logo

সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

মহানগর আ.লীগে চলছে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা!

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৫ জুন ২০১৮

দলীয় কার্যক্রম, নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত, সাংগঠনি শক্তি বৃদ্ধি, জাতীয় নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগে চলছে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।

নেতাকর্মীদের একত্রিত করে দল গোছাতে এমন প্রতিযোগিতায় নেমেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতারা।

দলীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনকল্পে টিম ওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দুই নগর আওয়ামী লীগ। এতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন ফিরছে শৃঙ্খলা, তেমনি সাংগঠনিক কার্যক্রমেও বাড়ছে গতি।

আগের কমিটির চেয়ে বর্তমান কমিটি সাংগঠনিকভাবে দ্বিগুণ শক্তিশালী বলে দাবি করেছেন মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। নেতারা বলছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সবস্তর নেতাকর্মীদের সংগঠনমুখী করতে আমরা একটি টিম ওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছি। যে টিমটি দক্ষ ও সুন্দরভাবে সংগঠনকে পরিচালনা করছে।

মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেলেও বাস্তবে রয়েছে ভিন্ন কথা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই দুই নগর আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সুদৃঢ় বন্ধন ও ঐক্যবদ্ধতা থাকলেও, রয়েছে সাংগঠনিক দ্বন্দ্বের প্রখড়তা। এমনকি দলের এক নেতার সঙ্গে অন্য নেতার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রকাশ্য ঘটনা।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কিছু ভুলের কারণে দু-একটি অনাকাঙ্ক্ষি ঘটনা ছাড়া নগরের দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আগের চেয়ে তুলনামুলক অনেক বেশি এমন কথা বলতে ভুল করনেনি মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এবং দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।

এ দুই তরুণ নেতার দাবি, মহানগর আওয়ামী লীগের প্রাক্তন কমিটি সাংগঠনিক কার্যক্রমে যতটুকু করতে না পেরেছে; বর্তমান কমিটি তার চেয় দ্বিগুণ করে দেখিয়ে দিচ্ছে। জনপ্রিয় এই দুই নেতা বলেন, আমরা দায়িত্ব পাওয়ার আগের কমিটি দলের নেতাকর্মীদের যে অবস্থানে রেখে গেছেন, সেখান থেকে তাদের উত্তরণ করতে সক্ষম হয়েছেন। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যকার সব বিভেদ দূর করে তাদের মধ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে সখ্যতা, দৃঢ়তা এবং শৃঙ্খলা। টিমওয়ার্কিং কাজের মধ্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ভালোবাসার সেতুবন্ধন।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগে সাংগঠনিক থানা রয়েছে ৫০টি, ওয়ার্ড ১৪২টি এবং ইউনিয়ন ১৭টি। উত্তরের দফতর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাদের সাংগঠনিক থানা ২৬, ওয়ার্ড ৪৫ ও ইউনিয়ন ৯টি। দক্ষিণের থানা ২৪, ওয়ার্ড ৫৭ এবং ইউনিয়ন ৮টি বলে দফতর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নিশ্চিত করে বলা যাবে না; সাংগঠনিক গতি কতটুকু দুই নগর আওয়ামী লীগে। তবে আগের চেয়ে বেড়েছে। তাছাড়া দুই নগরের সভাপতিদের চেয়ে সাধারণ সম্পাদকদের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তরুণ এবং আস্থাশীল নেতা বলেই তৃণমূলে অধিক জনপ্রিয় দুই নগর সম্পাদক।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আ.লীগের কার্যকরী সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দু-একটা স্বাভাবিক ঘটনা থাকবেই। যেহেতু আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। আমরা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যকার সব কোন্দল নিরসন করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই একটি শক্তিশালী মহানগর গড়ে তুলছি।

'বর্তমান ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে এতটাই শক্তি যে, আমরা দলের বিভিন্ন সভা-সেমিনারে গিয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখে বুঝতে পারি। আমাদের নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তিনি আমাদের অভিভাবক। তারই নির্দেশে আমরা নগরের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ভাইয়ের নেতৃত্বে আস্থাশীল এবং সংগঠনমুখী।

উত্তর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ সাইফুল ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা এখন সংগঠমুখী। দলের প্রতিটি সভা-সেমিনারে তাদের উপস্থিতি তুলনামুলক। আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই নেতাকর্মীদের আস্থা ফিরেছে দলের প্রতি। ফিরে এসেছে শৃঙ্খলাবোধ। নেতৃত্বের ব্যাপক প্রতিযোগিতা থাকার কারণেই এখন আরও শক্তিশালী উত্তর আওয়ামী লীগ। এক প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর এখন দক্ষিণ আওয়ামী লীগের চেয়ে সাংগঠনিকভাবে অনেকগুণে শক্তিশালী।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ডেমরা থানার সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমরা দলীয় নেতাকর্মীরা এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে পাচ্ছি। শাহে আলম মুরাদ ভাইয়ের মত একজন দক্ষ ও চৌকস নেতৃত্ব হাজারো একটা পাওয়া কঠিন। তারই নেতৃত্বে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে শৃঙ্খলাবোধ ফিরছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্য।

তিনি বলেন, আমরা থানা আওয়ামী লীগ এখন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি। সাংগঠনিক কার্যক্রমে চালিয়ে যেতে সহায়তাও পাচ্ছি, যা আগের কমিটি থেকে কখনো পেতাম না।

সর্বশেষ ২০০৩ সালের ১৮ জুন সম্মেলনের মাধ্যমে মেয়র মোহাম্মদ হানিফকে সভাপতি ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রমকে সাধারণ সম্পাদক করে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর হানিফের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এমএ আজিজ। তবে সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে পারেনি। ২০০৮ সালে দল ক্ষমতায় আসার পর পরই সংগঠনকে গতিশীল করতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

এ জন্য ড. আবদুর রাজ্জাক ও লে. কর্নেল (অব) ফারুক খানকে দায়িত্ব দেয়া হয় কমিটি সমন্বয় করতে। কিন্তু হঠাৎ করেই এম এ আজিজের মৃত্যুর কারণে দক্ষিণের সভাপতি খুঁজতে কিছুটা পিছিয়ে যায় কমিটি ঘোষণা। উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নাম ঘোষণার ৫ মাস পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমরা কি করছি সবকিছুই দেখছেন দলের নেতাকর্মীরা। গর্ব করে বলার কিছুই নেই, তবে এতটুকু আমরা বলতে পারি যে, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের অবস্থা আগে কেমন ছিল, এখন কেমন আছে। আগের কমিটি থাকতে দলীয় অফিস কি এত সুন্দর ছিল?।

তিনি বলেন, আমরা একটা টিম করে দিয়েছি মহানগর আওয়ামী লীগে। যে টিম সাংগঠনিকভাবে শতভাগ শক্তিশালী। যার ফলে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগে সুশৃঙ্খল ফিরে এসেছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনমুখী করতেই নেতাকর্মীদের ইউনিট ও দলমুখী করতে নানা পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মুরাদ বলেন, আমি সবার মন জয় করতে পারবো না। কিছু কিছু লোক আমার সমালোচনা করবে এটাই স্বাভাবিক। থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে ঘোষণা হবে এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, কমিটি করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে জমা দেয়া হয়েছে। তবে কমিটির চূড়ান্ত খসড়ার তালিকা আরো একবার যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঢুকেছে কিনা; এ জন্য সময় নিয়েছি। কমিটি কবে নাগাদ ঘোষণা করা হবে আমি বলতে পারছি না। তবে শিগগিরই ঘোষণা হবে বলে জানান তিনি।

আগের কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে শাহে আলম মুরাদ বলেন, মেয়র হানিফ ও মায়া ভাই দীর্ঘদিন মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বে থাকার পরও থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি দিয়ে যেতে পারেননি। আমরা দিয়ে যেতে পারবো, পেরেছি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা এমন দায়িত্বে ছিলেন যে- ১২ বছরেও কমিটি দিতে পারেননি। মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের একটি অংশের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, সভাপতির শারীরিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ যারা করছেন তারা দলের ভালো চান না। এটা একটা অবান্তর কথা।

শাহে আলম মুরাদ বলেন, আমি দলের সভাপতির সঙ্গে পরামর্শ করেই সাংগঠনিক সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। অভিযোগকারী ব্যক্তি অদৃশ্য শক্তি, যাদের কাজই মিথ্যাচার করা। তাই তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।

উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমরা এখন ঐক্যবদ্ধ মহানগর কমিটি। দলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কয়েকটি টিম কাজ করছে নগর আওয়ামী লীগে। সাংগঠনিক কার্যক্রমে রয়েছে সমন্বয়তা। যার ফলে এখন মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী।

তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো প্রকার রেষারেষি নেই। আমরা নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আত্মার-আত্মা।

এক প্রশ্নের জবাবে সাদেক খান বলেন, আমরা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যকার সাংগঠনিক সব সংকট সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে নোট করে সেগুলো অবশ্যই সমাধান করছি। নেতাকর্মীদের অভিযোগ উঠলে পরক্ষণে নিষ্পত্তিকল্পে কাজ করছি। যেগুলো আগের কমিটি কখনোই করতে পারেনি। এমনকি উদ্যোগও নিতে পারেনি।

তিনি বলেন, আমরা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে এখন এতটাই শক্তিশালী যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা উত্তরের সংসদীয় প্রতিটি আসনে দলের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হবে। তাছাড়া উত্তরের দলীয় সব স্তরের নেতাকর্মীদের একাদশমুখী করতে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে নগর আওয়ামী লীগ থেকে। আমরা পবিত্র রমজান, সংযমের মাসে যতটুকু পাচ্ছি নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ঈদুল ফিতরের পরই পুরোদমে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজে নেমে পড়বো।

আটকে থাকা থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে তরুণ সংগ্রামী এ নেতা বলেন, থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পূর্ণাঙ্গ কমিটি আটকে দেয়া হয়নি। কমিটিতে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্তরা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছু অভিযোগ ছিল। আমরা সময় নিয়ে তা যাচাই-বাছাই করেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তাদের শনাক্ত করে বাদ দেয়া হয়েছে। বাদ পড়া পরীক্ষিত, ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, মহানগর উত্তর আওয়াম লীগে নেতৃত্বের ব্যাপক প্রতিযোগিতা রয়েছে। আমরা সমন্বয় করেই কমিটি ঘোষণা করেছি।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম