে আমি আদর্শিত। আমি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমান সাংসদরা যত ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, মনোনয়ন পেলে আমি ইতিহাস ভেঙে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন, ২০৪১ সালের ভিশন বাস্তবায়নে আমি আমার শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও কাজ করবো। আমাকে যদি মনোনয়ন না-ও দেয়া হয়, তাতেও কষ্টের কিছু নেই। তবে আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী আমাকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে যেমন চিনেন, জানেন এবং নমিনেশন বোর্ডের প্রতিনিধিরাও আমার জন্য কাজ করবেন।

কাশিয়ানী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন, মুকসুদপুর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসন গঠিত।

এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মুকুল বোস, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য উম্মে রাজিয়া কাজল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের অর্থ সম্পাদক কে এম মাসুদুর রহমান ও ব্যারিস্টার আলী আসিফ খান।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম