logo

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

‘শেখ হাসিনার দর্শন মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে পেরেছি’

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ১৫ মে ২০১৮

মো. মাইনুল হোসেন খাঁন নিখিল। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি। জীবনের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করেছেন এই নেতা। বঙ্গবন্ধুকে বুকে ধারণ করে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথে চলছেন তিনি।

পারিবারিকভাবে ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী লীগের আদর্শ, নীতিকে অনুসরণ করেছেন। বাবার কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা শুনেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা শুনে তার স্বপ্নকে বুকে লালন করে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছেন তিনি। তার পরিবারের সব সদস্যই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী লীগের কাযক্রমে সব সময় নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন ছাত্র অবস্থায়। এরপর ঢাকার তৎকালীন ৯নং ওয়ার্ডের যুগ্ম আহবায়ক, ঢাকা মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, পরবর্তীতে মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এবং এখন সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এই নেতা।

এই তরুণ নেতা নিজের গুণাবলী দিয়েই তৃণমূল এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন সুসম্পর্কের বন্ধন। বাংলাদেশকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখেন সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে ঢাকা-১৫ আসনের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান তিনি।

নিজের রাজনৈতিক জীবন, ঢাকা-১৫ আসন, জনগণ এবং দলের হয়ে নিজের স্বপ্ন নিয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।

ঢাকা-১৫ আসনের মনোনয়ন নিয়ে মো. মাইনুল হোসেন খাঁন নিখিল বলেন, মানুষের সঙ্গে যখন মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ে, যোগাযোগ বৃদ্ধি পায় তখন অনেক মানুষের চাহিদা থাকে জনপ্রতিনিধিত্ব করার। আমি দীর্ঘদিন থেকে এ এলাকায় বসবাস করছি। বিরোধী দলে এবং ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সব সময় মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া। তার আদর্শ ধারণ করে মানুষ সুখে থাকবে, শান্তিতে থাকবে, পেট ভরে ভাত খাবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করছেন। সেক্ষেত্রে আমি একজন কর্মী হিসেবে সব সময় উনার আদর্শকে বুকে ধারণ করি।

তিনি বলেন, সততাই একজন মানুষের বড় শক্তি। নিজে সৎ হলে তার শক্তি থাকে পাহাড়-সমান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তার কর্মী হিসেবে আমারও দায়িত্ব দেশ এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা। সেই দিক থেকেই এ এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক। মানুষের চাহিদা পূরণে চেষ্টা করি, তাদের পাশে থাকি সব সময়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ এলাকার মানুষের মনের ইচ্ছা, আমি এলাকা থেকে নির্বাচন করি। বাকিটা আল্লাহ পাকের ইচ্ছা।

তিনি বলেন, এলাকার জনগণের চাওয়ার কারণ, আমি জনপ্রতিনিধি না হয়েও শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দর্শন মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে পেরেছি।

নেতাকর্মীদের জনগণ মুখী করার বিষয়ে নিখিল বলেন, নেতাকর্মীকে জনগণ মুখী করতে হবে। আমাদের যুবলীগ পরিবারের নেতাকর্মীরা বা আওয়ামী পরিবারের নেতাকর্মীরা প্রত্যেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুঝতে শিখেছে। বুকে ধারণ করেছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী এখন অনেকটা সজাগ এবং সচেতন। মানুষের সহযোগিতায় সব সময় এগিয়ে এসেছে। কাজ করছে মানুষের সেবায়। আমরা শুধু নির্বাচনী আসনেই নয় সারাদেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

ঢাকা-১৫ আসনে নিজের অবস্থান এবং মনোনয়ন প্রত্যাশ নিয়ে যুবলীগের এই নেতা বলেন, আওয়ামী পরিবারে সবাই এখন সচেতন। আমরা সবাই জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই। বর্তমানে যিনি এ আসনের দায়িত্বে আছেন তিনিও জনগণরে জন্য কাজ করতে চান। যারা সম্ভাব্য প্রার্থী তারাও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চান। এর মাঝে থেকে কিন্তু অনেক ব্যতিক্রম থাকতে পারে, থাকাটাই স্বাভাবিক। এ এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানার সঙ্গে আমার সম্পর্ক। অসহায় মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। আমি আমার কথা বলি না। এ এলাকার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। আমি আরো বড় পরিসরে এসে মানুষের সেবায় কাজ করতে চাই।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে সরকারি জরিপের বিষয়ে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে যেমন সৎ নেতৃত্বদানকারী, তিনি চানও সৎ নেতৃত্ব। একজন সৎ মানুষের হাতে দেশ থাকলে সে দেশ অবশ্যই আলোর মুখ দেখবে। প্রধানমন্ত্রীর সততার জন্য দেশ আজ উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আর আমি প্রধানমন্ত্রীর সততার আদর্শ ধারণ করে কাজ করছি। সেদিক থেকে জরিপে আমার ফলাফল আশানরূপ হবে ইনশাল্লাহ।

নেতাকর্মীদের একতা নিয়ে তিনি বলেন, এ আসনে যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী বা বর্তমান যে এমপি, আমি কারো বিরুদ্ধে নয়। এই নির্বাচনী আসনে প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন আমরা তার জন্যই কাজ করেছি। বিবেদের কোনো ইতিহাস নেই। আমাদের পুরো পরিবারই হচ্ছে আওয়ামী পরিবার। আমাদের আদর্শ বঙ্গবন্ধুর। নৌকার বাইরে আমাদের ভোট দেয়া সম্ভব নয়। বর্তমান এমপির মিছিল-মিটিংয়ে আমি সব সময় উপস্থিত থাকি। আমার সাথে কারো বিরোধ নেই। আমার পরিবর্তে অন্য কেউ মনোনয়ন পাইলেও আমার আপত্তি নেই। আমার কাজই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করা। নৌকা প্রতীকের জয়ে আমার যা করণীয় আমি তাই করবো।

ঢাকা-১৫ আসনের উন্নয়ন নিয়ে নিখিল বলেন, দেশের প্রতিটি স্থানের উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাথায় আছে। সুন্দর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব সময় কাজ করে যাব। মাদক থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় কাজ করবো।

দেশ, জনগণ এবং দল নিয়ে নিজের ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ এলাকার জনগণের দোয়ায় আল্লাহপাকের ইচ্ছায় নেত্রী যদি আমাকে নৌকা প্রতীক দেন তবে আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি- এলাকার মানুষ নৌকায় ভোট দেবে। নৌকার জয় নিশ্চিত। এ এলাকার মানুষ সরকারের উন্নয়নে সচেতন। তারা সবাই আমাদের ডাকে সারা দেন। আমাদের হয়ে কাজ করেন। আমি সরকারের একটা পার্ট, রাজনীতির একটা অংশ এবং এলাকার জনগণ হিসেবে মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে সর্বদা কাজ করবো।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম